× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২০, বুধবার

অর্থাভাবে মুক্তিযোদ্ধা মীরা রানীর চিকিৎসা বন্ধ

বাংলারজমিন

নড়াইল প্রতিনিধি | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৮:৪২

মীরা রানী সরকার (৬৮)। একজন মুক্তিযোদ্ধা। অস্ত্র হাতে শত্রুর সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করেছেন। এখন দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছেন দেশের এই সূর্য সন্তান। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ঠিকমতো চিকিৎসা নিতেও পারছেন না। স্বামী মারা যাওয়ার পর নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পাইকড়া গ্রামে মেয়ের বাড়িতে ঠাঁই হয়েছে তার। মীরা রানী বলেন, একবার যশোরে রওশন সাহেবের বাড়ি এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু’র মেয়ে শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি তার মাথার চুল আঁচড়িয়ে দিয়েছিলেন পরম মমতার সঙ্গে।
দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ডেকে নিয়ে ১ হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু মারা গেলে ২ দিন কিছুই খেতে পারেননি। এমন নানা স্মৃতির কথা বলতে বলতে আবেগে কেঁদে ফেলেন। এখন সে নিজেই রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছেন। নিজ জীবনের কথা সরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এলাকায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আগ্রাসন বেড়ে গেলে অনেক হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যায়। তিনিও বাবা রসিক লাল সরকার, মাতা চপলা সরকারের সঙ্গে প্রিয় মাতৃভূমি নড়াইলের পাইকড়া গ্রাম ছেড়ে চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। বনগাঁও হাসপাতালের কাছে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সপরিবারে সেখানে বসবাস শুরু করেন। অল্পদিনেই টাকা ফুরিয়ে যায়। পরিবারে প্রচণ্ড খাদ্যাভাব দেখা দেয়। সে সময় তিনি তরুণী। অভাবী পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি স্থানীয় কালু বাবুর বাড়ি আওয়ামী লীগ অফিসে যান। সেখানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে টালিখোলা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নড়াইলের মতিউর রহমান তার ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে কলকাতা জাদুঘরের পিছনে ১২ দিন মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগানোর কাজ দেয়া হয়। মীরা রানী সরকার ও তার ২ সহযোগী মিলে ভারতের হেলাঞ্চা, বাগদা,  গোপালনগর, চাঁনপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগানোর কাজ করেন। পাশাপাশি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেন। এরই মধ্যে একদিন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাদের ক্যাম্পে যান। তার কার্যক্রম দেখে শুনে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে সার্টিফিকেট দেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে চৌগাছা সীমান্তে চলে যান। চৌগাছা সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে তাদের যুদ্ধ হয়। মীরা রানী সরকার নিজ হাতে শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র চালান। সে যুদ্ধে তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী নিহত হন। যার বাড়ি মাগুরায়। অনেক কষ্টে তার লাশ নিয়ে এসে বনগাঁও হাসপাতালের সামনে কবর দেন। এমন আরো অনেক ঘটনার স্মৃতি চারণ করেন তিনি। তিনি বলেন, মন চাইলেও এখন স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। তাই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি পাইকড়া গ্রামে কাটাতে চান। মেয়ে-জামাইকে তার সৎকারের জন্য অনুরোধ করেছেন। স্বামী পশুপতি সরকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। বাড়িসহ যা কিছু সম্পদ ছিল সবই সতীন পুত্রদের দখলে, এসব নানা প্রলাপ বকছিলেন তিনি। তবে দেশের জন্য যুদ্ধ করে আজ অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা নিতে না পারার বিষয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ নারী মুক্তিযোদ্ধা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর