× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার

মিশিগানের ফলাফল পাল্টাতে স্থানীয় আইন প্রণেতাদের উপর চাপ

অনলাইন

হেলাল উদ্দীন রানা,যুক্তরাষ্ট্র থেকে
(২ সপ্তাহ আগে) নভেম্বর ২১, ২০২০, শনিবার, ১২:২১ অপরাহ্ন

ক্ষমতা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ছলে বলে কৌশলে তিনি হোয়াইট হাউসের দখল ধরে রাখতে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন। ব্যাটালগ্রাউন্ড রাজ্যে পরাজিত হওয়ার পরও রাজ্যের ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে শুরু করেছেন নজিরবিহীন অপতৎপরতা। তিনি যেভাবে হোক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জোসেফ বাইডেনের বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজ্যের আইন প্রণেতাদের উপর রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন ভোটের ফলাফল পাল্টাতে।
মিশিগানে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোট বেশী পেয়ে জো বাইডেন এই রাজ্যে বিজয় লাভ করেন। ৮৩টি কাউন্টি নিয়ে গঠিত মিশিগান রাজ্যের সবচেয়ে বড় কাউন্টি হচ্ছে ওয়েইন।আমেরিকার অন্যতম বড় শহর ডেট্রয়েট এই ওয়েইন কাউন্টিতে অবস্হিত। এই কাউন্টির ভোটের সার্টিফিকেশন নিয়ে প্রথমে দিনভর নাটকীয়তার পর বোর্ডের দুইজন রিপাবলিকান ক্যানভেসার শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেশনে স্বাক্ষর করেন। তাঁরা স্বাক্ষর করার পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বোর্ডের চেয়ারপারসন রিপাবলিকান মনিকা পালমারকে কল করলে পরিস্হিতি পাল্টে যায়।এরপর তাঁরা দুজনই দাবি করেন তাঁরা ইচ্ছের বিরুদ্ধে এই সার্টিফিকেশন স্বাক্ষর করেছেন।
প্রেসিডেন্ট পরে তাদের হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ জানান। মিশিগান রাজ্য হাউসের রিপাবলিকান  স্পিকার লী চ্যাটফিল্ড এবং সিনেটের মেজরেটি লিডার মাইক শিরকীকে আজ সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাক্ষাতের জন্য। ধারনা করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিশিগানের ভোটের ফল পাল্টে দেয়ার জন্য রাজ্যে এসব আইন কর্মকর্তার উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারেন।মিশিগান গভর্নর গ্রীচেন উইটমার জনগনের রায়কে পাল্টে দেয়ার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন,এমন ষড়যন্ত্রের ফল হবে ভয়াবহ এবং সুদুরপ্রসারী। তিনি বলেন,এখানে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটের যে ব্যবধান পেয়ে জিতে ছিলেন বাইডেন এবার তারচেয়ে ১৪ গুনের বেশী ভোট পেয়ে এই রাজ্যে জয়লাভ করেছেন। এসব ষড়যন্ত্র কোন ভাবেই সফল হবেন না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন তাঁর দলের অন্যতম প্রভাবশালী সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী মিট রমনি। তিনি বলেছেন ট্রাম্পের এই তৎপরতা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। তিনি বলেন,আমেরিকার একজন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমন বাজে ও অগনতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিতে পারেন এটা চিন্তার অতীত।
ট্রাম্পের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন আরেক রিপাবলিকান সিনেটর বেন সেসি। নেব্রাস্কা রাজ্যের এই সিনেটর এক বিবৃতিতে বলেন,রুডি ( ট্রাম্পের আইনজীবী )ও তাঁর বডি ( ট্রাম্প )কোন ভাবেই ইলেক্টরদের উপর তাঁদের দায়িত্ব পালনে চাপ দিতে পারেননা। ভোটের সার্টিফিকেশন প্রদান তাঁদের উপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত। তিনি বলেন,আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জাতি। কোন টুইটের প্রতি নয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন ট্রাম্পের এমন কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিব্রতকর ও ক্ষতির কারণ বলে উল্লেখ করেছেন ।
কৃষাঙ্গ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই কাউন্টিতে ডেমোক্রাট প্রার্থী জোসেফ বাইডেন মোট ৪ লক্ষ ২০ হাজার ৯শ ৮৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ট ট্রাম্প পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২শ ৩২ ভোট। এখানে বাইডেন পেয়েছেন কাষ্টিং ভোটের শতকরা ৭৩ পয়েন্ট ৩১ ভাগ এবং ট্রাম্প পেয়েছেন ২৫ পয়েন্ট ১২ ভাগ ভোট।
ওয়েইন কাউন্টির মোট রেজিষ্ট্রাট ভোটার ১৪ লক্ষ ৬ হাজার ৩শ ৫৫।ব্যালট কাষ্ট হয়েছে ৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ১ শ ২টি। এরমধ্যে নির্বাচনের দিন ভোট দিয়েছেন ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৪শ ৮ জন এবং এ্যবসেন্টি হিসেবে ভোট দিয়েছেন ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬শ ৯৪ জন ভোটার।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর