× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

বিশ্ব কি দেখবে নতুন নেতা বাংলাদেশ?

অনলাইন

আশফাক জামান | ২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৯:৫৩

বাংলাদেশ রাষ্ট্র মানুষের ভিড়ে উপচে পড়া। জনাকীর্ণ। জনবহুল। বন্যায় বড় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। একাত্তরে প্রতিষ্ঠিত দেশটি ইন্টারনেট প্রযুক্তির চেয়ে খুব বেশি পুরানো নয়। এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ। এই সপ্তাহের একটি তথ্যে পুরো অঞ্চল হতবাক। তোলপাড় চলছে।
পাঁচ বছর আগে ভারত ২৫ শতাংশের ব্যবধানে যেখানে নেতৃত্বে ছিল, সেখানে এই বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে।

করোনার মধ্যে এই ভারসাম্যটি বাংলাদেশের জন্য কতোটা ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভারত যখন ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই করছে, বাংলাদেশের ডেটা-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবনী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোর ফলে তার অর্থনীতি তখন দ্রুত সচল হতে পেরেছে। তবে বিশ্ব কি এটা লক্ষ্য করবে এবং বুঝতে পারবে যে প্রথাগত উন্নয়ন অংশীদারদের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার আরও নতুন (এবং আরও স্থিতিশীল) এক অংশীদারের উত্থান ঘটেছে? এক নতুন ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ কি বাণিজ্য চুক্তির জন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে অগ্রাধিকার দেবে? এবং নয়া মার্কিন রাষ্ট্রপতি (তা সে কিনা ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যেই আসুন) বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রাধিকার হিসাবে বিবেচনা করবে, নাকি আগের মতোই সে কেবল তার পরিচিত অংশীদারদের সাথে লেপ্টে থাকবে?

অবশ্যই এই সংবাদ আগের হিসাব-নিকাশ বদলে দেবে। যার দ্বারা একটি অর্থনীতি - এবং একটি রাষ্ট্রের শক্তি বিচার করা হয়। এখন একটি দেশের মুদ্রা, রপ্তানি এবং প্রশাসনের দিকে নজর দেয়াটা আরো বড় করে দেখা নয়। বরং এর পরিবর্তে এখন তার ‘বায়োসিকিউরিটি’ সক্ষমতা দেখা হবে। এখন একে জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে দেখা হবে । কারণ এটা এমন একটা নীতির সাফল্যের বিষয়, যা অন্য কিছু তৈরি করতে বা ভেঙে ফেলতে পারে।

এটা কেবল বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয় নয়। এটা বলা যাবে না যে, বাংলাদেশের বর্তমান বিকাশে শুধু জিডিপি অবদান রেখেছে। ভারত মহামারীটি মোকাবেলায় স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই মারাত্মক অব্যবস্থাপনার পরিচয় দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

দ্রুত ও কার্যকর মহামারী ব্যবস্থাপনা কীভাবে অব্যাহত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে, চীন তার সর্বোত্তম উদাহরণ। সেখানে জনগণের ব্যয় করার সক্ষমতা ইতিমধ্যে মহামারীর পূর্ব আকারে ফিরে এসেছে এবং ত্রৈমাসিকের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
তবে চীন একটি বিরাট ব্যতিক্রম। বিশ্বজুড়ে অনেক বিজয়ী দেশের দেখা মিলবে। এবং অনিবার্যভাবে এমন কেউ না কেউ থাকবে , যারা এই বিজয়ীদের কাছ থেকে দুর্দান্ত কিছু শিখতে পারে এবং আরও ভুলত্রুটি করা থেকে নিজদের রক্ষা করতে পারে।

সামাজিক সূচকের উন্নতি এবং দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের উন্নয়নের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত অর্থনৈতিক অবস্থাটির দিকে তাকাবে। এর অর্থ এই হতে পারে যে, অনেক বৈশ্বিক শক্তি যারা ঢাকার দিকে আগের থেকে তাদের মনোযোগ আরো বাড়িয়ে দেবে।

ভারতের স্বাধীনতা থেকে এই পরিবর্তনটা প্রত্যাশিত ছিল। বোধগম্য কারণেই সাতচল্লিশের পর থেকে এই অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপই ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। এই অঞ্চলটিকে প্রায়ই ভারতীয় উপমহাদেশ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। সম্ভবত এটা ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক ভাবালুতা বা হ্যাংওভার। ব্রিটিশরা বংশ পরম্পরায় ভারতকেই এই অঞ্চলের একমাত্র উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করেছে। অথচ আধুনিককালের পাকিস্তান এবং বাংলাদেশই নয়, বর্মী ভূখন্ড ছিল ঔপনিবেশিক ভারতের অংশ।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষত বাংলাদেশে। উপজাতি বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনগুলো যা পাকিস্তানকে জর্জরিত এবং ভারতকে ক্রমশ উদ্দীপিত রেখেছে, সেগুলো এড়িয়ে ঢাকা একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং সমাজ তৈরি করেছে। এবং এমন একটি কূটনৈতিক কৌশল বজায় রেখেছে, যা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বশক্তিগুলোর ক্রীয়শীলতার মধ্যেই তাকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রেখে চলার সামর্থ্য দিয়েছে।

অর্থনৈতিকভাবে, মহামারী সম্পর্কিত শূণ্যতার মধ্যে ভারতের মাথাপিছু জিডিপির পতনের মধ্যে বাংলাদেশের একটা আচমকা উত্থান ঘটেছে, এভাবে বর্ণনা করা অন্যায্য হবে। কারণ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। এবং সম্প্রতি সে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ক্লাবে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান লক্ষ্য হলো ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়া।
বাংলাদেশের সমাজ তার অর্থনীতির মতোই প্রায় দ্রুত উন্নতি লাভ করেছে। লিঙ্গগত সাম্য এবং মহিলাদের অধিকার ক্রমশ বিকাশমান। সম্প্রতি ধর্ষণকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করা হয়েছে। এটা এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নারী-নেতৃত্বাধীন দেশটি নারীদের প্রতি সহিংসতা সহ্য করবে না, নারী বিরোধী যেমন পদ্ধতিগত সহিংসতা এই অঞ্চলের অন্যান্য বহু অংশে চলমান রয়েছে।
উল্লিখিত অগ্রগতির সবটাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর বিভাগ, এটুআইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডিজিটালাইজেশন কৌশল দ্বারা পরিচালিত। দেশজুড়ে ডিজিটাল অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি প্রবর্তিত হয়েছে। শপআপের মতো আরও প্রযুক্তিগত স্টার্টআপস আসছে, যা এই সপ্তাহেই শীর্ষস্থানীয় ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম সিকুইয়া থেকে সাড়ে ২২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। নতুন ফ্রি ইকোনমিক অঞ্চল, যেমনটা গত মাসে জাপানের সরকারের সহায়তায় স্থাপন করা (দক্ষিণ এশিয়ায় টোকিওর বৃহত্তম বিনিয়োগ) হলো, তাতে ওই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হবে বলেই প্রত্যাশিত।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বাইরেও, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ক্ষমতার পুনবিন্যাসের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু এই অঞ্চলে তার ভূমিকাকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশ তাতে সম্ভবত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। বিশেষ করে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের কারণে, সেটা আরো তাৎপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
একইভাবে মার্কিন যুক্তরাজ্যের জন্যও, লন্ডন সম্ভবত টোকিওর পদক্ষেপ অনুসরণ করবে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের বিষয়টিকে তারা অগ্রাধিকার দেবে। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের মধ্যে একটি নয়া বাণিজ্য চুক্তি ব্রিটেনের ইইউ-পরবর্তী কৌশলের শক্তিশালী সূচনা ঘটাবে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাজ্যের ভোক্তাদের উপর নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে এটা দাবি করা রেওয়াজ হয়ে উঠেছে যে, তারা কোভিড–১৯-এর পরে ‘আরও ভাল করে গড়ে তুলব’, স্লোগানটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করা। এর মাধ্যমে তারা বহু লোকের আশাবাদকে ধরেও রেখেছে। তবে কথা হলো, আমরা যখন বিশ্বকে আরও ভালভাবে পুনর্গঠন করব, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত যে, উন্নয়নের পরিকাঠামোগুলো মহামারীর আগে যেমন ছিল, তেমনটা আর সেগুলো অবশ্যই থাকবে না। এই সত্যটা দক্ষিণ এশিয়ার চেয়ে আর কোথাও এতটা বেশি নেই।

আশফাক জামান: ঢাকা ফোরামের পরিচালক এবং সিএনআই নিউজের সহ প্রতিষ্ঠাতা। ২৩ অক্টোবর, ২০২০ দি ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত নিবন্ধের অবিকল তরজমা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
এস এম ফরিদ আহমেদ
২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৭:৩১

বিশ্ববাসীকে অবাক করে আর বিরোধী রাজনীতিবিধদের যুক্তিহীন ও অগঠনমূলক সমালোচনাকে পিছে ফেলে আত্মবিশ্বাসী এবং সৎ রাজনীতিবিধের পরিচায়ক কোটি মানুষের মধ্যমনি বংগবন্ধু কোন্যা শেখ হাসিনা দিপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেছেন তার পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে। হে যোগ্য উত্তরসুরি আপনি এগিয়ে যান আপনার লখ্যে এ দেশের মুক্তিযোূ্দ্ধারা এবং কোটি কোটি সাধারন মানুষ আপনার সাথে আছে এবং থাকবে ইনশাল্লাহ। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি আজ আপ্লুত এবং গর্বিত এ-ই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে পেরেছিলাম বলে। এদেশের আপাময় জনগনকে অনুরোধ করছি আপনারা যে যেখানে আছেন সততার সাথে আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের উন্নতির জন্য কাজ করে যান। দূরর্নীতি করবেন না, এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করবেননা। মুক্তিযুুদ্ধের অনেক সৃতি এবং বিরল কয়েকটা ছবি আমার কাছে আছে যার দু'একটা ছবি বিশেষ দিবসে পত্রিকায়ও ছাপা হয় কিন্তু মানুষ জানেনা পত্রিকার ছবির সেই মানুষগুলো এখনও বেচে আছে! যদি সম্ভব হতো তবে সেইছবিগুলো (ঘটনা প্রবাহ সহ) প্রধানমন্ত্রির কাছে হস্তান্তর করার স্বপ্ন ছিল। ফরিদপুর সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপটেন নূর মোহাম্মাদ বাবুল, ডঃ মালেক এবং ব্রিটিস ওমেগা অপারেশন সস্তার দুজন সাংবাদিকও আপনাদের সাথে ছিলেন।

সুমন
২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ৭:০০

আমার মন বলছে আমরা এগোবোই এগোবোই । ভারতের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ভারতকে অনেক যোজন দুরে ফেলে দেব ইনশাআল্লাহ ।

আবুল কাসেম
২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:৫৬

সাম্প্রতিককালে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। কৃষি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, রেমিট্যান্স আয়ে এবং আরো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অপ্রতিহত অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আতংকিত হওয়ার বিষয় হচ্ছে উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বৈষম্য। আজ কেনো জানি জাতি অপরাধ প্রবণতার দিকে চলতে বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। সমাজ বিজ্ঞানীরা হয়তো সেটা সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে পারবেন। নৈতিক অবক্ষয়ের মাত্রা কতোদূর গড়ালে পিতা কন্যাকে ধর্ষণ করতে পারে ! পেটে ধরা পুত্র নিজের মা-কে হত্যা করতে পারে ! করোনা মহামারির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ধর্ষকদের উল্লাস। মৃত্যু দণ্ডের আইন করা হয়েছে। মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে একটি ধর্ষণ মামলার রায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ধর্ষকদের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছেনা। এতেই বুঝা যায় সামগ্রিক ভাবে সমাজে অপরাধের শিকড় কতোটা গভীরে দৃঢ় মূলে গ্রথিত হয়েছে। এটা একটা অশনি সংকেত। জাতির মধ্যে অপরাধ প্রবনতা রোধ করার সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে। উন্নত নৈতিকতা শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করে দিতে হবে। এবং সেটা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও রাসুল স. এর হাদিসের শিক্ষা ব্যতিত অসম্ভব। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনেক দিনের। বহু বিত্তশালীর বিদেশে সেকেন্ড হোম রয়েছে। পরিবারবর্গ বিদেশে থাকে। ছেলে মেয়েরা সেখানে সেই পরিবেশে বেড়ে উঠছে, পড়াশোনা করছে। আর আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশে উপযুক্ত শিক্ষা ও কর্মের সুযোগ না পেয়ে বিদেশমুখী হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হতাশার বলি হয়ে বিপদগামী হচ্ছে। দেশে শহর কেন্দ্রীক গড়ে উঠছে একদিকে আলিশান প্রাসাদোপম অট্টালিকা। আরেক দিকে বিত্তহীন, আশ্রয়হীন মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। নদী ভাঙা মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নদী তীর রক্ষার চেয়ে চোখ ঝলসানো শহুরে উন্নয়নে আগ্রহ বোধ হয় একটু বেশি। এসকল বৈষম্য প্রকটভাবে ধরা দিচ্ছে। একদিকে সুরম্য অট্টালিকা, আরেক দিকে নদী ভাঙা মানুষের শহর মুখী স্রোত। স্টেডিয়াম , বায়তুল মোকাররম , কমলাপুর , নিউমার্কেট , কাওরান বাজার , উত্তরা , মিরপুর, ফার্মগেটের ফুটপাত ও ওভার ব্রীজের নিচে এবং ঢাকার রাজধানী মতিঝিলের অট্টালিকার আশেপাশে ভূমিহীন ও ভবঘুরে মানুষের রাতের আশ্রয়ের চিত্র নিত্য দিনের ঘটনা। আকাশের দিকে মুখ উঁচু করে চেয়ে থাকা বিল্ডিং গুলো একটি বারের জন্যও দেখেনা তাদের পাদপাশে কতো অভুক্ত নর-নারীর ভীড়। এই চিত্র যেনো ভুপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গানটির বাস্তব প্রতিচ্ছবি। "আমি দেখেছি অনেক গগনচুম্বী অট্টালিকার সারি, তার ছায়াতেই দেখেছি অনেক গৃহহীন নর-নারী।" এখনো অভাবের তাড়নায় মা পেটে ধরা সন্তানকে বিক্রি করে দেয়। রাস্তায় বের হলে দেখা যায় এবং প্রতিদিন ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে অনেক ভিখারি। অর্থনৈতিক বৈষম্য কঠোর ভাবে রোধ করার সুস্পষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে। নাহলে চাকচিক্যময় উন্নয়ন তেমন ফলপ্রসু হবে না। উন্নত নৈতিকতা বিবর্জিত অপরাধপ্রবন উন্নয়ন আমাদের চিরায়ত নৈতিক মূল্যবোধে গঠিত সমাজের সাথে যায়না। তাই বৈষম্যহীন উন্নত নৈতিক মান বজায় রেখে অপরাধ মুক্ত উন্নয়নই কাঙ্খিত উন্নয়ন। তবুও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মুক্তি যুদ্ধের সময় বিখ্যাত যে গানটি আমাদের প্রেরণা দিতো, সেই বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গানের কথাটি এমুহূর্তে মনে পড়ছে। "একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার।"

Anisul Hoque
২৪ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:৪৫

We are able to more better economic progress if we can avoid corruption. Insallah we will do better..

অন্যান্য খবর