× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার

গ্রাহক না হয়েও বিদ্যুৎ বিলের মামলা, বিপাকে শিক্ষক

বাংলারজমিন

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৭:২৫

অন্য একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের মামলায় বিপাকে পড়েছে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক। বিপদগ্রস্ত সেই শিক্ষক জ্যোতিষ চৌধুরী পিতা মৃত গিরীন্দ্র চৌধুরী  সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ডুমরা গ্রামে ক্রয়সূত্রে বাড়ি নিয়ে বসবাস করছেন।
তিনি ২০১০ সালের আগস্টে সুনীল দাস নামে একজনের  নিকট থেকে বাড়িটি ক্রয় করলে ও  বসবাস শুরু করেন ২০১৪  সাল থেকে । সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত তিনি সৌর সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সিলেট বিদ্যুৎ আদালত, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট অঞ্চল সিলেটের পক্ষ থেকে জ্যোতিষ চৌধুরী’র নামে দিরাই বিউবো আবাসিক সহকারী প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী বাদী হয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মামলার নোটিশ আসে।  নোটিশের তারিখ অনুযায়ী  তিনি সিলেট আদালতে হাজিরাও দিয়েছেন।  
মামলায় উল্লেখ রয়েছে, সুনীল চন্দ্র দাস হিসাব নং এলটি-/৯৬ গ্রাহক নং ৪৪০০৬১৪১, মিটার নং ০৩৪৯৩৬  একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক। হিসাবধারী  গ্রাহন ১০ বছর পূর্বে বাড়িটি বিক্রির পর থেকে জ্যোতিষ চৌধুরী না কি সেই গ্রাহকের মিটার ব্যবহার করতেন। এবং বিদ্যুৎ বকেয়া ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ টাকা বিল পুঞ্জীভূত করেছেন।
বিগত ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে জ্যোতিষ চৌধুরীর ঘর থেকে  বিদ্যুৎ সংযোগ ও না কি  বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে  মামলায় লেখা রয়েছে। সেই সূত্রে ব্যবহারকারী সাকুল্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য মামলা দায়ের করা হল বলে মামলায় উল্লেখিত রয়েছে। অথচ শনিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  শিক্ষক জ্যোতিষ চৌধুরী কোন দিন বিদ্যুৎ সংযোগই নেয় নি। পাশের বাড়ির লোকজন বলছে, অনেক দিন হয় জ্যোতিষ মাস্টার বাড়িটি ক্রয় করছেন সত্য, কিন্তু তিনি বসবাস শুরু করছেন ২০১৪ সালে। এর পূর্বে বাড়ি বিক্রিকৃত ব্যক্তি সুনীল দাস বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করেছেন। এবিষয়ে ভুক্তভোগী জ্যোতিষ মাস্টার বলেন, কি আর বলি, সুনীল দাসের  বাড়ি কিনে আজ আমি মামলার আসামি। বাড়ি কিনছি ২০১০ সনে, এর ৩ মাস পূর্বেই সুনীল দাস মিটার নষ্ট বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। সেই অবস্থায় আমি বাড়ি ক্রয় করি এবং ৪ বছর পর          
 ২০১৪ সনে সেখানে ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করি। তার পর ও ১০ বছরের বকেয়ার দায়ে আমার উপর মামলা। সবাই জানে সুনীল দাসের নামে বিদ্যুৎ বিল রয়েছে। অথচ আমি এখন ও সৌর সোলার ব্যবহার করছি। তিনি জানান, এই মামলা মিথ্যা বানোয়াট একটি নাটক। যার মিটার তার খবর নাই, বাড়ি কিনে আমি মামলার আসামি হলাম এটি আমার জন্য খুবই লজ্জাকর। তবে তিনি বলেন, সম্মান রাক্ষার্থে  মিথ্যা সাজানো মামলার বিপরীতে আমি ও মামলার চিন্তা করছি।
নাম প্রকাশে অনেছুক স্থানীয়  লাইনম্যানদের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা বলেন, আমাদের নাম পত্রিকায় না লিখলে যা জানি তাই বলবো। তাদের কথা রাখা হবে মর্মে, তারা জানান, সত্য হল মিটার সুনীল দাসের বিল ও তার। জ্যোতিষ মাস্টার বিদ্যুৎই ব্যবহার করে না।
কেন মামলা হলো জানতে চাইলে ২ জন বলে উঠলো এসব বুঝেন না, সব দুই নম্বরী কাজ। ১০ বছর আগে সুনীল দাস বিদ্যুৎ ব্যবহার করতো। আর যিনি বিদ্যুৎ সংযোগই নেয়নি সে মামলার আসামি। বিউবোতে এসব হয় মিটারের সঙ্গে বিলের কোন মিল নাই, ইচ্ছা মাফিক বিল দেওয়া, একজনের বিল  অন্যের নামে দিয়ে দেওয়া, আজ দেখলাম বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে ও  মামলার আসামি,  এটি কি কাণ্ড। এ বিষয়ে আবাসিক সহকারী প্রকৌশলী বিউবো দিরাই বিদ্যুৎ বোর্ড হায়দার আলীর  ফোনে  বার বার ফোন করা হলে তিনি  রিসিভ  করেননি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর