× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

কমরেড শাহ আতিউল ইসলাম আর নেই

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার, ৯:০৮

শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আজীবন সংগ্রামী নেতা কমরেড শাহ আতিউল ইসলাম আর নেই। গতকাল রাতে করোনা জটিলতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৩ সালের ১২ই আগস্ট বরিশালের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আতিউল ইসলাম। তার শৈশব ও বাল্যকাল খুলনাতে কেটেছে। ডাক্তার সইফ-উদ দাহার নেতৃত্বে ‘শ্রমিক-কৃষাণ কর্মী সংঘ’র সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হন।  ৬০-এর দশকে ওই সংগঠনের যুব সংগঠন ‘পাইওনিয়ার যুবলীগ’ গড়ে তুলেন। পাইওনিয়ার যুবলীগ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। ৬০-এর দশকে শ্রমিক-কৃষকের আন্দোলনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকবাহিনী আক্রমণ করলে ডা. সইফ উদ দাহার নেতৃত্বে যে মুক্তিবাহিনী গড়ে ওঠে সেই মুক্তিবাহিনীর খুলনা অঞ্চলের একাধিক থানার কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ‘শ্রমিক-কৃষাণ কর্মী সংঘ’র নাম পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়ে কর্মী সংঘের কর্মীরা ‘কমিউনিস্ট কর্মী সংঘ’ রাখেন। এবং এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বসে সকল বামপন্থি সংগঠনগুলোকে নিয়ে ডা. সইফ-উদ দাহারের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এপ্রিল মাসের মধ্যেই আবার দেশে ফিরে আসেন এবং পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কমিউনিস্ট কর্মী সংঘের যে মুক্তিবাহিনী ছিল তারা তাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পরে রক্ষীবাহিনীর নির্মম নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম জারি করেন। ’৭৯ সালের দিকে ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে তার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ট্রেড ইউনিয়ন  ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে ডা. সইফ-উদ দাহার ও বদরুদ্দীন উমরের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক দল গঠিত হয় তারও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শ্রমিক আন্দোলনে বুর্জোয়া, সুবিধাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের অর্থে পরিচালিত এনজিওগুলোর ষড়যন্ত্র থেকে শ্রমিক আন্দোলনকে মুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা তিনি অব্যাহত রাখেন। ২০০০ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। শুধুমাত্র  ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ২০২০ সাল পর্যন্ত। গত ৬০ বছর যাবৎ শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এই সংগ্রামী নেতা অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন মুক্তিকামী মানুষের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর