× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি

তিতাসের ৮ কর্মকর্তা কর্মচারী রিমান্ডে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৩৭

নারায়ণগঞ্জের তল্লায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের ৪ প্রকৌশলীসহ ৮ কর্মকর্তা কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় সিআইডির নারায়ণগঞ্জ  জেলা কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান, সিআইডির ডিআইজি মঈনুল হাসান।
এদিকে বিকালে গ্রেপ্তারকৃত ৮ জনকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আলমের আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি হয়।
সিআইডির ডিআইজি মঈনুল হাসান বলেন, তিতাসের বরখাস্ত ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্য কারও অবহেলার সম্পৃক্ততা  পেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা জোনের তিতাস গ্যাস  কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী  মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, ফতুল্লা  জোনের সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া, ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান। বিস্ফোরণের ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে তিতাস। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার খানপুর, তল্লা এলাকায় বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টায় বিস্ফোরণ ঘটে।
এই ঘটনায় ৩২ জন মুসল্লি মারা গেছেন। এ ছাড়া মসজিদের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে তিতাসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মসজিদের বিস্ফোরণজনিত ঘটনা ফতুল্লা জোনের আওতাধীন এলাকায় হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ফতুল্লা জোনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে হওয়ায় ৮ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও চাকরি  থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’
মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৩৩: এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষে শনিবার সকালে আব্দুল আজিজ (৪০) ও দুপুর ২টার দিকে মারা যান মো. ফরিদ (৫৫)।  শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া। হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন ৩ জন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহত ৩৩ জন হলেন- ইমাম আবদুল মালেক আনসারী (৬০), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও তার ছেলে জুনায়েদ (১৭), দুই ভাই জোবায়ের (১৮) ও সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২),  মোস্তফা কামাল (৩৪), রাশেদ (৩০), হুমায়ুন কবির (৭২), জামাল আবেদিন (৪০), ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), মো. রিফাত (১৮), মাইনুউদ্দিন (১২), ফতুল্লার জয়নাল (৩৮), নয়ন (২৭), নিজাম (৩৪), রাসেল (৩৪), কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শিশু জুবায়ের (৭), নাদিম (৪৫), বাহার উদ্দিন (৫৫), শামীম হাসান (৪৫), জুলহাস (৩৫),  মোহাম্মদ আলী (৫৫), আবুল বাশার মোল্লা (৫১), মনির ফরাজি (৩০), ইমরান হোসেন (৩০), হান্নান (৫০), আব্দুস ছাত্তার (৪০),  শেখ ফরিদ (২১), নজরুল ইসলাম (৫০), আব্দুল আজিজ (৪০) ও মো. ফরিদ (৫৫)।
প্রসঙ্গত, গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শনিবার পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে সিআইডি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর