× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার
সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে না আলু

সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ

বাংলারজমিন

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি | ১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৭:৩৬

লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আলুর দাম। দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হিমাগারে মজুতকৃত আলু বিক্রি না করায় বাজারে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট। এদিকে আলুর আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে আদেশ জারি করেছে সরকার। কিন্তু সরকারি আদেশের কথাটি বেমালুম ভুলে গিয়ে আগের মতোই আলু কেনা- বেচা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার শিবগঞ্জের এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজ, আর অ্যান্ড আর পটেটো কোল্ড স্টোরেজ ও হেমা কোল্ড স্টোরেজ সহ বেশকয়েকটি হিমাগার সরজমিন ঘুরে চোখে পড়ে এমন চিত্র। ক্রেতারা বলছেন, সরকার আলু কেজি প্রতি বিক্রয় মূল্য ২৩ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও  ৩৭ থেকে ৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলু। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজে আলু কিনতে আসা আব্দুল করিম নামের এক ক্রেতা জানান, আমি অনেক্ষণ ধরে আলু কেনার জন্য দরদাম করছি। এখানে ৬০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলু ২৫শ’ টাকা অর্থাৎ ৪১ টাকা কেজি প্রতি দাম চাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
এ সময় আমিনুর ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল বাছেদসহ অনেকেই জানান, বর্তমানে ৬০ কেজি ওজনের আলুর বস্তা ২১শ’ থেকে ২৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে হঠাৎ করে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় লোকসান হবে এমন বক্তব্য ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, আমরা ২৮/২৯ টাকা কেজিতে আলু কিনে স্টোরে রাখছি।
সরকারের এই রেটে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হবে।
ইয়াসিন আলী নামের এক আলু ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোতে আলুর ব্যবসায় চরম লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। অনেক আলু ব্যবসায়ী সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন। তখন সরকার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করেনি। এখন হঠাৎ করে দাম কমে দেয়ায় লোকসান হবে তাদের বলে মনে করেন তিনি।
এনামুল হক সরকার নামের এক আলু ব্যবসায়ী জানান, অনেক ব্যবসায়ী ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছেন। এখন হঠাৎ ২৩ টাকা কেজি মূল্য নির্ধারণ করায় লোকসান গুনতে হবে তাদের।
আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে অতি লোভী কিছু ব্যবসায়ী দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন আল মেহেদী নামের এক ক্রেতা। তার দাবি আলুর আকাশচুম্বী দামের পিছনে বিশাল সিন্ডিকেট দায়ী। তারা ইচ্ছা করেই হিমাগারে আলু রেখে সংকট তৈরি করছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি না করায় হিমাগারের শ্রমিকরা পার করছেন অলস সময়। তারা বলছেন, আলু কম বিক্রি হওয়ায় অল্প মজুরিতে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সাহা হিমাগারে কাজ করা খোকন, চান মিয়া, সাজু ও মিলনসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নে এএইচজেড কোল্ড স্টোরেজের মালিক ফজলুল বারী কাটু সরকার বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবসায়ীদের আলু বিক্রি করার জন্য বলেছি। ব্যবসায়ীরা যেন সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে আলু বিক্রি না করে সে ব্যাপারে তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন সাহা হিমাগারের স্বত্বাধিকারী  বিভূতিভূষণ সরকার খোকনসহ অন্য হিমাগার মালিকরা। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও উপজেলাবাসীকে জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর