× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

কোভিড হাসপাতাল কমায় ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে চিন্তা

প্রথম পাতা

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ৯:৪৮

দেশে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল একে একে বন্ধ হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ২২টি হাসপাতালের মধ্যে ৫টি ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য করোনা রোগী কমে যাওয়ায় এবং শয্যা ফাঁকা থাকায় এসব হাসপাতাল বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বন্ধ করা এসব হাসপাতালের মধ্যে আবার ২টি হাসপাতাল রয়েছে যেখানে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য নির্ধারিত ছিল। এগুলো হচ্ছে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মহানগর হাসপাতাল। এই হাসপাতাল ২টি বন্ধ হওয়ায় ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে চিন্তায় সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আইসিডিডিআর,বি’। ভ্যাকসিনটি দেশে পৌঁছালেই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হবে। চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য নির্ধারিত ২টি হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।
এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআর,বি’  ট্রায়ালের স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মী নেয়ার বিষয়ে কি ভাবছে জানতে চাইলে ট্রায়ালের প্রধান গবেষক ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি’)-এর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. কে জামান মানবজমিনকে বলেন,  আমরা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাইনি। বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। চিঠি পেলে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, আমরা ট্রায়ালের অপেক্ষায় আছি। চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের টিকা দেশে পৌঁছালেই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ (ট্রায়াল) শুরু হবে। সিনোভ্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ট্রায়ালের টিকা তাড়াতাড়ি তারা বাংলাদেশে পৌঁছাবে। তাই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি। কিন্তু এখনো পৌঁছায়নি। তারা দিনক্ষণও জানায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য ট্রায়াল ভ্যাকসিন বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য দেশটিতে ইতিমধ্যে জমা দেয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, করোনার হাসপাতাল বন্ধ করলে ট্রায়ালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ যে হাসপাতালে করোনার রোগী আছে সেখানকার স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মী নিতে হবে। তিনি বলেন, রোগীরা হাসপাতালে যেতে চায় না। হাসপাতাল বিমুখ। তাই সিট ফাঁকা থাকে। কিন্তু সংক্রমণ ঠিকই ছড়াচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ হচ্ছে না দেশে। সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. মুস্তাক হোসেন এব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, ট্রায়ালের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংখ্যাটা ঠিক রাখতে হবে। এটা যেখানেই হোক। তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপের বিষয়টি আইসিডিডিআর,বি’র নিজস্ব বিষয়। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো মতামত চাওয়া হলে তখন মতামত দেবো।
বাংলাদেশ সরকার চীনের কোম্পানি সিনোভ্যাকের টিকা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে গত ২৭শে আগস্ট। এই পরীক্ষা করবে আইসিডিডিআর,বি’। রাজধানীর ৭টি হাসপাতালে ৪ হাজার ২০০ স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর চীনা টিকার পরীক্ষা হবে। আইসিডিডিআর,বি’ এরই মধ্যে প্রায় ২৫০ মাঠ গবেষক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। আইসিডিডিআর,বি’ কর্তৃপক্ষ ৭টি হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরীক্ষার প্রাথমিক প্রস্তুতির ব্যাপারেও কথা বলে এসেছে। হাসপাতালগুলো হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইউনিট-২ এবং বার্ন ইউনিট-১, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ঢাকা মহানগর হাসপাতাল।
আইসিডিডিআর,বি’র সঙ্গে সিনোভ্যাকের চুক্তিতে বলা আছে, পরীক্ষায় নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলে সিনোভ্যাক ১ লাখ ১০ হাজার টিকা বাংলাদেশকে বিনামূল্যে দেবে। এ ছাড়া টিকা তৈরির প্রযুক্তিও বাংলাদেশকে দেয়ার কথা আছে। সিনোভ্যাকের এই টিকার নাম ‘করোনাভ্যাক’। ইতিমধ্যে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় করোনাভ্যাকের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি’র কর্মকর্তারা বলছেন, গবেষণাটির স্বতন্ত্র ডাটা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। দেশি এবং  বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং বোর্ড থাকবে। যা বাংলাদেশে সিনোভ্যাকের টিকার শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালটি দক্ষিণ কোরীয় গবেষণা সংস্থা এলএসকে পরিচালনা করবে। জাতীয় পরামর্শক কমিটিকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ট্রায়ালের আপডেট ঔষধ প্রশাসন, বিএমআরসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হবে। যেসব স্বেচ্ছাসেবক ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করবেন তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা করা হবে না। তবে ট্রায়ালের সময় কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেয়া হবে।
এই পরীক্ষার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সিনোভ্যাক তদন্তকারী ভ্যাকসিন সম্পর্কিত সমস্ত দায়বদ্ধতা গ্রহণ করবেন এবং বীমাসহ উপযুক্ত দায়বদ্ধতা নেবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার, ৪:২৫

বন্ধ তো হবেই। জনগণের সামর্থ্য নাই এসব হাসপাতালের ব্যয় বহন করার। জমি জমা বেঁচে নিঃস্ব হলে চিকিৎসা পাবে তবুও বাঁচার নিশ্চয়তা নাই। আবার যদি বাঁচে তখন খাবে কি। ভিক্ষা ছাড়া গতি থাকবে না। তাই তাওক্কঅলতু আল্লাহ ঘরে থেকেই মরছে । হাসপাতাল রোগী পায় না তাই বন্ধ ।

অন্যান্য খবর