× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

আমতলীতে জোয়ারের পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারীদের ভোগান্তি

বাংলারজমিন

মো. আবু সাইদ খোকন, আমতলী (বরগুনা) থেকে | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:৪২

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণনগর গ্রামে  খাসজমির ওপর নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প  নির্মাণের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ও আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন বেড়িবাঁধ না থাকায়  সুবান্দী নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭টি ব্যারাক। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন  প্রায় ৩ শতাধিক নারী শিশু বৃদ্ধসহ অসহায়  বসবাসরতরা। এ অবস্থায় তারা সরকারের কাছে ঘর মেরামত ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের  দাবি জানান তারা। সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সরকারি অর্থায়নে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণনগর গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের  বেড়িবাঁধের বাইরে সুবান্দী নদীর তীরে  সরকারি  খাসজমিতে  পূর্ব কৃষ্ণনগর  আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মিত হয়েছে। প্রকল্পে কবরস্থান,  খেলার মাঠ, সমবায় সমিতির কার্যালয়সহ ৭টি টিনের ব্যারাক রয়েছে। প্রতিটি ব্যারাকে রয়েছে ১০টি করে কক্ষ।  আবাসিক জমিসহ প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পে ১০টি পরিবারের জন্য চারটি  শৌচাগার ও দুটি গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রতিটি ব্যারাকের জন্য একটি করে গভীর নলকূপও বসানো হয়।
কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ বছর পার হলেও সংস্কার হয়নি প্রকল্পর ব্যারাকগুলো। ফলে নষ্ট হয়ে  গেছে প্রকল্পের অনেক কিছু। সরজমিন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাকগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের টিনে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে পলিথিন বিছিয়ে তার উপরে ইটচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। দরজা, জানালাগুলো  ভেঙে গেছে। টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। বাথরুম ও  গোসলখানাগুলো ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে একাকার হয়ে গেছে।  এগুলো আর ব্যবহার করতে পারছে না আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। ৭টি ব্যারাকের ৭০টি কক্ষের মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে ৫০টি পরিবার বসবাস করছেন। ৫০টি পরিবারের  প্রায় ৩ শতাধিক  অসহায় দুস্থ সহায় সম্বলহীন মানুষ বসবাস করছেন। বাকি ২০টি কক্ষ একেবারে ভেঙে বা নষ্ট হয়ে গেছে যা  বসবাসের উপযোগী নয়। অপরদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাকগুলো   সুবান্দী নদী তীরবর্তী হওয়ায় বেড়িবাঁধ না থাকায়  প্রতিদিন জোয়ারের  পানিতে তলিয়ে যায়।  জোয়ারের সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের  বেড়িবাঁধের উপর পরিবারের শিশু ও নারীদের থাকতে হয়। পূর্ব কৃষ্ণনগর আশ্রয়ণ  প্রকল্পের  সাধারণ সম্পাদক শাহিদা বেগম বলেন, ঘরের মধ্যে থাকতে পারি না। বৃষ্টি এলে টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে হাঁড়ি, পাতিল দিয়েও লাভ হয় না। জোয়ারের সময় ছেলেমেয়ে নিয়ে রাস্তায় বসে থাকতে হয়। তিনি সরকারের কাছে  আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো মেরামত ও আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর পেছন দিয়ে নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. আনসার মিয়া বলেন, সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করতে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষায় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, শীতে লাগে ঠাণ্ডা। প্রতিদিন  জোয়ারের পানিতে ভাসতে হয়। আমরা নানা সমস্যার মধ্যে থাকলেও সমাধানের  কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পূর্ব কৃষ্ণনগর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. মুছা মিয়া বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দারা অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন।  প্রকল্পের ব্যারাকগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা দরকার। কুকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার বলেন, সহায়, সম্বল ও ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সরকার। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘদিন পেরোলেও সংস্কার না করায় এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে  জানান, প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে যেসব ঘর জরাজীর্ণ তার তালিকা পাঠানো হবে। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই ভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। নতুবা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের  জন্য বহুতল আশ্রয়কেন্দ্র ভবন নির্মাণ করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর