× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার
আইনজীবী তালিকাভুক্তি

এখনই পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন

দেশ বিদেশ

| ২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৮:৫৭

প্রাচীন ভারতে বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি রাজার নিকট অভিযোগ দায়ের করতো। বিচারক ও বিচারপ্রার্থীর মধ্যে তৃতীয় কেউ থাকতো না। রাজারা তাদের পরামর্শকদের অভিমতের ভিত্তিতে বিচারকার্য পরিচালনা করতো। বিচারকার্য পরিচালনায় বুদ্ধিবৃত্তিক মতামত প্রধান্য পেত। মুসলিম শাসনামলে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে ওয়াকিল নিয়োগের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। কাজী বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। মুফতি ও হিন্দু পণ্ডিতরা বিচারপ্রার্থীর পক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর ভূমিকা পালন করতেন। কাজী ও মুফতি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হতেন।
বৃটিশ ভারতে মেয়র’স কোর্ট (১৭২৬) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আইন পেশার সূচনা হয়। তখন উকিল হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিধান (qualifications) ছিল না। ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হলে আইন পেশার সুনির্ধারিত কাঠামো ও বিধিনিষেধ আরোপিত হয়। ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত কর্ণওয়ালিশ কোড অনুযায়ী পেশাদার উকিলের মাধ্যমে মামলা পরিচালনার নিয়ম চালু হয়। সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য সরকারি উকিল নিয়োগ দিতো। ব্যক্তিগত মামলা পরিচালনার জন্য সরকার উকিলদের সনদ প্রদান করতো। ১৭৯৩ সালের প্রবিধান-৭ এর অধীনে সদর দেওয়ানী আদালতের ওপর অধীনস্ত আদালত সমূহে আইন চর্চার জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের উকিল হিসেবে সনদ দেয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

১৮১৪ সালের প্রবিধান ২৭-এর আওতায় জেলা আদালত সমূহকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আইন চর্চার জন্য উকিলদের সনদ প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়। তখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বৃটিশ ব্যারিস্টার, আইনজীবী ও এটর্নিরাই সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চার সুযোগ লাভ করতেন। ১৮৪৬ সালে লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারর্স এক্টের মাধ্যমে এই বৈষম্যমূলক বিধানের বিলুপ্তি ঘটে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়। আইনজীবী তালিকাভুক্তির যোগ্যতা ও কার্যাবলীকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ১৮৫০ সালে ওকালতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ দেয়ার নিয়ম চালু হয়। লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারর্স এক্ট, ১৮৭৬ অনুযায়ী উকিল, মোক্তার ও রাজস্ব আদায়কারী এজেন্টদের সনদ প্রদানের ক্ষমতা হাইকোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। উকিলরা অধস্তন সকল ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রাজস্ব দপ্তরে; মোক্তাররা ফৌজদারি এবং রাজস্ব এজেন্টরা রাজস্ব দপ্তরে আইন ব্যবসার সুযোগ লাভ করতেন। নারীরা তখনো এই পেশায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। ১৯২৩ সালে লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার (ওইমেন) এক্টের মাধ্যমে নারীদের আইনপেশায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। উকিল, মোক্তার ও রাজস্ব এজেন্টের মধ্যকার পার্থক্যের বিলুপ্তি ঘটে ১৯৬৫ সালের লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল এক্টের মাধ্যমে। এই আইনের অধীনে দুই-শ্রেণির অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির বিধান প্রবর্তন করা হয়। এক শ্রেণি হাইকোর্ট এবং অন্য শ্রেণি অধস্তন আদালত। অধস্তন আদালতের অ্যাডভোকেটরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হাইকোর্টে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর বিধান অনুসারে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গঠিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইনজীবীদের লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে আসছে। কাউন্সিল পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি রয়েছে। কমিটির মেয়াদ ৩ বছর। এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে কমিটির চেয়ারম্যন হিসেবে মনোনীত হন। বাকি ১৪টি পদের ৭টিতে সদস্যরা আইনজীবীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। অন্য ৭টি পদে স্থানীয় আইনজীবীদের থেকে নির্বাচিত হন। কাজের গতিশীলার জন্য বার কাউন্সিলের রয়েছে ৫টি স্থায়ী কমিটি। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের জন্য বার কাউন্সিল কয়েকটি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করেছে। বার কাউন্সিলর কতৃক ২০১৮ সালের প্রাকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী আইনজীবীর সংখ্যা ৪৩৮৮৪ এবং একই বছরে আরও ৭৭৩২ জন তালিকাভুক্ত হন। সংখ্যার বিচারে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজারের অধিক হলেও ঠিক কতজন আইনজীবী সরাসরি আইন চর্চায় (প্র্যাকটিস) সম্পৃক্ত তা নিরূপণ করা দুরূহ।
লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পূর্বে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। ওই ব্যক্তিকে (১) বাংলাদেশের নাগরিক হবে (২) ২১ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে (৩) (ক) বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে, অথবা (খ) বার কাউন্সিল স্বীকৃত বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি থাকতে হবে, অথবা (গ) ব্যারিস্টার এট ল ডিগ্রি থাকতে হবে। (৪) বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। (৫) এনরোলমেন্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২-এর বিধান ৬০ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পূর্বে অবশ্যই ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এডভোকেটের চেম্বারে ৬ মাস শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করেতে হবে। একজন শিক্ষনবিশকে আইনজীবী হওয়ার জন্য তিন ধাপের (এম.সি.কিউ, লিখিত ও মৌখিক) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ২০১২ সালে আইন সংশোধন হওয়ার পূর্বে শুধুমাত্র লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ প্রদান করা হতো। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় এমসিকিউ পরীক্ষা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬১ সালের অ্যাডভোকেটস এক্টের মাধ্যমে ভারতে ‘ইন্ডিয়ান বার কাউন্সিলের’ যাত্রা শুরু হয়। ভারতের আইনজীবী তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের দেশের প্রক্রিয়ায় অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। তবে রাজ্যভেদে নিয়মের কিছুটা তারতম্য আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর ও মানসম্পন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে সনদ প্রদানের পূর্বে আইনজীবীদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর ব্যাতিক্রমী বিধান চালু রয়েছে।
দেশে দেশে আইনজীবীদের বিভিন্ন পোশাক নির্দিষ্ট রয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে আইনজীবীদের প্রচলিত পোশাক বৃটিশদের দেখানো রেওয়াজ মতোই চলছে। বৃটিশরা রোমানদের থেকে প্রভাবিত হয়ে এটি গ্রহণ করেছে। কালো কোট, কালো গাউন, সাদা ব্যান্ড পরিধানের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যের ব্যাপারে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে সব থেকে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যাটি হচ্ছে কালো কোট ও কালো গাউন আইনি অন্ধত্বের প্রতীক। অর্থাৎ আইনের চোখে সাদা কালো কোনো ভেদাভেদ নেই। বিজ্ঞ বিচারক তার বিচারকার্যে আইন ও সুবিচেনার প্রেক্ষিতে কোনো পক্ষের দিকে না তাকিয়ে রায় দিবেন। পোশাকের কালো রং আইনজীবীদের পরিচয় গোপন রাখার ইঙ্গিত করে। গলায় পরিহিত সাদা ব্যান্ড দিয়ে অন্ধকার থেকে শুভ্র সত্যকে বের করে আনা বোঝায়। গাউনের লম্বা হাতা দিয়ে আইনের ব্যাপ্তিকে বুঝানো হয়।

বার কাউন্সিল আইনজীবীদের সনদ প্রদানের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করে এলেও গত কয়েক বছরে (২০১২ সালের পর) আইনজীবী তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় তীব্র জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতার ফলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজারের অধিক শিক্ষানবিশকে। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই সংখ্যা। প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রিতার সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশনা প্রদান করলেও বার কাউন্সিল তা বাস্তবায়নে কোনো তৎপরতা দেখায়নি । বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বনাম একেএম ফজলুল করিম (১৪ এডিসি ২৭১) মমলায় সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলকে প্রতি বছর (ক্যালেন্ডার ইয়ার) অধস্তন আদালতের অ্যাডভোকেট অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করে। এই নির্দেশনা প্রদানের পর গত ৪ বছরে (২০১৭-২০২০) বার কাউন্সিল মাত্র ১ টি তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর ফলে এই পেশায় অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী শিক্ষানবিশদের অপেক্ষা ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে। ১ বছরেও অন্তর্ভুক্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় শিক্ষানবিশরা আন্দোলন শুরু করে (ঘেরাও, অনশন, বিক্ষোভ)। আন্দোলনের ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও প্রক্রিয়ার বাকি ধাপ কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে তা অনিশ্চিত। ফলে এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৩ হাজার (২০১৭ সালের চার হাজার ও ২০২০ সালের ৮ হাজারের অধিক) শিক্ষানবিশ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা দেশের তরুণ ও মেধাবী আইন শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের আইন পেশা বিমুখ করে তুলছে।

সম্প্রতি ৩০শে জুন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে তারা এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাদের অ্যাডভোকেট সনদ প্রদানের দাবি জানায়। একই দাবিতে তারা সুপ্রিম কোর্ট বারের মূল ফটকে অবস্থান ধর্মঘট ও প্রেস ক্লাবসহ সারা দেশে মানববন্ধন করে। এর ফলে একদিকে দাবির যৌক্তিকতা অন্যদিকে বার কাউন্সিলের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজ্ঞ আইনজীবীরা। তাদের আশঙ্কা, মানহীন অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া এই পেশার ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। অপরদিকে প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতা ?শিক্ষানবিশদের মনে পেশাগত জীবনের শুরুতেই এক ধরনের নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করছে।

ঠিক কী কারণে এই ধরনের জটে থমকে আছে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া কাউন্সিলের কর্তাব্যক্তিদের নিকট তার কোনো সদুত্তর নেই। এই জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ কাউন্সিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকে। বিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে, সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের অভার, কাজে স্থবিরতা ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি এই সমস্যার মূল কারণ।
ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে আইনজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য। এস্পি গুপ্তা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (১৯৮১ সাপ্লিমেন্ট, এস.সি.সি ৮৭) মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের রাষ্ট্রব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ ও টেম্পল অব জাস্টিস বলে মন্তব্য করেন। এসরারুল হক বনাম মো. আমির হোসেন (৬৬ ডি.এল.আর, এ.ডি ১) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের ‘অফিসার্স অব দ্যা কোর্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দায়িত্বের বিশালতার কথা উদ্ধৃত করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের বাইরেও আইনজীবীদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিখ্যাত মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম দীর্ঘ ২২ বছর সম্পূর্ণ ফি-বিহীন (pro-bono) পরিচালনা করেন। সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী (প্যারা-৫৩২, ৪১ ডি.এল.আর, এ.ডি, ১৬৫) মামলায় আইনজীবীদের উপস্থাপিত যুক্তিতর্কে মুগ্ধ হয়ে বিচারপতি এটিএম আফজাল আইনজীবীদের ‘বিজ্ঞ’ (learned) হিসেবে অভিহিত করার সার্থকতা বর্ণনা করেন। বিখ্যাত ত্রয়োদশ সংশোধনী (প্যারা-১১৪৯, ৬৪ ডি.এল.আর, এ.ডি ১৬৯) মামলায় জুনিয়র আইনজীবীদের অসামান্য পরিশ্রম ও গবেষণায় সন্তুষ্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাদের ২০ হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করেন। বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী (৭১ ডি.এল.আর, এডি ৫২) মামলার দায়ের থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত আইনজীবীেেদর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এসব দৃষ্টান্ত আইনজীবীদের দৃঢ়তা, একাগ্রতা ও বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধতার পরিচয় বহন করে।

আইনের শাসন (Rule of La) পি্রতিষ্ঠায় আইনজীবী তালিকাভূক্তি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, মানসম্পন্ন ও যথাসময়ে সম্পন্ন করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় উদ্ভূত জটিলতা আইনের শাসনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জটিলতা নিরসনে বার কাউন্সিলকে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি বছরে (ক্যালেন্ডার ইয়ার) অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে। সচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে যথাসময়ে তারা তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাচ্ছে। পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার অংশ হিসেবে বার কাউন্সিলকে মানসম্পন্ন প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। অপরদিকে শিক্ষানবিশদের তাদের অযৌক্তিক দাবি (এমসিকিউ ফলাফলের ভিত্তিতে তালিকাভুক্তি) থেকে সরে আসতে হবে। দ্রুততম সময়ে মানসম্মত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা সম্পন্ন করার যৌক্তিক দাবিতে আইন অঙ্গনের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

[মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সঙ্গে
যায়েদ বিন আমজাদ, শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আমিমুল করিম
২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৭:০৬

অত্যন্ত চমৎকার তথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা। এখন কর্তৃপক্ষের বিবেকে নাড়া দেয় কিনা সেটা হল দেখার বিষয়। তাঁদের ত আর অন্য কোন পরিবার বা পরিবারের সদস্যের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে না। যদি এই সমস্যা তাঁদের ছেলে মেয়েদের হত তখন তারা বুঝতেন। আল্লাহ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুক, হেদায়ত দান করুক।

Kawsar khan
২৬ জুলাই ২০২০, রবিবার, ২:৩১

অত্যন্ত যুগোপযোগী লেখা । নুতন করে জানলাম।

Md.Motahir uddin Ahm
২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ১২:৫৪

Thank you brother , wish you continuing your constructive writing.

asimul islam
২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৮:১৭

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সময়োপযোগী লেখা,এখন কর্তৃপক্ষের বিবেকে নাড়া দেয় কিনা সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

Romjan Ali Hiro
২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ৬:২৯

অসাধারণ লেখা,ধন্যবাদ।

MD. MASUDUL ALAM
২৫ জুলাই ২০২০, শনিবার, ১২:২১

অত্যন্ত চমৎকার ততথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা, এখন শুধু দেখার পালা কতৃপক্ষের টনক নড়ে কিনা।

Md.Md mozahidulislam
২৪ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ৮:৫৩

সময়োপযোগী লেখা লেখার জন্য লেখকদ্বয় কে ধন্যবাদ।আশা করি বার কাউন্সিল দ্রূত প্রদক্ষেপ নিবেন।

মোঃ আবু তাহের
২৪ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ৮:০১

খুব সুন্দর এবং যুক্তিযুক্ত লেখার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ।

এডভোকেট মহসিন কবির ম
২৪ জুলাই ২০২০, শুক্রবার, ৫:৩৮

অত্যন্ত চমৎকার ততথ্যবহুল বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা ও মতাম।

অন্যান্য খবর