× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল

বাংলারজমিন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু একটি চক্র। শুধু তাই নয় চক্রটি দখলকৃত জমি লাখ লাখ টাকায় বিক্রিও করছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ভূমিদস্যু চক্রটি এতোই শক্তিশালী যে তাদের ভয়ে এলাকার লোক টু-শব্দও করতে পারেন না। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জমি দখলের কথা স্বীকার করলেও অস্বীকার করেছেন নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা। তবে গত বৃহস্পতিবার সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ থেকে রাজৈরের টেকেরহাট স্লুইসগেট পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক হাজার বিঘা জমি রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগ জমি-ই প্রভাবশালীরা দখল করে গড়ে তুলেছে কাঁচা পাকা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আবার কেউ কেউ সেই জমি দখল সূত্রে প্রতি কাঠা জমি লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ার চর থেকে শুরু করে মাদারীপুরের রাজৈর টেকেরহাট স্লুইসগেট পর্যন্ত গোপালগঞ্জ টেকেরহাট মহাসড়কের পাশে থাকা সরকারের কোটি কোটি টাকার জমি দখল করে সেখানে গড়ে উঠেছে ইট বালু পাথরসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি।
এ ছাড়াও টেকেরহাট গোপালগঞ্জ মহাসড়কের পাশে থাকা সরকারের প্রায় হাজার বিঘা জমির বেশির ভাগই এখন প্রভাবশালীদের দখলে। শুধু জায়গা দখলই নয় সরকারি জমি দখল করার পর দখলকারীরা সেই দখল জমি স্ট্যাম্পে দখল হিসাবে কাঠা প্রতি বিক্রি করছে লাখ লাখ টাকায়। এরইমধ্যে এমন অনেক সরকারি জমি দখল করে তা বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে গেলে প্রমাণ মেলে সরকারের শতশত বিঘা জমি অবৈধভাবে দখলে, দখলদাররা ও তাদের কর্মচারী জানান সরকারি জমি জেনেও তারা মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে সরকারের এইসব জমি দখলকারীদের কাছ থেকে দখল কিনেছেন। আবার কোনো কোনো দখলদাররা একাত্তরের ক্যামেরার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আবার কেউ কেউ সরকারি জমি জানার পরেও দখলকারীদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকারি জমি দখলের কথা স্বীকার করে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন- দখল হওয়ার কথা স্বীকার করে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাবৃন্দ বলেছেন, একদিকে সরকার উচ্ছেদের জন্য আমাদের কোনো ক্ষমতা দেননি অন্যদিকে দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদেরকে বারবার নোটিশ করেও সরকারের এই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। দখলদারদের কাছ থেকে জমি উচ্ছেদ করতে হলে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের যেতে হয়। যাহা একটি লেনদি প্রসেস। সরকার আমাদের হাতে উচ্ছেদ ক্ষমতা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যেতো। এ ছাড়া নানান জটিলতা থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারছে না। এদিকে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা পরিষ্কার করে বলেছেন, দখলদারদের কাছ থেকে কীভাবে সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে হয় তা আমরা খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের যদি না জানায় সেক্ষেত্রে আমরা জানবো কীভাবে। তারা দখলদারে এবং কোন্‌ কোন্‌ জমি বেদখল তার তালিকা দিক তারপর উচ্ছেদের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। সরকারি জমি দখলকারী যে-ই হোক না কেন কথা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিল থাকলে উচ্ছেদ তাকে হতেই হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর