× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার

কিশোরগঞ্জে ৭৩ মিটার রাস্তার কারণে...

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ৩০ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:২৭

কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ পথগুলোর একটি কলাপাড়া মোড়। এই মোড় থেকে পুরাতন কোর্ট হয়ে মূল শহরে গেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। জেলার  তাড়াইল উপজেলা, সদর উপজেলার নীলগঞ্জ, মহিনন্দ ইউনিয়নসহ আশপাশের লোকজন এ সড়কটি ব্যবহার করেন। ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে শত শত যানবাহন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে যানবাহন চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক আবেদন নিবেদনের পর জানুয়ারির দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলাকাবাসীর দুর্ভোগ দূর করতে উদ্যোগ নেয়। মোড় থেকে শহরমুখী ২৪৩ মিটার রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয় ৪০ লাখ টাকা।
১৭০ মিটার রাস্তার কাজও শেষ করে ঠিকাদার। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে মোড়ের দিকের বাকি ৭৩ মিটার রাস্তার কাজ আটকে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বাধার কারণে কাজটি শেষ করতে পারছেন না ঠিকাদার। তার নাম মো. শামসুদ্দিন। তিনি বর্তমানে ট্রেজারি শাখায় কর্মরত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েক ব্যক্তি। এদিকে প্রতিবন্ধকতা দূর করে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বাকি কাজটুকু শেষ করতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করছেন চারজন জনপ্রতিনিধি। তারা হলেন, জেলা পরিষদের সদস্য সাজ্জাদুল ইসলাম, মহিনন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনসুর আলী, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার ও মহিনন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হালিম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তা নিয়ে এলাকায় দু’টি প্রভাবশালী গ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারী মো. শামসুদ্দিন। অন্যপক্ষে নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য সাজ্জাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। এই বিরোধ দিন দিন বড় হচ্ছে। ফলে এখন আর কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি হচ্ছে না। নিরপেক্ষ লোকজন বলছেন, প্রশাসন শক্ত ভূমিকা না নিলে এই রাস্তার কাজ শেষ করা খুবই কঠিন হবে। এ বিষয়ে ট্রেজারি শাখার কর্মচারী মো. শামসুদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি রাস্তার কাজে বাধা দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, যেভাবে রাস্তার ডিজাইন করা হয়েছে, সেভাবে রাস্তা হলে আমার বাসায় রাস্তার পানি ঢুকে যাবে। শুধু আমার নয়, আরও বেশ কয়েকজনের একই সমস্যা হবে। এখানে রাস্তা নির্মাণ করার আগে ড্রেন করতে হবে। এ দাবিটুকুই করেছি আমরা কয়েকজন। জেলা পরিষদ সদস্য সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, একজন বা দু’জনের বাধার কারণে পুরো এলাকার কয়েক হজার বাসিন্দার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ বন্ধ থাকতে পারে না। মাত্র ৭৩ মিটার রাস্তার জন্য এ বর্ষায় পুরো এলাকার লোকজন দুর্ভোগে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন লোক রাস্তার জায়গা দখল করে বাড়িঘর তুলেছেন। নক্‌শা অনুযায়ী ১৫ ফুট রাস্তা হলে, তাদের জায়গা ছাড়তে হয়। মূলত এ কারণেই বারবার রাস্তার কাজে বাধা দিচ্ছে তারা।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জোনায়েত আলম বলেন, এলজিইডি রাস্তা বানাতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মারামারি করবে না। আমরা বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও বাধার কারণে রাস্তার কাজ শেষ করতে পারিনি। এই জুনে রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। আমরা শেষ চেষ্টা করে দেখব, না হলে বাকি টাকা ফেরত যাবে।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল কাদির মিয়া বলেন, রাস্তা নিয়ে এলাকায় দু’টি পক্ষ তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষই প্রশাসনের কাছে তাদের নিজ নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করে আবেদন করেছে। তবে  রাস্তার কাজ শেষ হওয়া জরুরি। এ সময় তিনি বলেন, রাস্তার জায়গা চিহ্নিত করে বাকি কাজটুকু দ্রুত শেষ করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর