× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার

জনবল সংকটে চারঘাট উপ-স্বাস্থ্যকন্দ্রে, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা

এক্সক্লুসিভ

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি | ১৬ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৭:৪৫

 জনবল সংকট ও তদারকির অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার একমাত্র  উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। নামে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেবার কোনো বালাই নেই। মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তার থাকলেও কখনোই তাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেখা যায় না। বিভিন্ন পদে জনবল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ গ্রামীণ শিশু, নারী ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জানা যায়, চারঘাট উপজেলার একমাত্র উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র চারঘাট পৌরসভার সরদহতে অবস্থিত। এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিক্যাল অফিসার, মিডওয়াইফ, উপ-সহকারী মেডিক্যাল কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট, অফিস সহায়কসহ ৬টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন।
তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্ম সম্পাদনা করেন। একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও তিনি ১৫ বছর ধরে রামেকে প্রেষণে রয়েছেন। এছাড়া অনেকগুলো পদ খালি রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলার একমাত্র উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র তালাবদ্ধ। উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে নিয়ে যেতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জনবল না থাকায় এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। পুরাতন ভবনে দিনের বেলা চলছে মাদক সেবন। উপজেলার আস্করপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সখিনা বেগম বলেন, আমার নাতনির পেট ব্যথা, জ্বর এসেছিলাম ওষুধ নেয়ার জন্য। এখানে ওষুধও নেই, ডাক্তারও নেই তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। গৌড় শহরপুর এলাকার বজলুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। শুধুমাত্র একজন উপ-সহকারী মেডিক্যাল কর্মকর্তা রয়েছেন, যিনি মাঝে-মধ্যে আসেন এবং ঘণ্টা দু’য়েক পরে আবার চলে যান। তাই জরুরি প্রয়োজনে গুরুতর রোগীরা বাড়ির কাছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাক্তার নেই, ওষুধও নেই, অন্যান্য পদে লোকও নেই। সঠিকভাবে দেখভাল না করায় কেন্দ্রটি ঝোপঝাড় ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাইমুনা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে হলে তিনি বলেন, আমি ছাড়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আর কেউ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একজন ফার্মাসিস্ট দিলেও সে গত ১৫ দিন ধরে আসে না। সব সময়ই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা চলে। মাদকসেবীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।
তিনি বলেন, আমি একজন নারী হয়ে সব সময়ই এখানে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগি। প্রায় দিন সকালে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলে মাদকসেবীদের সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমি তালা লাগিয়ে বাড়িতে এসেছি।
উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. শংকর  বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্যসম্পাদন করে আসছি। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুর রহমান বলেন, যথা সময়ের আগেই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা লাগিয়ে বাড়ি যাওয়ার কারণে উপ-সহকারী মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাইমুনা খাতুনকে তাৎক্ষণিক অফিসিয়ালভাবে শোকজ করা হয়েছে। আর অফিস সময়ের পরে মাদকসেবীদের আড্ডা হয়, এটা সঠিক। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর