× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

মহানবীর (দ:) ব্যঙ্গচিত্র ও বাক-স্বাধীনতা

অনলাইন

ড. আসিফ নজরুল | ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৩:২৬

বছর পঁচিশ আগে ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের ম্যানেজার ছিলেন গ্লেন হডল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাথে পূর্বজন্মের কাজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি একটি  হৃদয়বিদারক মন্তব্য করে বসেন। সেখানে তার সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তাকে চাকরী হারাতে হয় এবং বহু বছর তিনি সামাজিকভাবে বয়কট অবস্থায় থাকেন। তখন কিন্তু তার বাক-স্বাধীনতার কথা কেউ বলেনি।

জার্মানীতে নাৎসীদের পক্ষে কিছু বললে বা হলোকসট্ সম্পর্কে আপত্তিককর কিছু বললে শাস্তির বিধান আছে। কেউ তাদের বাক-স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না।

আমাদের দেশে মুক্তচিন্তার একজন সাংবাদিক হিন্দু ধর্মের দেবীকে নিয়ে একটি অনাকাঙ্খিত বক্তব্য দেয়ার পর তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। তখন কিন্তু আমরা তার বাক-স্বাধীনতার কথা বলিনি।
এসব উদাহরণের মানে হচ্ছে বাক-স্বাধীনতা পৃথিবীর কোথাও আনলিমিটেড বা অসীম না। পৃথিবীর বহু দেশের সংবিধান ও আইনে বাক-স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
যৌক্তিক মাত্রায় ও জনস্বার্থে হলে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য।

সমস্যা হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ:) এর বিষয়েও বাক-স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার থাকা উচিত- এটা যেন কেউ কেউ মানতে চান না। ফ্রান্সের এখনকার ঘটনার দিকে তাকালে আমরা তা বুঝতে পারি।

ফ্রান্সে তার ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে যা হচ্ছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। জেসাসকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলে তার অনুসারীদের কিছু না এসে গেলে তাকে নিয়ে তা হয়ত করা যাবে। কিন্তু আমাদের নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে তার অনুসারীদের মনে আঘাত লাগলে তা থেকে অবশ্যই সবার বিরত থাকা উচিত। কারণ বাক-স্বাধীনতার সীমারেখা টানা হয় প্রধানত মানুষের ওপর এর প্রভাবকে (যেমন মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতি, অপরাধে উস্কানি) বিবেচনায় রেখে। এসব বিবেচনায় বহু বিষয়ে যদি বাক-স্বাধীনতার সীমা মানা হয়, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ধর্মের সবচেয়ে বড় নবী সম্পর্কে তা কেন করা যাবে না?

কেউ কেউ বলছেন, ফ্রান্সে বসতি গড়লে তাদের মতো মন-মানসিকতার হতে হবে মুসলমানদের। তাদের প্রশ্ন ফ্রান্সে তাহলে থাকতে গেছে কেন মুসলমানরা? আমার মতে, এসব বলা অযৌক্তিক। কারণ, ফ্রান্সে মুসলমানরা গেছে প্রধানত সেসব আফ্রিকান দেশ থেকে যেখানে ফ্রান্সের চরম নিপীড়নমূলক ঔপনিবেশিক শাসন ছিল, যেসব দেশে তারা যুদ্ধ বাঁধিয়েছে এবং যেসব দেশে তেল-গ্যাস সম্পদের ওপর তাদের দখলদারিত্ব বজিয়ে রেখেছে। যেসব দেশের সম্পদ লুট করতে তারা গিয়েছিল সেখানে গিয়ে কি তারা তাদের সাথে মানানোর চেষ্টা করেছিল? তাহলে তাদের ভিকটিমদের একাংশ বাধ্য হয়ে তাদের দেশে বসতি গড়ে নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন বিসর্জন দিবে?

মহানবীর (দ:) ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে ধর্মীয় আবেগে তাদের প্রতিবাদ সমর্থন করি। কিন্তু ধর্মীয় উন্মাদনায় হত্যা কোনভাবে সমর্থন করি না। আমাদের নবী (দ:) নিজেই উনার নিগ্রহকারী ও অবমাননাকারীদের এমন শাস্তি দেননি। এসব হত্যা বরং নিষ্ঠুরভাবে মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নেয়, আমাদের শান্তির ধর্ম সম্পর্কে ভুলবার্তা দেয়, বিশ্বব্যাপী বহু মুসলমানকে নানান ভোগান্তিতে ফেলে।

ধর্মীয় উন্মাদনা নিন্দনীয়। তবে ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করে যারা এসব উস্কে দেন তাদের কর্মকাণ্ডও নিন্দনীয়। যেসব মুসলিম শাসক অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় থাকতে ফ্রান্সের মতো দেশে এসব কাজের প্রতিবাদ করেন না তারাও নিন্দনীয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Muhammad Shakil Sark
২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১০:১৫

100% right sir

Mohammed salim ullah
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৯:২৪

Thank you Sir for your precious commitment.

বিনয় কর্মকার
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৮:১৪

সবকিছুই নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার। এদেশের ওয়াজগুলি বোধহয় আপনি শোনেন না!!

Mahmud
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ১০:১০

আসিফ সাহেবের মা কে কেউ গালি দিলে উনার উদারতা কতটুকু থাকবে? মুহাম্মাদ (সা) কে অপমান কারীর শাস্তি কতল, এক জন প্রকৃত মুসলমানের জন্য নিজের জীবনের মায়া থেকে রসূল (সা) এর মহাব্যাত বড়, যে এই কথা বিশ্বাস করবেনা সে কেয়ামতের ময়দানে মহা বিপদের সম্মুখীন হবে,

শাজিদ
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৭:১৫

বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার বর্জন করতে হবে। বাক স্বাধীনতা মানে অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। বাক স্বাধীনতা মানে সমাজে যাহা গ্রহনযোগ্য নয় তার চর্চা করা নয়। বাক স্বাধীনতা মানে ধর্মে যাহা নিষেধ তাহা চর্চা করার জন্য উৎসাহিত করা নয়।

rafique ahamed
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৬:৩৭

now it is common phenomenon especially in the western world ... it express the least distorted ideology a very few statistic human being ...

এ এইচ ভুঁইয়া
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:০১

রাজনৈতিক, ধর্মিয় আলোচনা করা বর্তমানে খুবই বিপদজনক। আলোচনা, মন্তব্যর সিমানা পার হলে কঠিন মুল্য দিতে হয় দেশ এবং বিদেশে তাই দেখছি। আমি মনে করি কোন কিছুর উপর মন্তব্য করলে সিমানা পার হওয়ার উচিত নয়, যাতে কারো বিশ্বাসে আঘাত লাগে। এই ব্যাপারে সবার সাভধান থাকা উচিত।

Shahid
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:৪৭

বাক স্বাধীনতা আর গালাগালি এক জিনিস না। পেইন্টিং দর্শকদের আকর্ষণ বাড়ায়। তবে সে পেইন্টিং কোন যৌণাচারের হলে সেটা মানা যায় না। অন্যায়, অসত্য, বর্বরতা, নৃশংসতা, কপটতা, বৈষম্য, অবিচার, ব্যভিচার ইত্যাদি নিয়ে তথ্য পরিবেশন করা যায়। মানুষের অধিকার হানীর বিরুদ্ধে কথা বলতে না দেয়া বাকস্বাধীনতা হরণ। বাকস্বাধীনতা শুধু মুসলিম দমনে ব্যবহার করলে সে বাকস্বাধীনদের দমনেও মুসলিমদের অধিকার থাকে।

M ABUL KALAM
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:৩৫

Thank you sir for your contemporary opinion as match with public pulse

MD.SHAFIKUL ISLAM
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:২৭

World of the famous prophet Hazrat Mohammad (S).is our Muslim nation idle and gret man in the world ,so if any Muslim or a non-Muslim insults a prophet, I declare war on him

salim
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:২৭

yes sir, mr imran is favourite for you!!!!

এডঃ এস. এম. মনিরুল আ
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:২১

বিশ্বের শত কোটির উপরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসারীরা তার ব্যঙ্গাত্মক চিত্র নিয়ে যদি প্রতিবাদ জানায় এবং তা যদি ধর্মান্ধতা হয় তবে প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ফ্রান্স সরকারের এই ধরনের কর্মকাণ্ড নেতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যাওয়া। ইসলাম ধর্মের মূল কথা হল শান্তি। ইসলাম ধর্মে বলা আছে তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুসলমান হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের জানমালের চেয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাম তোমাদের প্রিয় না হয়। তাই মুসলমানদের সাথে ইসলাম এবং মোহাম্মদ এর ব্যাপারে যেকোনো ধরনের আপত্তিকর কার্য বরদাস্ত করা হবে না।

Ashraful kabir bhuiy
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:২০

Sir, 100 % True.

শুভ্র প্রকাশ হালদার
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:১৭

কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব কে নিয়ে নোংরা রসিকতা করা খুবই দুঃখজনক। এই ধরনের নোংরামি অবশ্যই অপরাধ কর্মের পর্যায়ভুক্ত ‌। ধর্ম ব্যক্তির বিশ্বাসের বিষয়। একজন ব্যক্তির ধর্ম বিশ্বাসে অপর একজন ব্যক্তির বিশ্বাস নাও থাকতে পারে। কিন্তু একজন ব্যক্তির ধর্মকে নিয়ে হাসি তামাশা করা অপর একজন ব্যক্তির বাক-স্বাধীনতার পর্যায় পড়েনা। আপনি বিশ্বাস করলেন না কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আপনি কোন ধর্মকে অপমান করতে পারেন না। যদি আপনি কোন ধর্ম অথবা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে অপমান করেন তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। এটা অবশ্যই একটি নিকৃষ্ট পর্যায়ের হীনমন্যতাসম্পন্ন নোংরা কাজ। সভ্য মানুষ এরকমটা করতে পারেন না। যারা নিজ ধর্ম ভিন্ন অন্য কোন ধর্ম বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব কে অপমান করে মজা পান তারা মানুষ নয় অমানুষ।। বাক-স্বাধীনতা মানে অন্যকে অপমান করা নয়। আসুন আমরা সবাই মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি।

Kazi Enam Uddin
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৫:১৫

ফান্স খৃষ্টান প্রধান দেশ সে দেশের রাষ্ট্র প্রধান নিকৃষ্ট গোড়ামির বেড়াজাল থেকে বের হতে না পারাই আজকের সৃষ্ট এই সমস্যা। যুক্তিক খাতিরে যদি বলি খৃষ্টান প্রধান দেশের প্রধান তাদের সংখ্যা গুরুদের পক্ষেই তো কথা বলবে। আমাদের দেশের সংখ্যা গুরুরা কেন সংখ্যা লঘুর কাছে জিম্মি? কারো কাছে এই প্রশ্নের উত্তর পাবোনা। শুধু চোখ এবং কানটা বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা সর্বান্তকরণে ভাল।

milon
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:৪৬

sir thanks for your opinion. your opinion is 110 percent correct.মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ:) এর বিষয়েও বাক-স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার থাকা উচিত-

মনিরা আযিজ
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৩:৪৫

Thanks sir

Md Babul
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৩:২৩

আপনার কথাটা একদম ঠিক।

মাহবুবুর রহমান শিশির
২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার, ৪:১১

ধন্যবাদ, আসিফ নজরুল। আপনার কথা সব সময়ই পাবলিক পাল্‌সের সাথে ম্যাচ করে।

অন্যান্য খবর