× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার
লঙ্কাকাণ্ড

একদিনেই পিয়াজে সেঞ্চুরি

প্রথম পাতা

আলতাফ হোসাইন | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৯:৫৮

একদিনের ব্যবধানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজির পিয়াজের দর সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে এই পিয়াজই বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। সোমবার ভারত থেকে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে এদিন বিকাল থেকেই চলছে পিয়াজ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড। পিয়াজের মজুত থাকলেও বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যারা বিক্রি করছেন তারা দাম নিচ্ছেন কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। এক রাতের ব্যবধানে  ৭০ টাকা কেজির দেশি পিয়াজের দাম ১০০ টাকায় উঠেছে। কেন এই দাম বাড়লো এর কোনো উত্তর কারো কাছে নেই। গত বছরের একই সময়ে ভারতের রপ্তানি বন্ধের পর দেশীয় বাজারের পিয়াজের কেজি ৩০০ টাকার রেকর্ড ছুঁয়েছিল।
এবার শুরুতেই আলামত দেখে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই কঠোরভাবে ব্যবস্থা না নিলে পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
করোনা সংক্রমণের মধ্যেও পিয়াজের দাম ক্রেতাদের নাগালেই ছিল। এ বছর ঠিক গত বছরের মতো একই সময়ে ভারত পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠছে পিয়াজের বাজার। যদিও রপ্তানি বন্ধের কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বাজারে পিয়াজের দাম বাড়তির দিকে। ক্রেতারা বরাবরই বলছেন এটা ব্যবসায়ীদের কারসাজি।
অথচ পরিসংখ্যান বলছে, চাহিদার তুলনায় দেশে পিয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রায় ২৪ লাখ টন পিয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এরমধ্যে সংরক্ষণের অভাবে পচে নষ্ট হয়ে যায় ৩০ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পিয়াজ। আর ইতিমধ্যে ভারত থেকে ৮ লাখ টনের বেশি পিয়াজ আমদানি হয়েছে। তা সত্ত্বেও হু হু করে বাড়ছে দাম। পণ্যটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজি চলছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। দু’দিন আগেও দাম বৃদ্ধির জন্য ভারতীয় পিয়াজ আমদানি কম এবং সে দেশে মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় ভারত গত সোমবার পিয়াজ রপ্তানি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। গতকাল পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধ ছিল। এই খবরে সোমবার বিকাল থেকেই অস্থির হয়ে ওঠে রাজধানীর পিয়াজের বাজার। এদিন বিকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে পাইকারি বাজারগুলোতে পিয়াজের দাম বাড়াতে থাকে বলে অভিযোগ করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, একদিকে আমদানিকারদের কারসাজি অন্যদিকে ক্রেতারা দাম বাড়ার খবর শুনে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে পিয়াজ কিনছেন। ফলে দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত পিয়াজের দাম একদিনেই বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
সরজমিনে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা পিয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে বসে আছেন। এ সময় অনেক ক্রেতাই পিয়াজ না পেয়ে চলে যাচ্ছেন। বিক্রেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলছেন, আজকের মতো বিক্রি শেষ। অথচ পাশেই বস্তাভর্তি পিয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন তারা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কে আড়ত ছেড়ে পালাতে দেখা গেছে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে। এরমধ্যেই একজন খুচরা বিক্রেতা তার দোকান খুললেন। এ সময় ১৫-২০ জন ক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। বিক্রেতা বলছেন, পাল্লাপ্রতি ৪৫০ টাকার কম নেই। একজন ক্রেতাই নিচ্ছেন ৫-১০ কেজি বা তারও বেশি করে। মুহূর্তেই এক বস্তা পিয়াজ শেষ। এক বস্তা বিক্রি শেষে বাকিগুলো পাশে রেখে দিয়েছেন ওই বিক্রেতা। তিনি বলেন, আপাতত এক বস্তাই আর পিয়াজ নেই। অথচ পাশে আরো ৩-৪ বস্তা পিয়াজ ছিল। এ সময় ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন ক্রেতা বলেন, ১ ঘণ্টা ধরে ঘুরছি বিক্রেতারা বলছেন পিয়াজ নেই। অথচ দেখেন বস্তা বস্তা পিয়াজ সাজিয়ে রেখেছেন। এরা কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছে অথচ সরকারের কোনো তৎপরতা নেই।
এছাড়া মালিবাগ, মগবাজার ও শান্তিনগর বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে একদিনের ব্যবধানে মান ভেদে কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে পিয়াজের দাম। কারওয়ান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পিয়াজ বিক্রি হয়েছে থেকে ৪৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে যা ৯৫ থেকে ১০০, ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মালিবাগ বাজারে ১ কেজি পিয়াজের দাম ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শান্তিনগর, মগবাজারসহ বিভিন্ন বাজারেও একই চিত্র। আর আমদানি করা ভারতের পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের পিয়াজের খুচরা বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, মিডিয়াইতো সমস্যাটা করলো। গতকাল ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধ হয়েছে এই খবরে হুলুস্থূল বেধে গেছে। আড়তদাররাও দাম বাড়িয়েছে তাই আমাদেরও বাড়াতে হয়েছে। গতকাল বিকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫-২০ টাকা বাড়ছে। আরো বাড়বে। কারণ এই দাম বাড়ার কথা শুনে ক্রেতারাও কাল বিকাল থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পিয়াজ নিয়েছেন, এখনো নিচ্ছেন। যারা এককেজি নিয়েছেন তারা ৫-১০ কেজি করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমার পিয়াজ বিক্রি আপাতত শেষ হয়ে গেছে। পাশেই বস্তায় পিয়াজ সাজানো আর বলছেন শেষ? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন এগুলো অন্য মানুষের, উনারা পিয়াজ রেখে বাইরে গেছেন। তিনি বলেন, আমরা কি করবো বলেন, আড়তে দাম বাড়লে আমাদেরও তো বেশি দামেই আনতে হয়। এতে আমাদের আরো লস। কারণ কম দামে আনলে আমাদের যে লাভ দাম বেশি হলে বরং আরো ক্ষতি। কারণ তখন আমরা পুঁজির অভাবে কম করে আনতে হয়। তখন লাভও কম হয়। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত যা হচ্ছে সবটাই ওদের কারসাজি। এতে খুচরা বিক্রেতাদের কিছু করার নেই। যদি ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি না করা হয় তবে গত বছরের মতোই হবে। এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, আমদানি বন্ধ তাই বাড়ছে। দেশে যা পিয়াজ উৎপাদন হয় তাতে আমাদের চাহিদার তুলনায় কম।
খান এ্যান্ড সন্স বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ভারতের রপ্তানি বন্ধের খবর শুনেই বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এই প্রবণতাতো থাকেই। দাম বাড়ার আশঙ্কায় সবাই মজুত করে রাখে। তাই বিক্রি আপাতত কম হচ্ছে। অনেকে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে শ্যামবাজারেও সোমবার বিকালের পর থেকে পিয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। তবে গতকাল কিছু কিছু বিক্রি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে শ্যামবাজারের রুনা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস হোসেন মানবজমিনক বলেন, সোমবার অনেকটা বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও এখন কিছু কিছু বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে পিয়াজের ঘাটতি রয়েছে। দামতো বাড়বেই। ভারত হঠাৎ আমদানি বন্ধ করে দিলো কেন এটা নিয়ে আপনারা কথা বলেন। দেশের যে পিয়াজ উৎপাদন হয় তাতে কি আমাদের হয়। কয়টা পিয়াজ দেশে উৎপাদন হয়? চাহিদা পূরণ করতে হলে অবশ্যই পিয়াজ আমদানি করতে হবে। ব্যবসায়ীরা পিয়াজ মজুত করে কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছেন- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা যা আড়তে আনছি তাতো এক-দুইদিন মজুত করেই রাখতে হয়। এটাকে আপনি কারসাজি বলবেন? গত বছর ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় হঠাৎ করেই পিয়াজের দাম বেড়ে যায়। বাংলাদেশ চাহিদা মেটাতে যতটুকু পিয়াজ আমদানি করে, তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে। ভারত বন্ধ করে দিয়েছে এখন অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হবে বলে মত দেন ব্যবসায়ীরা।
ওদিকে পিয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারওয়ান বাজার ও পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে গতকাল বিশেষ অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম। অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, ভারত থেকে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগ আর দেয়া যাবে না। কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Shahid
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৫:৪৩

ফেনীর সোনাগাজীতে আজকে 70 টাকায় বিক্রি করছে। ফেনীতেও কাছাকাছি। মিডিয়ার রিপোর্টের কারণে না কালকে সেটা সেঞ্চুরি পার হয়ে যেতে পারে।

Mominul Haque
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ১:৫৭

Indian Chanoikya crookedness, which our dishonest businessmen are exploiting very badly. We don't have any deficiency in the production of onion. So, the exorbitant price hiking & taking by the crookedly dishonest businessmen is the consequence of absence of proper governance in the country; means, the result of prevalence of mid- nightly auto elected (fake) Govt.

Md. Harun al-Rashid
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ১২:২০

রেকর্ডতো আর ভাংঙ্গে না বরং প্রতিশ্রুতি ভংঙ্গের নূতন রেকর্ড তৈরী হয়। আড়ৎদার নামক দুষ্টচক্র এ মূল্য কারসাজির আসল হোতা। যেখানে পেঁয়াজ উৎপাদকদের বিক্রির জন্য আড়ৎদারদের দারস্ত হতে হয়না সেখানে আমদানীকারকদের কেন আড়ৎদারের সাহায্য নিতে হবে? মূল্য কারসাজির অন্ধকার উৎস হলো ঐ সব লোভী আড়ৎদার। শুধু আড়ৎদার নামক এ মধ্যসত্ত্বভোগীদের কড়া নজরে রাখুন। বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

shiblik
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৯:২৪

"কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে" জন্মের পর থেকে শুনে আসছি। বাটপার।

এ কে এম মহীউদ্দীন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৮:৩৯

প্রায়ই তো এরকম হয়। একটু অন্যায্য লাভের সুযোগ পেলেই আমরা লুফে নেই। প্রতি রমযানে কি হয়? মাত্রারিক্ত চড়া দাম। আর সেই সাথে অতি নিম্ন মানের জিনিষ। এসব থেকেই বুঝা যায় আমরা কতো নিচু স্বভাবের মানুষ।

সায়েম
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:৫৪

জিনিসটা ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাইয়ের ব্যাপার। কঠোরতা করে মার্কেট কন্ট্রোল করা অত্যন্ত কঠিন। অাপনি সাপ্লাই সাইডে যোগান বাড়ায়ে দেন, এমনিতেই বাজার কমে অাসবে। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে কাজ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আবুল কাসেম
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ১২:৪০

ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করবে কি করবেনা সেটা একান্তই তাদের ব্যপার। ভারত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের বিষয়টা কিছুক্ষণে জন্য ভুলে গিয়ে যদি চিন্তা করা যায় তাহলে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি না করার যৌক্তিকতা উপলব্ধি করতে সহজ হবে। বন্ধুত্ব এক জিনিস আর নিজের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা আরেক জিনিস। তাদের নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার তাগিদ দেখার পর আমাদেরও শিক্ষনীয় বিষয় আছে। আমরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্রোহী নির্মুল করবো। সহজ পণ্য পরিবহনে স্থলে জলে অবাধ যোগাযোগের সুযোগ দেবো। নদী থেকে তাদের দরকারে পানি দেবো। পূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ দেবো। এসবই বন্ধুত্বের শুভেচ্ছার নিদর্শন সরূপ। বন্ধুত্বের ঋণ শোধ করতে আমাদের সততার প্রমান মিলে মুক্তহস্তে দিয়ে যাওয়ার মধ্যে। একান্ত নিজস্ব স্বার্থচিন্তা এবং ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোন থেকে আমরা বন্ধুত্বের বিষয়টি কখনো মূল্যায়ন করিনি। বন্ধু তো বন্ধুই। বন্ধুর জন্য মানুষ জান কোরবান দিতেও প্রস্তুত হয়ে পড়ে। তথাপি তারা বন্ধুর জন্য নিঃস্বার্থভাবে চিন্তা করেনি, যেমনটি আমরা করেছি। তিস্তার জলের ন্যায্য হিস্যা দেবেনা। অভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে খরা মৌসুমে পানি আটকাবে, ফলে আমাদের ফসলের মাঠ শুকিয়ে চৌচির হবে এবং বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বানের জলের স্রোতের তোড়ে ফসলের ক্ষেত, ঘর বাড়ি, রাস্তাঘাট সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে এবং একটা ধ্বংসলীলার সাক্ষর রেখে যাবে প্রতি বছর। নেপালের সাথে পণ্য আনা নেয়ার জন্য ভারতের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেবেনা। নিরেট বন্ধুত্বের খাতিরে জান কোরবানি দেয়া তো থাক দূরের কথা, বিন্দুমাত্র নিজস্ব স্বার্থ চিন্তা ত্যাগ করতেও তারা নারাজ। এটাও তাদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। সমালোচনার তীর তাদের দিকে ছুঁড়ে মারার আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার আমাদের নিজের চেহারা দেখে নিলে বুঝা যাবে আমাদের চরিত্র কতোটা কদর্য। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি করবেনা, খবর প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে বিনা কারণে আমরা লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লেগে গেলাম। অথচ তথ্য অনুযায়ী বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। আর কিছু বাহাদুর লোক টাকার বস্তা নিয়ে বাজারে গিয়ে পেঁয়াজ কিনার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। যে দেশের মানুষের মধ্যে মানবিকতার অভাব রয়েছে এবং অপর ভাইয়ের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় নিতে রাজি নয়, অন্যের সমালোচনা তাদের মুখে বেমানান। খবরে দেখা গেছে বানিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং করছেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা করছেন। পণ্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে হরহামেশাই এমন মনিটরিং ও জরিমানার কথা শোনা যায়। কিন্তু একটি বারের জন্যও বাজারে পণ্যমূল্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে শোনা যায়নি। তাহলে যেই জরিমানা জনগণের কোনো উপকারে আসছেনা সেটার চর্চা করে লাভ কি ? তবে সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে যারা অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির সাথে জড়িত প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদের সমস্ত পেঁয়াজ বাজেয়াপ্ত করে ন্যায্য মূল্যে জনপ্রতি দুই কেজি করে মানুষের মধ্যে বিক্রি করে দিয়ে টাকাটা সরকারি কোষাগারে জমা করে দিলে অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য চরম শিক্ষা হতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুদকৃত সমস্ত পেঁয়াজ বাজেয়াপ্ত করা অপরিহার্য। নচেৎ এদের কবল থেকে মুক্তির উপায় নেই। আর ভারত একটি বিশাল দেশ। সবসময় তাদের উপর নির্ভরশীলতা ঠিক নয়। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে অন্যান্য দেশের পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার সয়লাব করে দিতে হবে। মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী বলেছেন, ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এটাই এখন ভরসা।

অন্যান্য খবর