× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

ঠাকুরগাঁওয়ে পল্লীবিদ্যুতের অফিস সহায়ক বরখাস্ত

বাংলারজমিন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | ২৮ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ৮:৫৯

মিথ্যা তথ্যে চাকরি গ্রহণ, সহকর্মীর সাথে পরকীয়ার তাকে বিয়ে এবং ১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ২য় বিয়ের কারণে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস সহায়ক (পিয়ন) আব্দুল ওয়াদুদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওয়াদুদ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউপির হলুদঘরের মৃত হাফিজার রহমানের পুত্র। সে রাণীশংকৈল সাব জোনাল অফিসে কর্মরত ছিলেন।  ওয়াদুদ পঞ্চগড় জোনাল অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় ঐ অফিসের বিলিং সহকারী শামীমা আকতারের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের অবৈধ সম্পর্ক চলতে থাকে এবং শারীরিক সম্পর্কেও জড়ায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ওয়াদুদকে রাণীশংকৈল অফিসে বদলি করা হয়। তার পরেও ওয়াদুদ শামীমাকে অবৈধ সম্পর্কের জালে আবদ্ধ রাখে। সে রাতের আঁধারে পঞ্চগড় থেকে ওয়াদুদের সাথে  রাণীশংকৈলে এসে রাত কাটাতে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২৪ মার্চ শামীমাকে ২য় বিয়ে করে।
বিয়ের কাবিন নামায় উল্লেখ করে ‘শামীমা ওয়াদুদের একমাত্র প্রথম স্ত্রী’। ওয়াদুদ তার জন্ম তারিখ ২৬/১০/১৯৯৫ উল্লেখ করে। শামীমা আক্তার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের কন্যা। ওয়াদুদ তার চাকরির দরখাস্তে জন্ম সনদে ০১/০২/১৯৯৭ তারিখ উল্লেখ করে। আবার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউপির সার্ভারে ওয়াদুদের জন্ম তারিখ ২৬/১০/১৯৯১ দেখা যায়। যার জন্ম নিবন্ধন নং- ১৯৯১১০১০৬৬৭০২১২৫৯। ওয়াদুদ ২০১৩ সালের ১লা আগস্ট বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর ইউনিয়নের ধনতলা গ্রামে মৃত মোকলেছুর রহমানের মেয়ে রোজিনা বানুকে বিয়ে করে। সে ৫ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের জনক। এর পর ১৫/১১/২০১৫ সালে অফিস সহায়ক পদে আবেদনে অবিবাহিত বলে মিথ্যা তথ্য দেয়। ওয়াদুদের কাগজপত্র যাচাইয়ে এই তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তার জন্ম তারিখও তিন রকম দেখা যায়। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করে। ওয়াদুদের পরকীয়ায় বিরক্ত হয়ে তার সহকর্মীরা তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে নিজ দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হলে ওয়াদুদ তার প্রথম স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকে সে যেন সত্য প্রকাশ না করে এবং স্ত্রী ও তার ভাইয়ের কাছে ৮ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এই অনুমতি না পাওয়া গেলে তার শিশু পুত্র সহ তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তদন্ত কমিটি ওয়াদুদ ও প্রথম স্ত্রী রোজিনা বানু অনৈতিক ভাবে বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী শামীমা আক্তার ও অফিসের ১৬ জন সহকর্মীর সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ করেন। মিথ্যা তথ্যে চাকরি গ্রহণ ও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের মত ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হয়। পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির চাকরি বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ ও সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং এই স্মারক নং- ২৭.১২.৯৪৯৪.৫২৬.০১.১০.২০.৪২৭৮ অনুযায়ী ০৬/০৯/২০২০ তারিখে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়। এর আগে ওয়াদুদকে এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য সময় দেয় তদন্ত কমিটি। সেখানেও সে তার দোষ স্বীকার করে। এব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানাজার  ( জিএম)আবু আশরাফ মোঃ ছালেহ্ এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে কোন সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর