× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার
ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন

ইভিএমে ফল প্রকাশেও এতো বিলম্ব!

শেষের পাতা

মোহাম্মদ ওমর ফারুক | ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ৯:১৪

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা কোনো নির্বাচনেই সম্ভব করতে পারেননি নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনেও সম্ভব হয়নি নির্ধারিত সময়ে ফল ঘোষণা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে ফল প্রকাশের দেরি হয়। কোনো কোনো সময়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা ট্যাবে রেজাল্ট পাঠাতে ভুল করেছেন, যার কারণে ম্যানুয়ালি রেজাল্ট শিট পাঠিয়েছেন। এই নির্বাচনে ম্যানুয়ালি রেজাল্ট নেয়া হয়েছে। সেগুলোর প্রক্রিয়া শেষ করতেই সময় লেগেছে। যার কারণে অনুষ্ঠিত দু’টি আসনের  নির্বাচনে ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শনিবার অনুষ্ঠিত ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হয় রাত পৌনে ১০টায়।
৯টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচন কমিশনের মতে ফল ঘোষণা করার কথা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই। অথচ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হলেও ব্যালট ভোটের মতোই সময় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারবিহীন এই আসনটিতে ৫টার মধ্যে নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও ৫ ঘণ্টা পর ফল ঘোষণা করেছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন। এই আসনটিতে রয়েছে ১৪টি ওয়ার্ড। মোট  ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭১ হাজার ১২৯। এরমধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৪। ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৭টি। বুথ সংখ্যা এক হাজার ৯৫টি। প্রায়  পৌনে পাঁচ লাখ ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট। আর নিকটতম  প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৬ ভোট। প্রিজাইডিং অফিসাররা বলছেন, তাদেরকে এবার সশরীরে উপস্থিত থেকে রেজাল্ট শিট জমা দিতে হয়েছে। এটাও ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।
নওগাঁ-৬ তে চিত্র কিছুটা ভিন্ন ছিল। সেখানে কিছু ভোট বেশি পড়লেও ফল ঘোষণায় সময় লেগেছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। রাত সাড়ে ৮টায় ফল ঘোষণা করা হয়। নওগাঁ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ১ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রের ফলাফল দেয়া যায়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে দিতে আরো সময় লাগে, তাই আমাদের একটু দেরি হয়েছে। তাছাড়া আমাদের সদর থেকে ওই আসনের উপজেলাগুলোর দূরত্ব আছে বেশ। যার কারণে ফলাফলগুলো নিয়ে আসতে একটু সময় লেগেছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করেছি যত দ্রুত সম্ভব, ফলাফল ঘোষণা করতে। তাই সাড়ে ৮টার মধ্যেই আমরা ফলাফল ঘোষণা করেছি। ইভিএমের ফলাফল ভোট শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই হয়ে  গেছে। কিন্তু পথে আসতে দেরি হয়েছে। নওগাঁ-৬ আসনে ১৬ ইউনিয়নে ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এই আসনে মোট  ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৮ জন এবং নারী এক লাখ ৫২ হাজার ৯৬৭ জন। ৩৬.৪ শতাংশ ভোটার তাদের  ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। এখানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। নৌকা  প্রতীকে ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৫২১ ভোট। প্রধান  প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র শেখ রেজাউল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৬০৫  ভোট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গৃহীত হয়েছে, সেখানে ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফলাফল পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু ইভিএমের মাধ্যমে গৃহীত আসনগুলোর ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে অনেক পরে, যদিও ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছিল বিকাল ৫টায়। বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ভোটারের আঙ্গুলের ছাপ না মেলায়  ভোট দিতে পারেননি অনেকেই। ভোট  কেন্দ্রের তথ্য না পাওয়ায় ভোটকেন্দ্র থেকে ফিরেও যান ভোটাররা। এ ছাড়া ভোট দিতে গিয়েও অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন ভোটাররা। কিন্তু তাদের কোনো পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে। ভোটগ্রহণের জন্য ৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারিত থাকলেও ফলাফল প্রকাশে বাধা-ধরা কোনো নিয়ম নেই। উপনির্বাচনগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ফলাফল প্রকাশে এতো সময় নেয়ার কারণ অনেকটা ধোঁয়াশা। এই বিষয়ে ঢাকা-৬ আসনের উপনির্বাচনে দায়িত্বে থাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফলাফল ঘোষণা করতে পারি। যেমন আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করেছি। কিন্তু সামগ্রিক ফলাফল ঘোষণা করতে একটু সময় লাগে। এই আসনটি অনেক বড় একটি আসন। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফলাফল আসতে সময় লেগেছে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ফলাফল বুঝিয়ে দেয়া, ইভিএম মেশিনগুলো গোছানো, প্যাকেট করাসহ কিছু প্রক্রিয়া আছে সেগুলো করতেও সময় লাগে। তারপর মূল কেন্দ্রে আসার পর আমার রেজাল্টগুলো মিলিয়ে বার বার মিলিয়ে দেখি। তারপর আমরা  বেসরকারি ভাবে ফল ঘোষণা করি। সরকারিভাবে একদিন পরে করি। এদিকে কয়েকজন প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা ঘণ্টা দুয়েক সময় নিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের কাছে ফল পাঠাতে। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার হামিদুল ইসলাম জানান, আমরা দ্রুতই দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের সশরীরে গিয়ে জমা দিতে হয়েছে। রাস্তায় যানজট ছিল, সেই কারণে হয়তো একটু দেরি হয়েছে।
ঢাকা-৫ আসনের নলপুর কমিউনিটি সেন্টারের প্রিজাইডিং অফিসার বজলুর রশিদ বলেন, আমাদের রেজাল্ট শিট জমা দিতে ঘণ্টা দেড়েক সময় লেগেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Mohammad hossain
১৯ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:২৪

Take a bit time to adjust rigging votes.

অন্যান্য খবর