× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রকল্প দ্রুত সমাপ্তের উদ্যোগ গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ৭:৪৪

মেয়াদ উত্তীর্ণ কাজের পাহাড় গণপূর্ত অধিদপ্তরে। এ কাজগুলোর দ্রুত সমাপ্তির লক্ষ্যে কোয়ালিটি, কোয়ান্টিটি ও কুইকলি’ পদ্ধতি গ্রহণ করে দেশ উন্নয়নে সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মেগাপ্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি সরকার। মেয়াদ উত্তীর্ণসহ চলমান উন্নয়ন কাজে গতি আনতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে সূত্র জানায়। বর্তমানে ‘থ্রি কিউ’ পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাসহ দুর্নীতির দায়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গোটা দেশে উন্নয়ন কাজ মনিটরিংয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে কমিটি। প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডাটাবেজ সফটওয়্যার উন্নয়ন করছে এ অধিদপ্তরটি।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ বাস্তবায়ন করছে। কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কাজের সময় দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ৬ থেকে ৭ বছরের পুরনো কিছু কাজও চলমান রয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায়  গোপালগঞ্জে বহুতল বিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ৯৭ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কিন্তু এই প্রকল্পের কাজ আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর জিগাতলায় সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী (গণপূর্ত ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের জন্য ২৮৮ আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। রাজধানীর মতিঝিলে সরকারী কলোনিতে (হাসপাতাল জোন স্টোর কম্পাউন্ড) ২৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে।
সারাদেশে ৬৪ জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০০৯ সালে। প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। দুই পর্বে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় রেজিস্ট্রি ও সাব-রেজিস্ট্রি ভবন নির্মাণ কাজের প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সমপ্রসারণের জন্য ১৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের ১৪টি নদীবন্দরে প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১৭ সালে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। প্রকল্পটি ৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগে এমন আরও কমপক্ষে ২০টি বড় প্রকল্পের মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়েছে।
এসব মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম। তিনি যোগদানের পর এ অধিদপ্তরে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। মেয়াদ উর্ত্তীণ ও চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি ‘থ্রি কিউ’ কোয়ালিটি, কোয়ানটিটি, কুইকলি সূত্র অনুসরণ করছেন। গণপূর্ত অধিদফতর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মেয়াদ উর্ত্তীণ প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সব কাজ বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এখন ওই কাজের নতুন টেন্ডার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ত অধিদফতর। মেয়াদোত্তীর্ণ কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, পুরনো সব প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি কাজগুলো ‘মনিটর’ করবে। দ্রুত কাজগুলো শেষ করার জন্য এই কমিটি কাজ শুরু করেছে। অনেক প্রকল্পের সময় বেড়েছে। অতীতে এই প্রকল্প নিয়ে কেউ কোন কাজ করেনি। আমি যোগদানের পর থেকে কাজগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। কাজের সময় বাড়িয়ে একটি গোষ্ঠী সরকারের ক্ষতি করছে। সরকারের কোন ক্ষতি মেনে নেয়া হবে না। এ কারণে কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। করোনার কারণে এক বছর প্রকল্পের সময় বাড়লেও তার আগেই যাতে কাজগুলো শেষ করা যায় তার জন্য গঠিত কমিটি সারাদেশে ঘুরে ঘুরে কাজগুলোর মনিটর করছে। তাছাড়া আমি সব কর্মকর্তাকে তিনটি টার্গেট দিয়েছি। এই তিন টার্গেট হচ্ছে ‘কোয়ালিটি, কোয়ান্টিটি ও কুইকলি’। এই তিনটি বিষয় মেনে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর বাইরে কিছু করা হলে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর