× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার
২৯তম দিনে নবিশ আইনজীবীদের অনশন

‘আমরা আর পারছি না’

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ৫ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ৬:১৬

২০১৭ ও ২০২০ সালের এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সনদের দাবিতে টানা ২৯ দিন ধরে পালন করছেন প্রতীকী অনশন। আজ বুধবার সকাল ১০টায় প্রতিদিনের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ২টায়। এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা মনে করেছিলাম বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটি আমাদের যৌক্তিক দাবিটি মেনে ঈদ করার জন্য আমাদেরকে বাবা-মা’র কাছে পাঠিয়ে দেবেন কিন্তু তারা তা করেননি। ঈদের দিনেও আমাদের রাস্তায় ঈদ করতে হয়েছে। এ স্মৃতি কোনোদিন ভুলে যাওয়ার নয়। এমন দিনের কামনা অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা কখনো করিনি। আমরা আর পারছি না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের সন্তানরা রাস্তায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেননা তাদের যাওয়ার আর কনো জায়গা নেই।

এ সময় শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের আহবায়ক ফজলে রাব্বী স্মরণ তার বক্তৃতায় বলেন, গত ৭ই জুলাই থেকে আমরা শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সনদের দাবিতে অনশন করছি।
ইতিমধ্যে আমাদের কয়েকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী অসুস্থ্য হয়ে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী প্রতি ৬ মাস পর পর বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালের পর এখন পর্যন্ত একটি পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে পারেনি বার কাউন্সিল, অথচ এই সময়ে আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ৬টি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা। ঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় আইন বিষয়ে পড়া লেখা করেও মারাত্মক সঙ্কটের মধ্যে আইনে ডিগ্রি অজর্নকারীরা। ৬ মাস পরপর প্রতি পরীক্ষায় ৫ হাজার আইনজীবী তালিকাভুক্ত হলেও গত ৩ বছরে ৬টি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩০ হাজার আইনজীবী তালিভুক্ত হতেন। সে তুলনায় বতর্মান ১২৮৭৮ জন খুবই সামান্য।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক এ কে মাহমুদ বলেন, আমাদের অভিভাকগণ আমাদের প্রতি সদয় হবেন, সন্তানদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে আমাদের সনদের ব্যবস্থা করবেন সেই প্রত্যাশায় টানা ২৮তম দিন রাস্তায় অবস্থান করছি। আমরা আর পারছি না। আমাদের বরিশাল বারের ইলোরা ইয়াসমিন ও বগুড়া বারের জাহাঙ্গীর ইতিমধ্যে আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নিয়েছেন। আরও অনেকে ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না। অভিভাবকগণের কাছে দাবি, সনদের ব্যবস্থা করে দিন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যাই।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী নুপুর আক্তার বলেন, আইন বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করে কি আমরা অপরাধ করেছি? তাহলে আমাদেরকে কেন হতাশায় রাখা হচ্ছে। বিষয়টি দেখার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা চাকরি চাই না, বেতন চাই না, বোনাস চাই না। আইন পেশায় থাকার একটি সনদ চাই।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী প্রতিযোগিতামূলক এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী অংশ নিয়ে পাস করেন মাত্র ৮৭৬৪ জন। আর ২০১৭ সালে পাস করেন সাড়ে ৩ হাজার জন। গত বছরের নভেম্বর মাসে বার কাউন্সিল ঠিক সময় পরীক্ষা না নেয়ায় পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে অনশন করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর