× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার
চিকিৎসায় বিদেশনির্ভরতা কমাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব, হাসপাতাল নির্মাণ করতে চায় তুরস্ক-সৌদি আরবও

বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল বানাতে চায় চীন

প্রথম পাতা

মিজানুর রহমান | ২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৯:১৯

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিদেশনির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ করতে চায় চীন। এ নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠিয়েছে  বেইজিং। ঢাকা ওই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তবে এখনো এ নিয়ে বেইজিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবটির বিভিন্ন দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কেবল চীন নয় কাছাকাছি সময়ে তুরস্ক এবং সৌদি আরবও বাংলাদেশে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সমৃদ্ধ হাসপাতাল নির্মাণে প্রায় অভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই সুলিখিত বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। তিনটি প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এর কারিগরি দিক পর্যালোচনা চলছে। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থার বিষয়টি বৈশ্বিক মহামারি করোনা সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- এমন মন্তব্য করে ঢাকার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, নানা কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা তথা হাসপাতালগুলোর ওপর অনেকের আস্থা নেই। আস্থা ফেরানোর চেষ্টার পাশাপাশি দেশে উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি অনেক প্রস্তাব এখন আলোচনার টেবিলে। করোনার কারণে বিদেশযাত্রা বিশেষত রোগীদের যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপে বিভিন্ন দেশে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণকারী বাংলাদেশিরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন। বিত্তশালী ওই রোগীদের জন্যও সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ বা থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের আদলে বিদেশি বিনিয়োগে বাংলাদেশে এক বা একাধিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেন্টার গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা ভাবছেন। সেটি একক বা যৌথ, দেশি কিংবা বিদেশি যে বিনিয়োগেই হোক না কেন। সে কারণে করেনাকালে আসা হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চীনের প্রস্তাবে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ লোকের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি ফোকাস করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণে বড় বিনিয়োগে আগ্রহী চীন। তাদের প্রস্তাবটি বহুমাত্রিক। প্রথমত: মূল হাসপাতালটি রাজধানীর উপকণ্ঠে কিংবা আশেপাশের যেকোন শহরে হতে পারে। তবে অবশ্যই শহরটির সঙ্গে বিমান, রেল এবং বাসের সরাসরি এবং নির্বিঘ্ন যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। বেইজিংয়ের প্রস্তাবে এ-ও বলা হয়েছে, বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরগুলোতেও তারা হাসপাতাল তৈরিতে আগ্রহী। তবে সেক্ষত্রে অবশ্য তাদের চাহিদা মাফিক জমি এবং নির্বিঘ্ন যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তুরস্ক কিংবা সৌদি আরব ঢাকার বাইরে যেতে রাজি নয়। তারা ঢাকার আশেপাশেই হাসপাতাল নির্মাণ করতে চায়। চীন সরকারের প্যাট্রনে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন- সিএমইসি’র হাসপাতাল নির্মাণ সংক্রান্ত বিনিয়োগ প্রস্তাবণায় বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং জেলা পর্যায়েও তারা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হাসপাতাল তৈরিতে বিনিয়োগ করতে চায়। এলাকা এবং জনসংখ্যার বিবেচনায় ওই হাসপাতালগুলোর শয্যা নির্ধারিত হবে। প্রত্যেকটি হাসপাতাল সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার শয্যার হবে। সব মিলে বাংলাদেশে প্রায় ৫০ হাজার শয্যার ৫০ থেকে ১০০টি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। চীন প্রস্তাবিত বিভাগীয় এবং জেলা শহরের হাসপাতাল হবে অনেকটা ডিজিটাল। হাসপাতালগুলোর চিকিৎসক ও নার্সের ৭০ শতাংশ থাকবে বাংলাদেশি। বাকি ৩০ ভাগ বিদেশি। তা চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়োগ হবে। প্রত্যেক হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকবে একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। যেখানে চিকিৎসক, নার্সের পাশাপাশি টেকনিশিয়ানদের নিয়মিত প্রশিক্ষণে গড়ে তোলা হবে। চীনের প্রস্তাব বিষয়ে গত অক্টোবরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় ওই বৈঠকে প্রস্তাবটি খুঁটিনাটি পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা নীতিনার্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের চিকিৎসা উন্নতকরণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস গণমাধ্যমকে বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতিবছর দেশ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো বিদেশে চলে যায়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা ভালো হলে এই টাকা দেশেই থাকতো। দেশি-বিদেশি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর আড়াই থেকে ৩ লাখ রোগী বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এর মধ্যে বড় অংশই যান ভারতে। ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম বিষয়ক প্রফেশনাল সেবা নেটওয়ার্ক গ্র্যান্ট থর্টনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- প্রায় ৪-৫শ’ কোটি ডলারের বেশি ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে বড় অবদান বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের। দেশ দু’টির যৌথ অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বই হচ্ছে বাংলাদেশি রোগীদের প্রধান গন্তব্য।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ওবাইদুল
২২ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৬:০৩

যেখানে মন্ত্রীরাই সুযোগে চিকিৎসার নামে হর-হামেশাই বিদেশে যান সেখানে অন্যরাতো যাবেই। মন মানসিকতা না বদলালে যতই আধুনিক হাসপাতাল হোক না কেন পকেটে যাদের টাকা আছে চিকিৎসার নামে বিদেশে যাবেই ।

Md Hasan Mamun
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৮:৪০

Every body listen & remember: India will create problem & will stop it.

Nafiul Sufi
২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ৬:০৪

ভারতে অজথাই যায় মানুষ। ঢাকাতে অনেক ভালো হাসপাতাল আছে ভারতের চেয়ে। ভারতে গিয়েও তো এমন কোন লাভ হয়না দেখি।

Kazi
২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ৫:২৪

যত দিন বাঙালি স্বভাব বদলাবে না [ ডাক্তার, নার্স, ব্রাদার্স, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, রিসেপসন কর্মী সহ ] ততদিন বিশ্বমানের দালাল ও পন্ত্রপাতি সজ্জিত হাসপাতাল সাজিয়ে কোন লাভ হবে । কে চালাবে উন্নত যন্ত্র ? চায়নিজ ? কে মানুষের সাথে ভদ্র ও নম্র আচরণ করবে ? চায়নিজ ? স্বভাব বদলালে চলন্ত হাসপাতাল গুলি উন্নত সেবা দিতে পারবে । দুর্নীতি পরিহার করতে হবে।

এ এইচ ভুঁইয়া
২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১২:৩৯

চায়না, সৌদির প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত, তুর্কির মতলব ভালোনা।

মিনহাজ
২০ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার, ১২:০৯

বিনিয়োগ একবার- লাভ, সেবা বিক্রির নামে রোগিদের জুলুম চালানো যায়- আজীবন।

shiblik
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১২:১৮

কোন কলম সৈনিকের বা বুদ্ধিজীবীর মন্তব্য শোনার দরকার নাই। দ্রুত চীনাদের হাঁতে হাসপাতাল নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হউক। মানুষ সুচিকিৎসা পাক।

অন্যান্য খবর