× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার

জুয়ার বকেয়া টাকার জন্য হামলায় আহত-৯

বাংলারজমিন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | ৫ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ৮:১৩

দুইবছর আগের জুয়ার বকেয়া টাকার জন্য হামলায় তিন ব্যবসায়ী সহ আহত হয়েছে ৯ জন। উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে ইউপি সদস্য মো. মোতালিব মিয়ার নেতৃত্বে গত রোববার এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান বলছেন বাবুল শাহেদ সহ এখানে একটি বলয় গড়ে উঠেছে। এ বলয় দাপটের সঙ্গে পাকশিমুল গ্রামে জুয়া, মাদক ও নারীঘটিত ব্যবসা করছে দীর্ঘদিন ধরে। বার বার প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানায়, এখানে যারা জুয়া, মাদক ও নারীর ব্যবসা করে তারা সকলেই ইউপি সদস্য মোতালেব মিয়ার আপনজন ও স্বজন। তাদের দাপটের কাছে স্থানীয় লোকজন বরাবরই অসহায়।
২০১৮ সালে জুয়ার ঘরে আঙ্গুর মিয়াকে ২৭ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল মোতালেব মেম্বারের ভাই বাবুল। শর্ত ছিল এক সপ্তাহ পর লাভ দিতে হবে ৩ হাজার টাকা। লাভে আসলে টাকা দিয়েছিল ২০ দিন পর। এ বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি বাবুল। গত কিছুদিন আগে অরূয়াইল বাজারে আঙ্গুর মিয়ার কাছে ২০১৮ সালের টাকার আরো সুদ ৫ হাজার টাকা দাবি করে বসেন বাবুল। বোকা বনে যান আঙ্গুর মিয়া। বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা বাঁধতে পারে মনে করে সাবেক চেয়ারম্যান কাছম আলী হস্তক্ষেপ করেন। তিনি আঙ্গুর মিয়াকে বুঝিয়ে ৫ হাজার নেন। পরে মোতালিব মেম্বার ও বাবুলসহ তাদেরকে টাকা নেয়ার জন্য খবর দেন। আসছি আসছি বলে সময় ক্ষেপণ করেন। হঠাৎ গত রোববার সকালে মোতালিব মেম্বার, বাবুল সহ গোটা বলয়ের ১০-১২ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঙ্গুর মিয়ার উপর হামলা চালায়। এতে আঙ্গুর মিয়া (২৮), তার বৃদ্ধ পিতা হাজী রজব আলী (৮০) ও শন্তু মিয়াকে (৫০) পিটিয়ে আহত করে। হামলায় বাঁধা দেয়ায় পাকশিমুল বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হক (২৬), এলাছ মিয়া (৩৫) ও শাহিদ মিয়া (৫০) কে মারধর করে তারা গুরুতর আহত করে। আহত ৩ ব্যবসায়ী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ইউপি সদস্য মো. মোতালিব মিয়া বলেন, জুয়া মাদক নারী এসব মিথ্যা অভিযোগ। জুয়ার নয় ৮০ হাজার কর্জ নিয়েছিল। বাকি ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় আমার ভাই বাবুলকে প্রথমে গালমন্দ ও পরে মারধর করেছে। তাদের হামলায় আ. ছালাম (১৫), আ. হাসিম (৩৫) ও বাবুল (৩২) আহত হয়েছে। এখন তারা আমাদেরকে বাজারে যেতে দেয় না। পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখানে মোতালিব মিয়া, তার সহোদর ভাই ও স্বজনদের সমন্বয়ে একটি বাহিনী গড়ে উঠেছে। তাদের কাজই হচ্ছে জুয়া, মাদক ও নারীর ব্যবসা পরিচালনা করে টাকা কামাই করা। আমি এসব বিষয় একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। আজও কোনো প্রতিকার পাইনি। প্রসঙ্গত: গত আইনশৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিক মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, মোতালিবের নেতৃত্বে পাকশিমুল এলাকায় বড় বড় জুয়ার আসর চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোতালিব বলেন, যেভাবে চলছে। এভাবেই চলবে। থানার ওসি আমার পকেটে থাকে।   

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর