× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে একমত জাবি শিক্ষকরা!

শিক্ষাঙ্গন

জাবি প্রতিনিধি
(২ মাস আগে) নভেম্বর ১৪, ২০২০, শনিবার, ৭:১১ পূর্বাহ্ন

কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই ছুটি বেড়ে ১৯ ডিসেম্বর ছুঁয়েছে। তবে ছুটির ছুটি কবে হবে সেটা জানে না কেউ। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষা, সেশনজটের আশঙ্কা ও চাকরির বাজারে পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ এই পরিস্থিতি সাপেক্ষে অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকরা একমত হয়েছেন। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একাডেমিক কাউন্সিলে এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া করোনার কারণে আটকে থাকা ভাইভা পরীক্ষা অনলাইনে নিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এমফিল ও পিইচডির শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।  বিশেষ পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরাও  এই সুযোগ পাচ্ছে।
বেশীর ভাগ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া পরবর্র্তী বছরের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে অনলাইনে। কিন্তু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিয়ে নেওয়ার চাপবোধ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায় গত মাসে এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কীভাবে চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া যায় তার প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে বিভাগের কাছে। বিভাগ থেকে ডিন অফিস হয়ে এসব পরামর্শ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকদের টেবিলে। কলা ও মানবিকী অনুষদের পক্ষ থেকে দেওয়া সুপারিশে বলা হয় অনুষদের সকল শিক্ষক অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অনুষদের পক্ষ থেকে ৫০%/৬০% কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়নে জন্য ও ৫০%/৪০% চূড়ান্ত পরীক্ষায় অনলাইনে মূল্যায়নের জন্য রাখার প্রস্তাব রাখা হয়। এছাড়া চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য অনলাইনে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে ৮/১২/২৪/৪৮/৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর পাঠানো সুপারিশ রাখা হয়। প্লাগারিজম এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থার সুপারিশও করা হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পাঠানো সুপারিশে অনুষদের শিক্ষকরা সরাসরি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি হয়নি বলে মত দেন। তবে কিছু কিছু বিভাগ থেকে টার্ম পেপার জমা দেওয়ার প্রস্তাবনা রাখা হয়।
যোগাযোগ করা হলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক রাশেদা আখতার জানান, বিভিন্ন বিভাগের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সবাই অনলাইনে পরীক্ষা নিতে চায়। কিন্তু কী পদ্ধতি হতে পারে তা নিয়ে আমরা বুয়েট, এটুআই এবং বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে পরামর্শ করতেছি। সরাসরি পরীক্ষার জন্য অন্তত এক ব্যাচ এক ব্যাচ করে এনে পরীক্ষা নেওয়ানোর কথা ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা থাকবে কই! এছাড়া শীতের সময় করোনার প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অনলাইন পদ্ধতিই প্রাধান্য পাচ্ছে।   
যোগাযোগ করা হলে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ আমরা আসলে ভাবছি শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তম কী হতে পারে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত, তবে আলোচনা এখনো চলমান। চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ৫০%/৬০% বরাদ্দ না রেখে ৭০% রাখা হতে পারে। উপস্থিতি নাম্বার তুলে দিয়ে তার বদলে আরেকটি ১০ নাম্বারের পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। শিক্ষকরা এভাবে পরীক্ষা নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে আমি মন থেকে এটাকে একেবারে সঠিক পদ্ধতি মনে করছি না। কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে। এখন আমরা বসে থাকলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা, ডিগ্রী ও জব মার্কেটে পিছিয়ে পড়বে। তবে এখন যেমন পরীক্ষা নেওয়ার একটা দাবি উঠছে তখন অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত আসলেও একটা প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। কিন্তু অভিভাবক হিসাবে শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের  একটা প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে। সামনের একাডেমিক কাউন্সিলের আগে শিক্ষার্থীদের কোন বিকল্প প্রস্তাব থাকলে তাও দিতে পারে। তবে যেই সিদ্ধান্ত হউক দ্রুত হতে হবে। এখন যে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে তার উদ্দেশ্য কী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কারণ পরীক্ষার তারিখ ও পদ্ধতি নিয়ে সবাই অন্ধকারে। অনলাইনে পরীক্ষা নিতে গেলে যাদের ডিভাইস ও ডাটা সমস্যা রয়েছে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে হবে।
বিভিন্ন অনুষদের ডিন  ও ইনস্টিটিউট পরিচালকদের প্রধানদের নিয়ে গঠিত অনলাইন পরীক্ষার সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির প্রধান অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, যারা মাস্টার্সে ও চতুর্থ বর্ষে তাদের কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় তা নিয়ে আমরা ভাবছি। কারণ বসে থাকলে তারা গ্লোবালি পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে যাদের কয়েকটা কোর্সের পরীক্ষা বাকি তাদের আমরা কোনরকম সরাসরি এনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছি। কারণ অনলাইনে পরীক্ষার নাম্বার বণ্টন ভিন্ন হবে। একই পরীক্ষা এক এক কোর্সে এক এক ধরনের নাম্বার বণ্টন রাখা যাবে না। তবে মাস্টার্স ও চতুর্থ বর্ষ যাদের কোন পরীক্ষা হয়নি তাদের পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে আবার প্রাক্টিক্যাল কীভাবে নেওয়া হবে তাও প্রশ্ন। আর অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মক টেস্টের আয়োজন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীদের ডিভাইস নেই তাদের ডিভাইস নিতে লোন দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে।
যোগাযোগ করা হলে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, চূড়ান্ত পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া যায় ডিনরা বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হবে সামনের একাডেমিক কাউন্সিলে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shohid sadik
৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার, ৭:৪২

Online midterm/final exam is not an exam at all. Time binding CT (for 25/30 minutes-10/15 marks) may be allowed. The worst students are getting highest GPA in these types of so-called online open book examination. They are just submitting answer scripts collecting from others or even hiring BUET, DU students for preparing answers. Most of the private universities are doing these as they must survive but government university do not need such kind of farce in the name of exam at all. If needed Average of previous semesters or best 2/3 semesters may be considered.

মোহাম্মদ আরকান
১৫ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৬:৪৬

আমি অনার্স চূড়ান্ত বছরের শিক্ষার্থী। আমরা পাঁচটি পরিক্ষা দেওয়ার পরে আমাদের পরিক্ষা স্থগিত হয়েছে।আমরা সব পরিক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পরিক্ষা দিয়েছি।কাজেই ঐ পাচটি বিষয় মূল্যায়নে প্রাপ্ত ফলাফলের গড় অনুযায়ী আমাদের ফলাফল প্রদান করা হুক।

অন্যান্য খবর