× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

‘নগর চত্বর’ না ‘কামরান চত্বর’

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২৮ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:১৭

সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুর পরই কথা উঠেছিল তার নামে নগর ভবনের সামনের চত্বর নামকরণ করার। এতে সায় দিয়েছিলেন  মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও। তিনি নিজেও চেয়েছিলেন কামরানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে কিছু একটা করার। এ কারণে সবার চোখ ছিল নগর ভবনের সামনের ট্রাফিক পয়েন্টের দিকে। কারণ কয়েক মাস ধরে নগর ভবনের পক্ষ থেকে সেখানে একটি ফলক নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কাজ শেষ হওয়ায় রোববার সন্ধ্যায় সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ওই চত্বরের উদ্বোধন করেন। এটির নাম রাখা হয় পুরাতন নাম ‘নগর চত্বর’ হিসেবেই। এই নামকরণে ক্ষেপেছে সিলেট আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
তারা গতকাল দুপুরে মিছিল নিয়ে ওই চত্বরে গিয়ে মেয়রের দেয়া ফলক ‘নগর চত্বর’ উঠিয়ে ‘কামরান চত্বর’ নামকরণের ফলক টাঙিয়ে দিয়েছে। এর পর তারা ওখানে সমাবেশও করে। এ বিষয়টি নিয়ে গতকাল থেকে সিলেটের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, নামকরণ করতে কিছু প্রক্রিয়া লাগে। সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আগে তারা জোরপূর্বক নতুন ফলক লাগিয়ে দিয়েছে। সিটি করপোরেশন বৈঠক করে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ সিলেট সিটি করপোরেশনের দীর্ঘদিনের মেয়র ও পৌর মেয়র ছিলেন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ৩৩ বছর তিনি পৌর ও নগর ভবনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। নগর ভবনের সঙ্গে সাবেক মেয়র কামরানের আত্মীক সম্পর্ক ছিল। গত ১৫ই জুন করোনাভাইরাসে মারা গেলেন সাবেক মেয়র কামরান। তখন নগর ভবনকেন্দ্রিক কামরানের স্মৃতিকে ধরে রাখার দাবি ছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এই সব দাবির প্রেক্ষিতে নগর চত্বর কামরানের নামে নামকরণ করারও দাবি ছিল। দাবি উত্থাপন হলেও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়নি। এই অবস্থায় নগর চত্বরের ফলক নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যায়। রোববার সন্ধ্যায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই নগর চত্বর ফলকের উদ্বোধন করেন। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্যকে লালন করেই নগরীকে সাজানো হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে  সৌন্দর্য্য বর্ধন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মিত অবকাঠামোগুলোতে নগরীর ট্রাফিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সিসিকের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর সিলেট রিজিয়নাল হেড আমিনুল হক, ডিজাইন আর্টিস্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহার উদ্দিন কাওসার, সিইও মো. ইসহাক রাজি শাহনেওয়াজ, সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান মাশরুর, আরফেনি ইসলাম আকাশ ও সমাজকর্মী জুরজে আব্দুল্লাহ গুলজার। ডিজাইন আর্টিস্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহার উদ্দিন কাওসার বলেন, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া সিলেটের ঐতিহাসিক স্থাপনা আবু সিনা ছাত্রাবাস ও বন্দর এলাকার স্মৃতি ধরে রাখতে লাইট হাউসের ভাবনার সমন্বয় করে নির্মাণ করা হয়েছে নগর চত্বরের এই অবকাঠামোটি। এদিকে সোমবার দুপুরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী মিছিল সহকারে এসে গতকাল উদ্বোধন হওয়া ‘নগর চত্বর’ সাইনবোর্ড খুলে ‘কামরান চত্বর’ লেখা নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে  দেন। এ সময় মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তির সভাপতিত্বে ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর পরিচালনায় এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, এডভোকেট ফখরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ  নেতা এম. রশীদ আহমদ, গোলাম হাছান চৌধুরী সাজন, এম এইচ ইলিয়াসি দিনার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী ও সাইফুল আহমদ ছফু প্রমুখ। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান জানান, ‘বদরউদ্দিন আহমদ কামরান দীর্ঘ ৩৩ বছর এই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সিলেটের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। তার নামে এই চত্বরের নামকরণ সিলেটবাসীর প্রাণের দাবি। আগামীকাল সিটি করপোরেশনের মাসিক সভা আছে। এই সভায় আমরা এই চত্বরের নাম চূড়ান্তভাবে ‘কামরান চত্বর’ করার প্রস্তাব রাখবো।’ তিনি বলেন, ‘আর যদি এর নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয় তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’ এদিকে ‘মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, কামরান চত্বর করার প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন তরফ থেকে এই পয়েন্টের নাম দেওয়ান ফরিদগাজী, ইফতেখার হোসেন শামীম, এম সাইফুর রহমান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডা. মঈন উদ্দিনের নামে নামকরণের প্রস্তাব আসে। এসব প্রস্তাব সভা করে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নামকরণ চূড়ান্ত করতে হবে। এ কারণে আমরা পূর্বের ‘নগর চত্বর’ নামটি আপাতত রেখে দিয়েছি।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর