× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি ২০২১, শুক্রবার
মৃত নারীর সঙ্গে যৌনাচার

ডোম মুন্নাকে যেভাবে শনাক্ত করে সিআইডি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার

সোহ্‌রাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারী হিসেবে প্রায় ৪ বছর ধরে কাজ করছে মুন্না ভগত। শুরু থেকেই মর্গে আসা মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না। ময়নাতদন্তের আগে লাশ রাতে পাহারা দেয়ার সময় এ কাজে লিপ্ত হতো। গত এক বছরে অন্তত ৬ জন মৃত নারীকে ধর্ষণ করেছে। ছয় নারীর এইচভিএস-এ (হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব) মুন্নার ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। লাশগুলো আত্মহত্যাজনিত কারণে মৃত ছিল। ১২  থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে তুলনামূলক ভালো লাশ এলেই মুন্না ধর্ষণ করতো।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি’র কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে মুন্না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডি’র অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক সৈয়দ রেজাউল হায়দার জানান, ৬ মৃত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহ্‌রাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের ডোম সহকারী মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুন্নার ডিএনএ প্রোফাইল মিলে যাওয়ায় মৃতদেহের ওপর সে যে বিকৃত যৌনাচার করেছে সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিআইডি’র কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব স্থাপিত হয়। ল্যাব স্থাপনের পর হতে ধর্ষণ ও হত্যাসহ আদালতের নির্দেশে প্রেরিত সব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা ও প্রোফাইল তৈরি করে সিআইডি। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সোহ্‌রাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত নারীর এইচভিএস-এ পুরুষ বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার চেষ্টা করে তারা। সূত্র জানায়, কোডিস নামে একটি সফ্‌টওয়্যার আমরা সার্চ দিয়ে দেখি। মোহাম্মদপুর ও কাফরুল থানার কয়েকটি ঘটনায় প্রাপ্ত ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে একই ব্যক্তির ডিএনএ বারবার ম্যাচ করছে। যেটা অনেকটাই অস্বাভাবিক ছিল। ধারণা করা হয়, একজন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা অথবা ধর্ষণজনিত কারণে আত্মহত্যা হয়েছে। কিন্তু, মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সূত্র জানায়, আমরা তখন মনে করি, কোনো না কোনোভাবে ভিকটিমদের মৃতদেহের ওপরে কোনো ব্যক্তির বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ হয়েছে। প্রতিটি মৃতদেহ মর্গে আনার পর তার মৃত্যুর  কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। সব লাশই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রেখে  দেয়া হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন ডোম নিয়মিত পাহারা দিতো। কিন্তু, এই লাশগুলোর  ক্ষেত্রে একজন ডোম সহকারী নিয়মিত ডিউটিতে থাকতো। প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহ হয় আমাদের। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বাইরে নিয়ে গিয়ে কথা বলার নামে, চা খাওয়ার ছলে তার ডিএনএ সংগ্রহ করি আমরা। সেটা সিআইডি ল্যাবে নিয়ে এসে বিশ্লেষণ করলে ওই ৬ মরদেহের ডিএনএ’র সঙ্গে ম্যাচ করে। তখন শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালায়।  বিষয়টি আসামি বুঝতে পেরে গা-ঢাকা  দেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, মৃত নারীদের ধর্ষণ করা পৃথিবীর জঘন্যতম একটি কাজ। সুস্থ ও স্বাভাবিক কেউ এমন জঘন্যতম কাজ করতে পারে না। গ্রেপ্তার হওয়া মুন্না বিকৃত মানসিকতার। তা না হলে এমন কাজ করার কথা নয়। জানা গেছে, মুন্না গত দুই-তিন বছর ধরে সহযোগী হিসেবে মর্গে কাজ করতো। তার বাবার নাম দুলাল ভগত। গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ বাজারে। সে আরও দুই-তিন জনের সঙ্গে মর্গের পাশে একটি কক্ষেই রাতে থাকতো। মুন্নাকে হঠাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ। এ কারণে তারা বৃহস্পতিবার সন্ধ?্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে, মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্না ভগত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল ঢাকা  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জানা গেছে, মুন্না ভগতকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। একই সঙ্গে মুন্না স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর