× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

রংপুরে বাড়ছে গরু চুরি দিশাহারা কৃষক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ১৪ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার, ৮:১৯

করোনা ও বন্যায় জীবন নাজেহাল তার ওপর অস্বাভাবিক হারে গরু চুরির ঘটনায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে রংপুরের কৃষকরা। কোরবানি ঈদের আনন্দ হয়েছে মাটি। প্রায় দু’ মাসের ব্যবধানে রংপুর জেলার কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও সদর সহ ৮ উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি গরু চুরি হয়েছে। গরু চুরি রোধে অনেকে গোয়ালঘরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন গরুচোরকে গ্রেপ্তার করা হলেও থামছে না গরু চুরিসহ ক্রাইম। অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর সদরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাহার কাছনা এলাকার বাঙ্গিটারি এলাকার চ্যানেল আই ও সমকাল পত্রিকার ক্যামেরাপারসন এহসানুল হক সুমনের বাসা থেকে শংকর জাতের একটি গরু চোরের দল নিয়ে যায়। গরুর মালিক সুমনের পিতা আকবর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে মানবজমিনকে বলেন, থানায় গিয়ে লাভ কি? অযথা হয়রানি হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।
হারিয়ে যাওয়া গরু তো আর ফিরে পাবো না। এরপর প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর মিস্ত্রিপাড়ার হাসানের মোড় সংলগ্ন মাঠ থেকে ২টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। মিঠাপুকুরে গরু চুরি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা বলেন- আমরা আতঙ্কিত। গ্রামে গ্রামে দলবেঁধে গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছি। পুলিশ তিন গরুচোরকে আটক করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের মিয়ার দুটি, তার ছেলে আহসান হাবিব আপেলের দুটি, একই গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত ছায়মা বেগমের পাঁচটি গরু, উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলং হাট নয়াপাড়া গ্রামের শাহাজাদা মিয়ার একটি গরু, লতিবপুর ইউনিয়নের হাতিমপুর গ্রামের দুদু ফকিরের চারটি গরু, একই গ্রামের আরো এক কৃষক বাবলু মিয়ার দুটি গরু চুরি হয়েছে। এভাবে গরু চুরি শুরু হওয়ার পর কোনো কোনো গ্রামে প্রতিরোধ কমিটিও গড়ে উঠেছে। বিশেষত কাশিপুর, মামুদপুর, হাবিবপুর, পাইকান, নয়াপাড়া, লতিবপুর, আফজালপুর, জলছত্তর, হাতিমপুরসহ ২০টিরও বেশি গ্রামে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন কৃষকরা। লতিবপুর ইউনিয়নের হাতিমপুর গ্রামে হাফিজুর রহমান বলেন, একে এই গ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তার ওপর গরু চুরির হিড়িক পড়েছে।এরই মধ্যে ছায়মা বেগম বাদী হয়ে একটি গরু চুরির মামলা করেছেন। এরপর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো- লতিবপুর ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের বাহাদুর মিয়া (২৮), একই গ্রামের শাকিল মিয়া (২২) ও রানীপুকুর ইউনিয়নের মোলং হাট নয়াপাড়া গ্রামের রিপুল মিয়া (২৫)। তাদের মধ্যে বাহাদুর ও শাকিলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক মামলা রয়েছে। মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন তিনজনকে আটকের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রংপুরের পীরগঞ্জে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে মাদারহাট নামক স্থানে চোরাই গরুসহ ৩ চোর ও ১টি পিকআপ আটকের পর উত্তেজিত জনতা পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মিঠাপুকুর উপজেলা এলাকা থেকে পিকআপযোগে ৪টি চোরাই গরু নিয়ে বগুড়া অভিমুখে যাবার সময় যানজটের কারণে বর্ণিতস্থানে পিকআপটি ফেঁসে যায়। এ সময় উপস্থিত জনতার সন্দেহ হলে পিকআপটি আটকের পর গরুগুলো নামিয়ে নেয়ার পর পিকআপে থাকা গরুচোর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছত্রা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শিপন সাকিদা (৩০), একই উপজেলার সংসারদিঘী গ্রামের বিজেন মালীর ছেলে বিচিত্রা মালী (২৫) ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রামের ফজলু বিশ্বাসের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৭)কে আটক করে গণধোলাই দিয়ে  উত্তেজিত জনতা পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গরু চোরসহ পিকআপ ও গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পীরগঞ্জ থানার ওসি (অপারেশন) মাহবুবার রহমান জানান, গরুচোরকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী চোরাই গরুগুলো পার্শ্ববর্তী মিঠাপুকুর উপজেলার। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। আটক গরু ও আগুন ধরিয়ে দেয়া পিকআপটি পীরগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ওদিকে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে কৃষক আব্দুস সালামের গোয়লঘরের দরজা ভেঙে ৬টি গরু নিয়ে গেছে চোরের দল। এভাবেই দিনের পর দিন গরু চুরি সহ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। ১৫ই জুলাই রাতে নগরীর সিটিপার্ক মার্কেটে আরটিভি অফিস থেকে ১২ জোড়া বিদেশি কবুতর চুরি হয়। এ ব্যাপারে আরটিভি রংপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বাদল কোতোয়ালি থানায় অভিযোগও করেন। এ ছাড়া নগরীর বুড়িরহাট কবারু ডাক্তার পাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইলফোন চুরি, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মাহিগঞ্জের ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের লকডাউন করা বাড়ি থেকে ১২ লাখ টাকা সহ মূল্যবান মালামাল চুরি, দিন-দুপুরে নগরীর সাতগাড়া মিস্ত্রিপাড়া এলাকার নাজিরুল ইসলামের বাসাবাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা, গহনা সহ মালামাল চুরি হয়। বিভিন্ন বাসাবাড়িসহ ছাত্রাবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চুরির ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ করেই এমন অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় চোরদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি অভিযানে চোর চক্রের সদস্যদের কয়েকজন আটক হয়েছেন। অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ব্যাপারে  রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, করোনাকালে যাতে চুরি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়ে না যায় এজন্য পুলিশ সজাগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে চুরি যাওয়া মালামালসহ চোর ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধে নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর