× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার

বৈরুত ট্রাজেডিতে সন্তান ও ভাগ্নেকে হারিয়েছেন মোর্শেদ

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | ৬ আগস্ট ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৪:০৭

লেবাননের বৈরুতে বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মোর্শেদ মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে বিপর্যয়। ওই ট্রাজেডিতে তার ছেলে রাসেল মিয়া (২২) এবং ভাগ্নে রেজাউল মারা গেছে।রেজাউলের বাড়ি কুমিল্লায়। আহত অবস্থায় সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি রাসেলের বড় ভাই মো. সাদেক মিয়া। এছাড়া বৈরুতে থাকা তাদের আরো কয়েকজন স্বজন আহত হয়েছেন ওই ঘটনায়। কসবার কাইমপুর ইউনিয়নের জাজিসার গ্রামে বাড়ি রাসেলের। বুধবার তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্বজনরা। ছেলের জন্য বিলাপ করে কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাতে থাকেন রাসেলের মা পারুল বেগম। শোকে স্তব্ধ হন বাবা।
৪ বছর আগে জীবিকার তাগিদে লেবাননে যান রাসেল। বৈরুতে বিস্ফোরনস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দুরে একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করতেন রাসেল ও তার বড় ভাই সাদেক মিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে বিস্ফোরণের সময় সেখানেই কর্মরত ছিলেন তারা। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের লোকজন একাধিকবার ফোন করে তাদের খোঁজখবর জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ না করায় বাড়িতে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। রাসেল ছাড়াও বৈরুতে থাকা তার বড় ভাই সাদেক, এক ফুফাত ভাই সহ আরো কয়েকজন স্বজনের খোজ মিলছিলো না। হাসপাতালে প্রায় ৭/৮ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরে পায় রাসেলের বড় ভাই সাদেক মিয়ার। সে তখন ফোন রিসিভ করে রাসেলের খোঁজ পাচ্ছে না এবং ঘটনার বিস্তারিত জানায়। খবর পেয়ে লেবাননের অন্য এলাকা থেকে ছুটে আসেন রাসেলের চাচা মো. জসিম উদ্দিন। চাচা জসিম উদ্দিন ও বড় ভাই সাদেক মিয়া বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকেন রাসেল সহ অন্য স্বজনদের। ৫ই আগস্ট বিকেলে একটি হাসপাতালের মর্গে খুঁজে পান রাসেলের মরদেহ। ওই শহরের অপর একটি হাসপাতালের মর্গে মিলে নিহত রাসেলের আপন ফুফাত ভাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের রেজাউলের মরদেহ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোঁজ মিলে রাসেলের ভগ্নিপতি গোলাম রসুলের। রাসেলের মা পারুল বেগম তার মৃত সন্তানের লাশ ও আহত সন্তানকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যে সরকারের কাছে দাবী জানান।
এদিকে রাসেলের মা-বাবাকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে ছুটে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান মনির হোসেন প্রমুখ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়েছি। নিহতের পরিবারকে সান্তনা দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। নিহত ও আহতদের দেশে আনার ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করারও আশ্বাস দেন তিনি। বৈরুত বিস্ফোরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের মেহেদী হাসান রনি (২৪) নিহত হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর