× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৯ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

করোনার সঙ্গে নতুন জটিল ও বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুরা

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ৯:১৫
ফাইল ফটো

দেশে করোনার সঙ্গে জটিল ও বিরল রোগ মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন-এ (এমআইএস-সি) আক্রান্ত মারা যাচ্ছে শিশুরা। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ঢাকা শিশু হাসপাতালে এমআইএস-সিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দুই শিশু। তাদের মধ্যে সাত বছরের এক শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ডায়ালাইসিস শুরু হয়, অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন ছিল। শিশুটির প্রথম দুইবারের করোনার ফলাফল ছিল নেগেটিভ, তৃতীয়বার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। তখন নানান পরীক্ষাতে ধরা পড়ে শিশুটি এমআইএস-সিতে আক্রান্ত। অপর শিশুটি নয় বছরের। একই হাসপাতালেই ভর্তি ছিল এমআইএস-সি নিয়ে।
কিন্তু শিশুটির পরিবার চিকিৎসা না চালিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যায়, পরে শিশুটি মারা যায়।  বর্তমানে ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুই শিশুর একজনের বয়স ১৭ দিন, আরেকজনের বয়স দেড় বছর।স্কয়ার হাসপাতালেও নটরডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী এ রোগে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে
এবারে করোনার সঙ্গে শিশুদের নতুন জটিল ও বিরল রোগ মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিন্ড্রোম (এমআইএস-সি) ভাবিয়ে তুলেছে চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের ‘এমআইএস-সি’- পেডিয়াট্রিক মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিন্ড্রোম একটি বিরল রোগ ও জটিল রোগ, যার কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এখন হাসপাতালগুলোতে রেগুলার এমআইএস-সি’র রোগী পাচ্ছেন বলেও জানান তারা। যদি দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করা যায়, তাহলে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এমআইএস-সি নতুন এক রোগ, যেটা কোভিড-১৯ এর ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। সারা শরীরে র‌্যাশ অথবা গায়ে লাল দাগ, অস্বাভাবিক অবসাদ বা দুর্বলতা, উচ্চমাত্রার জ্বর, গাল- ঠোঁট ফাটা, চোখ-জিভ লাল (স্ট্রবেরি টাং) হয়ে যাওয়া, বমি-ডায়রিয়া, পেট-মাথা ব্যথা, হাত-পা ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়া, শরীরের রঙ বদলে নীলচে হয়ে যাওয়া, চামড়া উঠে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এর লক্ষণ ও উপসর্গ। তারা বলছেন, শিশুদের মধ্যে এই রোগটি বেশি দেখা গেলেও, অল্প বয়স্ক তরুণরাও এতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রধানত, জন্মের পর থেকে ২১ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোররা এতে আক্রান্ত হতে পারে। কোভিড-১৯-এর সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার সম্ভাবনার জন্য কোভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে। তবে, এমআইএস-সি রোগীদের দেহে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটির উপস্থিতি বা কোভিড-১৯ ডায়াগনসিস করার জন্য কোনও উপসর্গ থাকবে, তা জরুরি নয়।
বিশ্বে এমআইএস-সি প্রথম ডায়াগনসিস হয় যুক্তরাজ্যে গত ২৬শে এপ্রিল, পরে একে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতেও এটি দেখা যায়। বাংলাদেশে এ রোগী প্রথম শনাক্ত হয় গত ১৫ই মে বেসরকারি এভারকেয়ার (অ্যাপোলো) হাপসাতালে। দ্বিতীয় রোগী ২৭শে মে, তারপর থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথম আসা এদের একজনের বয়স ছিল তিন মাস, আরেকটি শিশুর বয়স ছিল দুই বছর দুই মাস। দুটি শিশুরই পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে জ্বর ছিল ১০২ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। দুই বছর বয়সী শিশুটির খিঁচুনির সঙ্গে ছিল হার্ট বড় হয়ে যাওয়া ও হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সমস্যা। সঙ্গে ছিল হাতে পায়ে লালচে দানা, চোখ- ঠোঁট লাল, বমি এবং ডায়রিয়া। এই শিশুটির কিছু অতিরিক্ত লক্ষণ ছিল, যেটা এমআইএস-সির মূল লক্ষণ। শিশুটি শকে চলে যাচ্ছিল দ্রুত, তার আইসিইউ সাপোর্ট দরকার হয়। এই শিশুটির কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিল, কিন্তু অন্য শিশুটির ফলাফল নেগেটিভ এলেও কিছুদিন পরই তার পরিবারের সব সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) জানিয়েছে, কোভিড-১৯ ও এমআইএস-সি একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কিত।
কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার কম বলে মনে হলেও, শিশুদের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ একবারে কম নয়। তিনি বলেন, একইসঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমিত শিশুদের মধ্যে মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেশন সিন্ড্রোম নামের এক জটিল অসুখের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আশঙ্কাজনক এবং তা শিশুমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার মৃদু সংক্রমণের কারণেও দেহের বিভিন্ন অঙ্গ দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা শিশুদের জন্যও প্রযোজ্য।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার নেফ্রোলজি অ্যান্ড ডায়ালাইসিস বিভাগের অধ্যাপক ডা. শিরীন আফরোজ গণমাধ্যমকে জানান, শিশু হাসপাতালে তার ইউনিটেই ১০টি শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে দু’জন মারা গেছে, ছয় জনকে রিলিজ দিয়েছেন আর দুই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ১৭ দিন, অপর শিশুর বয়স দেড় বছর। ১০ শিশুর মধ্যে একজনের কোভিড-পজিটিভ ছিল, বাকিদের কোভিড নেগেটিভ। আবার এদের মধ্যে ছয় জনের কোভিড কন্টাক্টের হিস্ট্রি আছে, বাকিদের সেটাও নেই। এমআইএস-সি’ একটি বিরল রোগ, যেটি কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে মন্তব্য করে তিনি।
এভারকেয়ার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহেরা নাজরিন বলেন, হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের মতো একাধিক অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমআইএস-সি। সেই সঙ্গে রক্তনালির প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং তা হয় অসম্ভব দ্রুত গতিতে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো অনেকটা কাওয়াসাকি ডিজিজ ও টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো। এ হাসপাতালে প্রায় ৩৫টির মতো শিশু এই রোগে চিকিৎসাধীন ছিল বলেও জানান তিনি। বর্তমানে ভর্তি আছে ১২ বছরের এক শিশু। এই শিশুদের মধ্যে মাত্র পাঁচ শিশুর করোনা পজিটিভ ছিল, বাকিরা করোনা আক্রান্তদের ক্লোজ কন্টাক্টে ছিল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১:৫৯

Two tests were negative, third one positive. Who infected the child ?

অন্যান্য খবর