× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার

লক্ষ্মীপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিশুমৃত্যু হার কমেছে ৯০ ভাগ

বাংলারজমিন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্র্ন ইউনিট স্ক্যানু চালুর পর শিশু মৃত্যুর হার কমেছে প্রায় ৯০ ভাগ। এদিকে বিনামূল্যে এ চিকিৎসা সেবা পেয়ে খুশি স্বজনরা। চিকিৎসকরা বলেছেন, সরকারের যে চ্যালেঞ্জ নবজাতকের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার। সেটাই সম্ভব হয়েছে। তাই সময়মতো শিশুদের এ ইউনিটে ভর্তি করা গেলে শিশু মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। তবে সিভিল সার্জন বলছেন, স্পেশাল কেয়ার ইউনিট চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে অসহায় ও দুস্থরা যেন এ সেবা পেতে পারে- সেটাই অব্যাহত রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে প্রায় এক হাজার নবজাতক শিশুকে সদর হাসপাতালে দেয়া হয়েছে বিনামূল্যোর এ সেবা। নবজাতক ও শিশুদের  জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালে চালু হয় ৮ বেডের এ স্পেশাল কেয়ার ইউনিবর্ন ইউনিট স্ক্যানু।
অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এ ইউনিটে শ্বাসরোগ, অপরিপক্ব ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়া নবজাতক ও শিশুদের ফলোআপ ও রেফারেল চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। দুইজন শিশু কনসালটেন্টের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও নার্স ২৪ ঘণ্টাই দিয়ে থাকেন এ সেবা। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এ ইউনিটে পৌঁছামাত্রই শুরু হয় প্রয়োজনীয় সেবা। স্ক্যানুতে প্রতিদিন অন্তত ২০টি শিশুকে দেয়া হয় চিকিৎসা। লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে আসে এসব শিশু। নবজাতকের স্বজনরা বলেন, যেখানে প্রাইভেট হাসপাতালে এ সেবা নিতে নবজাতকের প্রতিদিন খরচ হতো ২০/৩০ হাজার টাকা। এর আগে আর্থিক অবস্থায় খারাপ থাকায় সময়মতো চিকিৎসা দেয়া যেতনা। কিন্তু এইখানে বিনামূল্যে নবজাতকের এ চিকিৎসা সেবা নিতে পারায় খুশি স্বজনরা। এটি অব্যাহত থাকলে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও দুস্থরা এ চিকিৎসা সেবা পাবে বলে আশা করেন স্বজনরা। সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কিশোয়ার শারমিন জানান, চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার গার্ড না থাকায় অহরহ রোগীর স্বজনরা ভিতরে প্রবেশ করে। এতে করে নবজাতকের চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা পড়তে হয়। যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো যায়, সেটাই প্রত্যাশা করেন চিকিৎসকরা।  সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইছমাইল হাসান জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের নবজাতকের পাশাপাশি সকল নবজাতক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের চিকিৎসা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়া নবজাতকের জন্য এ চিকিৎসাসেবা সদর হাসপাতালে পেতো না।  বর্তমান সরকারের যে চ্যালেঞ্জ নবজাতকের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার। সেটাই সম্ভব হয়েছে। তাই সময়মতো শিশুদের এ ইউনিটে ভর্তি করা গেলে শিশু মৃত্যুর হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এর পাশাপাশি বাড়িতে কীভাবে এসব নবজাতকের চিকিৎসা দেয়া হবে, সে বিষয়ে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্‌ফার জানান, স্পেশাল কেয়ার ইউনিট চালুর পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিমাসে ৭০/৮০ নবজাতক বিনামূল্যে এ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া নবজাতকের মৃত্যুর হার কমেছে ৯০ ভাগ। ইতিমধ্যে এ চিকিৎসা সেবায় জাতীয়ভাবে পুরস্কারও পাওয়া গেছে। অসহায় ও দুস্থরা যেন এ সেবা পেতে পারে- সেটাই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর