× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার
রায়হান হত্যায় ক্ষোভ

কনস্টেবল হারুন ৫ দিনের রিমান্ডে

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ৯:১০

পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান খুনের ঘটনায় আরেক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই কনস্টেবলের নাম হারুনুর রশীদ। সে ফাঁড়িতে রায়হানের ওপর নির্যাতনে অংশ নিয়েছিল। এ নিয়ে পুলিশ এ মামলায় দুই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করলো। গ্রেপ্তারের আগে তাদের বরখাস্ত করা হয়। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে প্রধান সন্দেহভাজন আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর। ১৩ দিনেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, রায়হান হত্যার মূল আসামি শনাক্ত।
তাকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়েছেন সিলেটের আন্দোলনে থাকা জনতা। গতকাল রায়হান হত্যার প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচির শেষদিনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলেছেন- নতুন পুলিশ কমিশনার যোগদান করলে তার সঙ্গে কথার পর এবং পুলিশি কার্যক্রম জানার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গত ১১ই অক্টোবর বন্দরবাজার বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় নগরীর নেহারীপাড়ার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিনকে। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত দুই পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে প্রথমে গ্রেপ্তার হওয়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের কাছে ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। গতকাল গ্রেপ্তার করা হয় আরেক কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে। সে সিলেট মহানগর পুলিশের লাইনে নজরবন্দি ছিল। গতকাল পিবিআই কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নেন। এরপর বিকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম শারমীন খানম নীলার আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্‌সপেক্টর মুহিদুল ইসলাম ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত হারুনুর রশীদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর হারুনুর রশীদকে পিবিআইয়ের জিম্মায় নেয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা মুহিদুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন, হারুনুর রশীদকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে থাকা টিটুর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তাকে আজ রোববার সিলেটের আদালতে হাজির করা হবে। সে আলোচিত রায়হান হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে পারে। তিনি জানান, প্রধান সন্দেহভাজন এসআই আকবরকে খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের কয়েকটি টিম আকবরের খোঁজে অভিযানে রয়েছে। তাকে পাওয়া মাত্র গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। আকবর গ্রেপ্তার হলে ঘটনা অনেটা খোলাসা হয়ে যাবে বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে রায়হান খুনের ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিচ্ছেন নিশারুল আরিফ। তিনি আজ-কালের মধ্যে সিলেটের কর্মস্থলে এসে যোগ দেবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রায়হান খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং আখালিয়া বার হামছায়াবাসীর উদ্যোগে তিনদিনের কর্মসূচির শেষদিন ছিল গতকাল শনিবার। শেষদিনে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় বিশাল মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রায়হান খুনের পর গঠিত কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে আখালিয়া, নেহারীপাড়া, মদিনা মার্কেট, নোয়াপাড়াসহ ১২টি এলাকার মানুষ মিছিল ও ব্যানারসহ এসে অংশ নেন। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আন্দোলনকারীদের শীর্ষ নেতারা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এদিকে মানববন্ধন চলার সময় মদিনা মার্কেট এলাকায় সমাবেশ করেন এলাকার মানুষ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান। বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা রেজাউল হাসান লোদী কয়েস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ইলিয়াসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা। এতে অংশ নিয়েছিলেন রায়হানের মা সালমা বেগমও। রায়হানের মা এ সময় অভিযোগ করেন- রায়হান হত্যার আসামি নিয়ে নাটক করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করেন। এদিকে কর্মসূচি শেষে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানিয়েছেন, রায়হান খুনের প্রধান সন্দেহভাজন এসআই আকবর এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আর আকবর গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। নতুন কমিশনার সিলেটে এসে যোগ দেবেন খুব শিগগিরই। তার সঙ্গে আমরা এ ঘটনা নিয়ে বসবো। যদি রায়হানের খুনি আকবরকে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি। এদিকে আন্দোলনকারী জনতাকে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করতে অনুরোধ জানান স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান। তিনি বলেন, রায়হান হত্যার ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ কারণে সবাইকে শান্ত থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। বলেন, রায়হানের খুনিকে গ্রেপ্তার করতেই হবে। তিনদিনের আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। রাতে এ নিয়ে পুনরায় নেতারা বৈঠকে বসবেন। বৈঠক থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। মেন্দিবাগে ৩ সংগঠনের মানববন্ধন: বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মমভাবে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান হত্যার খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মেন্দিবাগ অগ্রসর যুব সংঘ, নোওয়াগাঁও সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি ও সাদাটিকর যুব সংঘের যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নোওয়াগাঁও সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাছুম আহমদের সভাপতিত্বে ও মেন্দিবাগ অগ্রসর যুব সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিনের পরিচালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাক আহমদ, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন, ২৩ ও ২৪নং ওয়ার্ড বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজী মো. আব্দুল জলিল খান, মেন্দিবাগ অগ্রসর যুব সংঘের উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আলো, মো. আব্দুস সালাম, মেন্দিবাগ অগ্রসর যুব সংঘের সভাপতি আব্দুল হান্নান শরিফ, সাদাটিকর যুব সংঘের সভাপতি হুমায়ুন কবির আফাক, মেন্দিবাগ অগ্রসর যুব সংঘের সহ-সভাপতি শামিম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক কয়েস আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক বিপু আহমদ, সদস্য মামুনুর রহমান, হাবিবুর রহমান হবি, জাফর আহমদ, সুরমা যুব কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাদাটিকর যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আসলাম আহমদ, মো. শাহী, সাগর আহমদ প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর