× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
সিনহা হত্যা

টেকনাফের ওসিসহ সকল আসামির গ্রেপ্তার দাবি সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:৫১

 তিন মাসের মধ্যে দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার বিচার সম্পন্ন ও দোষীদের ফাঁসি দাবি করেছে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (রাওয়া) গতকাল বিকালে রাওয়া’র হেলমেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই দাবি জানান। সেই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জবাবদিহিমূলক আইন প্রণয়ন করে পুনর্গঠন করাসহ ১০টি দাবি জানান তারা। দাবি মানা না হলে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন রাওয়া’র নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে টেকনাফ থানার ওসিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (অব.) হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাওয়া’র চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার। তিনি বলেন, আমরা সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য। ইচ্ছা করলেই রাস্তায় নেমে উচ্ছৃঙ্খলতা দেখাতে পারি না। কিন্তু এই বিষয়ে দাবি আদায় না হলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। উঁচু গলায় কথা বলবো।
তিন বাহিনীর প্রাক্তন প্রধানদের নিয়ে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বিচার দাবি করবো।
এ সময় মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো হচ্ছে, তিন মাসের মধ্যে দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার সম্পন্ন করতে হবে এবং দোষীদের ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। অনতিবিলম্বে সকল আসামিকে (তদন্তে যাদের নাম আসবে তারাসহ) মামলার স্বার্থে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে রাখতে হবে। মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা, তথ্য গোপন করে মিডিয়াতে মিথ্যা বিবৃতি দেয়া ও একমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী সিফাতের বিরুদ্ধে দু’টি কাল্পনিক ও বানোয়াট মামলা রুজু করার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি)-কে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এই হত্যা মামলার আসামি ওসি প্রদীপকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠাতে হবে। সিফাত, ট্রাক চালকসহ সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে রাওয়া’র চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, বিশ্বের  বিভিন্ন দেশের অনুরূপ একটি ভিন্ন মন্ত্রণালয় (ভ্যাটারান মন্ত্রণালয়) গঠন করে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের নিরাপদ ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জীবনযাপনে সার্বিক সহায়তা দিতে হবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অবহিত আছেন। আমরা আশা করি তিনি যথাযথ দিকনির্দেশনা দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার সম্পন্ন করে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন। আমাদের আমৃত্যু সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিশ্চিত করবেন। এই ঘটনার সাক্ষীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষীদের পরিচিত ও আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমেও যেন কোনো চাপ সৃষ্টি না করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।
পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় আনার দাবি জানিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জবাবদিহিমূলক আইন প্রণয়ন করতে হবে। সেই মোতাবেক বাহিনীকে পুনর্গঠন করতে হবে। রাষ্ট্রের সব বাহিনীকে সংবিধান মোতাবেক সুশৃঙ্খল হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনোভাবেই যেন এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বাস্তবায়িত না হয় সেদিকে সকলের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

রাওয়া’র চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নুরুল আফসার বলেন, মেজর (অব.) সিনহা পুলিশ কাস্টডিতে মারা গেছেন। ৩১শে জুলাই শুটিং শেষ করে পাহাড় থেকে নেমে সিফাতকে নিয়ে সিনহা নিজস্ব প্রাইভেট কারে ওঠেন। রাত ৯টার দিকে তারা শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছান। মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত তাকে তিনটি গুলি করেন। গুলি করার পরপরই রাত পৌনে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় জনগণ ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাঠকর্মী সার্জেন্ট আইয়ূব আলী। তখন গুলিবিদ্ধ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান তারা। সার্জেন্ট আলী ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করতে চাইলে পুলিশ তার পরিচয় জানতে চয়। পরিচয় দেয়ার পর সার্জনের হাত থেকে মোবাইলফোন ও তার পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয় পুলিশ।

তিনি বলেন, ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ট্রাভেল ভিডিও নির্মাণ করতে ৩রা জুলাই ঢাকা থেকে কক্সবাজার যান সিনহা। সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের চারজন। প্রায় এক মাস তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে শুটিং করেন।
সেনাবাহিনীর পোশাক পরনে থাকা প্রসঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার সময় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার পরনে ছিল কম্ব্যাট টি শার্ট, কম্ব্যাট ট্রাউজার ও ডেজার্ট বুট। এটি তিনি পরতেই পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা বলেন, মেজর (অব.) সিনহা জিম করতেন। সাঁতরাতেন। কমান্ডো ট্রেনিংপ্রাপ্ত। এসএসএফ-এ ছিলেন বেশ ক’বছর। তার লাশের সঙ্গে ইয়াবার প্যাকেট দেখানোর বিষয়টি হাস্যকর নাটক।
সংবাদ সম্মেলনে রাওয়া’র সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল (অব.) এএম মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারে মৃত্যু, হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিকে গায়েব করে বিভিন্ন অপরাধ দমনের প্রবণতার নেতিবাচক দিক প্রায়শই প্রকাশ পাচ্ছে। নাগরিকদের জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের বিভিন্ন প্রয়াস বিনষ্ট করতে অবৈধভাবে আস্কারা পেয়ে গড়ে ওঠা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্যই এটি করছে। ক্রসফায়ার, গুম নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। এতে প্রায়ই সরকারকে বিব্রত হতে হচ্ছে।

বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা বলেন, ক্রসফায়ার, গুমের হুমকি দিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন ও অযাচিত প্রভাবের নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেছে সুবিধাবাদীরা। আইনের শাসনের দুর্বলতার কারণেই হয়রানি এড়াতে অধিকাংশ জনগোষ্ঠী আইনবহির্ভূত কাজের প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত হন না। এই প্রক্রিয়ায় সমাজে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন গড়ে ওঠে, গুমোট পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ ধরনের প্রক্রিয়ায় টেকনাফ এলাকার ফ্রাঙ্কেনস্টাইন কর্তৃক পুলিশের পোশাক পরে ও সরকারের অস্ত্র ব্যবহার করে ঠাণ্ডা মাথায় মেজর (অব.) সিনহার হত্যাকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। সেনা কর্মকর্তারা বলেন, সামান্য কয়েক ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের দায় একটি বিশাল বাহিনী নিশ্চয়ই নেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, লে. জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন, কর্নেল (অব.) মাহমুদুর রহমান, লে. কর্নেল আতিকুল হক চৌধুরী, মেজর (অব.) মো. আবদুস সালাম প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর