× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার

তার নিয়ে টানাটানি

শেষের পাতা

কাজী সোহাগ | ১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৮:৪৭

সড়ক থেকে ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ নিয়ে শুরু হয়েছে টানাটানি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে তিন পক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ক্যাবল কাটা অব্যাহত রেখেছে। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা রোববার থেকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টার জন্য নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রাখার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহকরা সিটি করপোরেশন ও ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মত জানিয়েছেন। তাদের যুক্তি, অভিযানে অনেক এলাকায় ইন্টারনেটসহ ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।
আবার ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তিন ঘণ্টা নেটওয়ার্ক বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছে তা অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে তারা। গ্রাহকদের যুক্তি, প্রতি মাসের সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা আদায় করা হয়। তাই তাদের এই আন্দোলনেও ক্ষতির শিকার হবে গ্রাহকরা। গত ১২ই অক্টোবর ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) ও ক্যাবল অপারেটর্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই প্রধান সড়কসহ সব সড়ক থেকে ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ করা শুরু করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে গত দুই মাসে আনুমানিক ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই রোববার থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সারা দেশে বাসা-বাড়ি, অফিস ও ব্যাংকসহ সকল পর্যায়ে ইন্টারনেট ডাটা কানেক্টিভিটি এবং ক্যাবল টিভি বন্ধ রাখার প্রতীকী কর্মসূচি পালন করা হবে। এ প্রসঙ্গে কোয়াবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ মানবজমিনকে বলেন, ২৫ বছর ধরে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দাবি-দাওয়া আছে অনেক। কিন্তু কখনো আন্দোলনে যেতে হয়নি। কিন্তু এবার আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যেভাবে আমাদের ক্যাবল কাটা হচ্ছে তাতে এমনিতেই নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারবো না। এই প্রসঙ্গে আইএসপিএবি  সভাপতি এমএ হাকিম মানবজমিনকে বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১২ মিনিটে একটি মেইল দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, মেইলটি দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের রেভিনিউ অফিসার। তার সঙ্গে আমরা কেন বসবো? আমাদের ইস্যুর সঙ্গে তো তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনি আপনাদের লোকজন সঙ্গে নিয়ে আসেন। আমি কাদের নিয়ে যাবো আর সিটি করপোরেশনের কারা থাকবে এ নিয়ে ওই মেইলে বিস্তারিত কিছু নেই। তাছাড়া তারা বসতে চায় আমাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির পরে। এমএ হাকিম বলেন, আমরা পাল্টা মেইলে বলেছি, এই ইস্যুর সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের সবাইকে নিয়ে বসতে হবে। বিশেষ করে বিটিআরসি, এনটিটিএন অপারেটররাও আছেন এর সঙ্গে। আমরা এখন সিটি করপোরেশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে চেয়ে আছি। কারণ আমরা চাই, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান। এদিকে মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন রোববার দেশব্যাপী তিন ঘণ্টার ইন্টারনেট, ব্যান্ডউইথ, এবং টেলিভিশন ক্যাবল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সঠিক নয়। কারণ পরিবহন বন্ধ রাখার আন্দোলন আর ইন্টারনেট ক্যাবল বন্ধ রাখার আন্দোলন এক জিনিস নয়। টেলিভিশন ক্যাবল অপারেটর ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রাহকদের কাছ থেকে সেবার নামে অগ্রিম অর্থ আদায় করে, ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী সেবা দেয়ার পূর্বে অর্থ আদায় এবং অর্থ আদায় করে সেবা না দেয়া ভোক্তা অধিকার আইনের পরিপন্থি কাজ। এ অপরাধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির দুই বছরের জেল ও সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। তিনি বলেন, আইএসপি অপারেটররা যে যুক্তিতে বা ন্যায্য দাবিতে এই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের যে ডাক দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে আমরা মনে করি। আমরা তাদের আন্দোলনের নামে সভাপতি স্বাক্ষরিত একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করলাম, তিনি বলেছেন যদি কোনো অপারেটর সংযোগ বন্ধ না করে তবে তার বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বলতে চাই, এ ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা আইএসপিএবি রাখে কিনা? এ ধরনের ক্ষমতা একমাত্র ভোক্তা অধিদপ্তর, র‌্যাব, ভ্রাম্যমাণ আদালতের, বা বিটিআরসি নিতে পারে। আইএসপিএবি’র উচিত হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা। আইন মোতাবেক ব্যবসা পরিচালনা করা। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন গ্রাহকদের স্বার্থে সমস্যার সমাধানকল্পে একটি সময় বেঁধে দিতে পারেন। তাই আমরা মনে করি আইএসপিএবি যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সেটি একটি আইনবহির্ভূত অন্যায় আন্দোলন। আইএসপিএবি ও কোয়াব জানিয়েছে, কয়েক লাখ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত না করে কোটি কোটি টাকার ঝুলন্ত ক্যাবল অপসারণ কোনো যৌক্তিক সমাধান নয় বলে মনে করছি। এর ফলে কয়েক লাখ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি গ্রাহক যেমন ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন একই সঙ্গে চলমান অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হবে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি এসব এলাকায় করোনায় সেবাদাতা হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ অনলাইন স্বাস্থ্যসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে এবং হবে। অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট ও ক্যাবল সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই মহামারির সময়ে বেকার হয়ে পড়বেন ১০০০টি বৈধ আইএসপি ও কোয়াবের প্রায় লক্ষাধিক কর্মীসহ ৩৩টি স্যাটেলাইট টিভিতে কর্মরত অসংখ্য সাংবাদিক ও কর্মীরা। যা এই মহামারির সময় অমানবিক এবং একই সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার পথে অন্তরায়। এদিকে গত বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ক্যাবল কাটা অভিযান পরিচালনা করে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের ৪৬তম দিন হিসেবে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কাজী ফয়সালের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃহস্পতিবার ১৫নং ওয়ার্ডের সাত মসজিদ রোডে অবৈধ ক্যাবল অপসারণ করেন। এ সময় তিনি প্রায় ৪০০ মিটার অংশে অবস্থিত ইলেকট্রিক পোল থেকে অবৈধ ক্যাবল অপসারণ করেন। একই সময়ে করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফেরদৌস ওয়াহিদের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত বংশাল চৌরাস্তা হতে বংশাল নতুন রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার অংশে অবস্থিত ইলেকট্রিক পোল হতে অবৈধ ক্যাবল অপসারণ করেন। এ সময় সরকারি কাজে বাধাদান করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৬নং ধারা অনুযায়ী এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অভিযানের ফলে সৃষ্ট ক্যাবল বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রাক। আগামী রোববার ভ্রাম্যমাণ সব আদালত যথারীতি অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানানো হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর