× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার

নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ, ২ শিক্ষার্থী নিহত

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ৯:১৬

বন্দরে ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আত্মরক্ষার্থে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা গেছে দুই শিক্ষার্থী। তারা হলো-বন্দরের কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র মিহাদ (১৮) ও বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান (১৫)। এরমধ্যে নিহত মিহাদ বন্দরের নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে ও বন্দর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কমল খানের ভাতিজা এবং জিসান বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি কাজিমউদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিসানের বাবার কথায় সোমবার মধ্যরাতে লাশ উদ্ধারের পরেই ৬ জনকে নিহতদের স্বজনদের সহায়তায় আটক করে।
এদিকে গতকাল সকালে নিহত জিসান আহমেদের বাবা কাজিম আহমেদ বাদী হয়ে বন্দর থানায় আটক ৬ জনসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল দুপুরে আদালতে পাঠালে শুনানী শেষে ম্যাজিস্ট্রেট ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন হলো- নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিহত জিসানের চাচা আহমদ আলী (৬২) ও মোক্তার হোসেন (৫৫), আহমদ আলীর ছেলে কাশেম (২২), নিহত মিহাদের খালাতো ভাই আলভী (২০), আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও শিপলু (২৩)।  
সোমবার বিকালে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় শামীম ও শাকিল নামে দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় একপক্ষের ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান আত্মরক্ষার্থে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাফিয়ে পড়ে।
কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান নদীতে লাফিয়ে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা ভেবেছিল তারা সাঁতরে নদীর অপর প্রান্তে উঠে গেছে। পরে সোমবার রাত পৌনে ১২টায় বন্দর ঘাট এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় মিহাদ ও জিসান নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিহত হলেও জিসানের বাবা কাজিমের দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে কাজিমের দুই চাচাতো ভাই ও এক ভাতিজাকে। এদের সঙ্গে জমিসহ নানা বিষয়ে নিহত জিসানের বাবা কাজিমের দ্বন্দ্ব ছিল। শত্রুতাবশত কাজিম প্রকৃত অপরাধীদের পরিবর্তে নিজের চাচাতো ভাইদের শায়েস্তা করতে মামলার আসামি করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। শুধু তাই নয় মিহাদ ও জিসানের লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই ছিলেন জিসানের চাচা আহমদ আলী ও মোক্তার হোসেন এবং চাচাতো ভাই কাশেম। আর গ্রেপ্তার আলভী হচ্ছে নিহত মিহাদের খালাতো ভাই। সোমবার বিকালে আলভীই মিহাদকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ প্রকৃত ঘটনা জানতে আসামিদের ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এজাহার নামীয় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নদী থেকে লাশ উদ্ধারের পর নিহতদের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ছেলের লাশ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ বাদীর বিরুদ্ধে
গত সোমবার কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের বিরোধে একপক্ষের ধাওয়ায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে লাফিয়ে পড়ে মিহাদ ও জিসান। কিন্তু জিসানের বাবা কিশোর গ্যাংয়ের কারো নাম উল্লেখ না করে নিজের স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করে। গতকাল সরজমিনে বন্দরে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জমিসহ নানা বিষয় নিয়ে জিসানের বাবা কাজিমের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আহমদ আলী, মোক্তার হোসেনের বিরোধ ছিল। স্থানীয়ভাবে কাজিম বদ প্রকৃতির হিসাবে পরিচিত। গত ৩ মাস আগেও গ্রামের একটি সালিশে কাজিমকে তার বিভিন্ন অপকর্মের জন্য সালিশকারীরা সর্তক করে তিনশ’ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়। এ নিয়ে কাজিম তার চাচাতো ভাই আহমদ আলী ও মোক্তার হোসেনের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। সোমবারের ঘটনায় নিজের ছেলে নিহত হলে পূর্বের ক্ষোভ মেটাতে নিজের চাচাতো ভাই ও ভাতিজাকে আসামি করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। তাছাড়া ১/১১’র সামরিক সরকারের সময় কাজিমকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছিল সেনাবাহিনী। ওই মামলায় কাজিমের ৩ বছর জেল হয়। স্থানীয়ভাবে কাজিম বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
এদিকে নিহত মিহাদের চাচা বন্দর প্রেস ক্লাবে সভাপতি কমল খান বলেন, নিহত জিসান কাজিম আহমেদের একমাত্র ছেলে ছিল। তাই তার অনুরোধে মিহাদের বাবা নাজিম উদ্দিন খানের পরিবর্তে কাজিমকে মামলার বাদী হতে সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি যখন এ ঘটনায় তার স্বজনদের আসামি করে এজাহার দিচ্ছিলেন তখন তাকে ভেবেচিন্তে এজাহার দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কাজিমের দাবি তার চাচাতো ভাইয়েরাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে।  
এদিকে ঘটনাস্থল বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার বিকালে দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে কিছু নিয়ে ঝামেলা হলে একপক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দেয়। তখন ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন কিশোর নদীতে লাফিয়ে পড়ে। তাদের ধারণা ছিল লাফিয়েপড়া কিশোররা সবাই তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। পরে রাতে জানতে পারেন দুই কিশোর নিখোঁজ। তাদের লাশ সোমবার রাত পৌনে ১২টায় উদ্ধার করা হয়েছে।
 

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর