× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার

সমালোচনায় আপত্তি নেই কিন্তু অপপ্রচার কেন

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, সমালোচনা হলে ভালো, এতে সরকারের কার্যক্রমের ভালোমন্দ আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু অপপ্রচার কেন? সমালোচনায় আমাদের আপত্তি নেই, ভালো কাজ করলে সেটা একটু স্বীকার করা উচিত। এছাড়া করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকার এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আগাম করোনার ভ্যাকসিন অর্ডার করেছে। যখনি এটা কার্যকর হবে, তখনি এটা যেন বাংলাদেশের মানুষ পায় আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। একটা সময় দেখা যেতো একটু হাঁচি দিলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যেতো। কিন্তু করোনা বুঝিয়ে দিয়ে গেল টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের কোনো মূল্য নেই। মনে হয় করোনাভাইরাস এসেছে মানুষকে শিক্ষা দিতে। আর করোনাভাইরাস আমাদের শিখিয়েছে দেশেই চিকিৎসা সেবা নেয়া সম্ভব।
গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিথ্যা-অপপ্রচার চালিয়ে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বিএনপি। বিভিন্ন উপ-নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেয়। নির্বাচনের আগে খুব হৈ-চৈ করে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরে পরাজয়ের ভয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। মূলত নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি এ রকম করে। তারা নির্বাচনের দিনে বাসে আগুন দিয়ে আবার সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করে। বিএনপি’র এসব মিথ্যাচার থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তো নিজেরাই স্বীকার করছে, তারাই আগুন দিয়েছে। তারা আগুন দেবে, উল্টো বলবে সরকারি দল করেছে! সরকারি দল কেন করবে? ঠিক ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে যখন আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো, তখনও কি অপপ্রচার চলেছিল সবার নিশ্চয়ই তা মনে আছে। বলা হয়েছিল, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গিয়ে মেরেছি! এইভাবে তাদের মিথ্যাচার সম্পর্কে দেশবাসীরও সচেতন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, অনেকে যা ইচ্ছা লিখতে পারেন, এতে হয়তো পত্রিকার কাটতি বাড়বে। নিজেদের একটু আঁতেল হিসাবে ভালো স্মার্ট হবেন, অথবা আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলে সংগঠনের জন্য ভালো ফান্ড আনতে পারবেন। হয়তো এনজিও’র জন্য বিদেশি ফান্ড আসবে। কিন্তু এই ফান্ড কোথায় যায়? ভবিষ্যতে এটার হিসাব নেয়া শুরু করবো। আর যারা বলেন- দেশে গণতন্ত্র নেই, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- জিয়াউর রহমান যখন হত্যা-ক্যু করে ক্ষমতা দখল করেছিল, ’৯৬ সালে দ্বিতীয়বার যখন খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এলো, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট মা- বোনদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করলো তখন কি গণতন্ত্র ছিল? করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। লোকজন সামনে এলেই মাস্ক পরতে হবে। করোনাভাইরাস পরবর্তী সময়ে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় এজন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য সংকট যেন তৈরি না হয় এজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। করোনার ভ্যাকসিনটা এখন আবিষ্কার হচ্ছে। সেটা নিয়ে পরীক্ষা হচ্ছে, গবেষণাও হচ্ছে। আমরা কিন্তু আগাম প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে বুক্‌ড করে ফেলেছি। যখনি এটা কার্যকর হবে, তখনি এটা বাংলাদেশের মানুষ যেন পায় আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সেটা চলমান থাকবে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাপ্তির জন্য রাজনীতি না করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, করোনা দেখিয়ে দিয়ে গেল যে, টাকা-পয়সা কোনো কিছুরই মূল্য নেই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ যেখানে করোনা সামলাতে হিমশিম খেয়েছে, সেখানে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম একদিনের জন্যও থাকতে দেইনি। অনেক উন্নত দেশের প্রবৃদ্ধি যেখানে মাইনাস গ্রেডে, সেখানে আমরা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হয়তো ধরে রাখতে পারিনি। কিন্তু পাঁচের ওপরে আমাদের প্রবৃদ্ধি থাকবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে। তাই তৃণমূল থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূল পর্যন্ত কমিটি করে ফেলতে হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পাওয়াটাই বড় নয়, বরং জনগণকে কি দিতে পারলাম সেটাই বড়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
দলের নেতাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিরদিন কেউ বেঁচে থাকে না, আমিও থাকবো না। কারণ আমারও তো বয়স হয়ে  গেছে। ৭৪ বছর পার হয়ে গেছে। এটা মনে রাখতে হবে। এই বয়স অনেক বেশি। যদিও বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু আমরা বাড়িয়ে ৭২ বছরে এনেছি। তারপরও তার থেকে বেশিই আছে। কিন্তু তারপরও সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ জন্মালে তো মরতেই হবে, এটা ঠিক। কিন্তু সংগঠনটাকে তো আমি চেষ্টা করেছি, আমার মতো গুছিয়ে দিতে। সেক্ষেত্রে আমি বলবো যে, আমাদের সহযোগী সংগঠন যে কয়টা আছে, খুব দ্রুত একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আপনাদের সম্মেলনগুলো করতে হবে। অনেক সম্মেলন হয়ে গেছে, করোনার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিতে পারিনি। সেই কমিটিগুলো করতে হবে। কমিটিটা হয়ে গেলে পরে তখন কিন্তু অনেক কাজ সহজ হয়। এ সময় করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি করে খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি  করোনায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে। সংগঠনগুলোকেও এটা চিন্তা করতে হবে, আমাদের একটা দায়িত্ব আছে এদেশের মানুষের প্রতি। আমাদের আওয়ামী লীগ যেমন বাংলাদেশের জনগণের জন্য দায়িত্বশীল তেমনি আমাদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগসহ সবাইকে আমি বলবো, সকলেরই কিন্তু নিজ নিজ জায়গায় নিজ নিজ এলাকাকেন্দ্রিক দেখভালের দায়িত্ব আছে। সেই দায়িত্বটাও পালন করতে হবে এবং সংগঠন আর জাতির পিতার আদর্শ ও চেতনাটাকে ধারণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতা, ভাইসহ সব হারানোর শোক ব্যাথা নিয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য। নিজের কিছু না, বাংলাদেশের মানুষের জন্য। মানুষকে আমার বাবা ভালোবেসে জীবন দিয়ে গেছেন। সেই মানুষগুলো যেন ভালো থাকে, আমরা সেটাই চাই। জাতির পিতার স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই সবাইকে সেই আদর্শ নিয়েই চলতে হবে। সবাইকে সেই আকাঙ্ক্ষাটাই পূরণ করতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া,  ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হীরু, স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর