× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার
সিলেটে হেফাজতের সমাবেশে বাবুনগরী

দেশ চলবে মদিনা সনদ অনুযায়ী

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২২ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

সিলেটে শোডাউন দিলো হেফাজতে ইসলাম। সাবেক আমীর আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো তারা সিলেটে বিশাল জমায়েত করলো। তাদের এই শোডাউনে গতকাল শনিবার লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিলো সিলেট মহানগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠ এলাকা। সমাবেশের বিস্তৃতি কেবল মাদ্রাসা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেটি ছড়িয়ে পড়েছিল তালতলা থেকে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। এতে করে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলো নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট এলাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে, তালতলা এবং কীন ব্রিজ এলাকা। বিপুল সংখ্যক লোক সমাগমের কারণে ওই সব এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর ব্যঙ্গ চিত্রের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মূল মঞ্চ করা হয়েছিল রেজিস্ট্রারি মাঠের ভেতরে।
সন্ধ্যার আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। সমাবেশে ভাষণ দানকালে তিনি বলেন, মুসলিম হিসেবে আমরা সবাই ভাই ভাই। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ হচ্ছে আস্তিক ও অন্যভাগ নাস্তিক। সরকারের ভেতরেও নাস্তিকরা ঘাপটি মেরে বসে আছে। এরা হচ্ছে মূল সমস্যা। এরা শুধু হেফাজতের সমস্যা নয়, এরা সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের জন্য সমস্যা। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম কারো দুশমন নয়। কারো সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের প্রতিযোগিতা নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ হেফাজতে ইসলামের নয়। তবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে হেফাজতের অবস্থান। একমাত্র আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে হেফাজতে ইসলাম কাজ করবে। সুতরাং নবীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে যে বেয়াদবি করা হয়েছে সেটির প্রতিবাদ বাংলাদেশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে করতে হবে। রাসুলের জন্য কোটি কোটি জনতা রক্তের সাগরে ভাসতে প্রস্তুত। সমাবেশে হেফাজতের আমীর বলেন, কাদিয়ানিরা শুধু ইসলাম নয়, দেশ ও জাতির শত্রু। এরা মুসলমান পরিচয়ে মক্কা, মদিনা চলে যায়। সুতরাং কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। তাদেরকে কাফের ঘোষণার মাধ্যমে পবিত্র মক্কা ও মদিনা যাওয়ার পথ রুদ্ধ করতে হবে। এদিকে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় রেজিস্ট্রারি মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। হেফাজতের আমীর তার ভাষণে এ সম্পর্কে বলেন, সমাবেশের স্থান সংকীর্ণ হলে কী হবে, আল্লাহর আকাশে আমাদের জন্য অফুরন্ত জায়গা রয়েছে। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় আমরা নিজেদের কোরবানি দিতেও প্রস্তুত আছি। ব্যঙ্গ চিত্রের জন্য ফ্রান্সকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। আমরা ফ্রান্সের এই আচরণ মানবো না, মানছি না। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। হেফাজতে ইসলাম সিলেট জেলার নায়েবে আমীর, প্রবীণ আলেম হযরত মাওলানা শায়খ জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উপদেষ্টা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুক পীর সাহেব বরুনা, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ সিলেটের নেতারা। সমাবেশে আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, এদেশের প্রতিটি মুসলমান, প্রতিটি তরুণ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা হেফাজতে ইসলামের সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই দেশ চলবে মদীনা সনদ অনুযায়ী। তিনি বলেন, কোন দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়। হেফাজতের উদ্দেশ্য হলো রাসুল (সা.)-এর এজেন্ডা বাস্তবায়ন। ইসলাম, ঈমান আকিদা রক্ষার কাজ হেফাজত করবে। আল্লামা বাবুনগরী সিলেটবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সিলেটবাসী হেফাজতের সঙ্গে থাকেন। তিনি সিলেটের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা, ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের সিলেট জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলার নায়েবে আমীর ইউসূফ কাসেমী ৬ দফা দাবি পেশ করেন। এই দাবির মধ্যে সিলেটের রায়হান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা বলা হয়। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভার্থখলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফিজ মইজদউদ্দিন আহমদ। এদিকে হেফাজতের সমাবেশে যোগ দেননি কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সিলেটের সভাপতি, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ী। শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি সমাবেশে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দেন। সমাবেশ নিয়ে কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীর আচরণের কারণে তিনি যোগ দেননি বলে জানা গেছে। তবে তিনি জানান, হেফাজতের সঙ্গে ছিলেন, আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন। এদিকে  হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের কারণে সিলেট নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর থেকে নগরীসহ আশেপাশের এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন মুসল্লিরা। বিভিন্ন মাদ্রাসার পক্ষ থেকে মিছিল নিয়ে আসা হয় সমাবেশস্থলে। এ কারণে সিলেট নগরীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।  হেফাজতে ইসলাম সিলেটের অন্যতম নেতা হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, প্রিন্সিপাল মাওলানা সামিউর রহমান মুসা ও মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- শায়খুল হাদিস মুফতি মুজিবুর রহমান, শায়খুল হাদিস মাওলানা আউলিয়া হোসাইন, মাওলানা শায়খ আবদুল বাসির, মহানগর হেফাজত নেতা হাফিজ মাওলানা নূরুজ্জামান, মাওলানা খলিলুর রহমান, অধ্যাপক বজলুর রহমান, জেলা হেফাজত নেতা মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মাওলানা আহমদ বেলাল, মাওলানা গাজী রহমতুল্লাহ, হাফিজ আবদুর রহমান সিদ্দিকী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা নাসির উদ্দিন, কারী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব, মাওলানা এমদাদুল্লাহ, মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ,মাওলানা আবদুল মালিক কাসিমী,মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, মাওলানা মুজিবুর রহমান কাসিমী, হাফিজ মাওলানা ফখরুজ্জামান, মাওলানা এবাদুর রহমান, মাওলানা আবদুল গফফার, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা এমরান আলম, মাওলানা ইকবাল আহমদ, মাওলানা আবদুস সামাদ, মাওলানা সুহাইল আহমদ, মাওলানা মুশাহিদ খালপারী, মাওলানা আলী আমদ, মাওলানা আতিকুর রহমান, মাওলানা মুশফিকুর রহমান মামুন, মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী, মাওলানা জিল্লুর রহমান, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী, মাওলানা হাফিজ জামিল আহমদ আনসারী, মাওলানা এহতেশাম কাসিমী, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা তালিব উদ্দীন, মাওলানা আলী আহমদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা নূর আহমদ কাসিমী, মাওলানা ফাহাদ আমান, মাওলানা আবদুল্লাহ নেজামী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা হাফিজ আলী আহমদ, মাওলানা আমীন উদ্দীন, মাওলানা আবদুল মুছাব্বির, মাওলানা মাওলানা কয়েছ আহমদ, মাওলানা পীর আবদুল জব্বার, মাওলানা আফতাব উদ্দীন নোমানী, মাওলানা নাজিম উদ্দিন, মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমীর, রোটারিয়ান মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা নাজমুল হোসাইন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা কবীর আহমদ খান, হাজী আব্বাস উদ্দীন জালালী, মাওলানা ইমদাদুল হক, মাওলানা আলী আবিদীন, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, হাফিজ ফুজায়েল আহমদ, মাওলানা তারেক আহমদ, মাওলানা একরামুল হক জুনাইদ ও মাওলানা লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৯:৩৭

বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত রহমাতুল্লিল আলামীন রাসুলে আকরাম মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি কর্তা মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা সমগ্র বিশ্ব চরাচরের জন্য এক অনুপম আদর্শ এবং দয়া অনুগ্রহ ও রহমতের মূর্ত প্রতীক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, '(নবী হে,) আমি তো আপনাকে সৃষ্টি কুলের জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছি।' সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত-১০৭। আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সম্বোধন করে বলেন, '(হে মানুষ) তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল এসেছে, তোমাদের কোনো রকম কষ্ট ভোগ তার কাছে দুঃসহ, সে তোমাদের একান্ত কল্যানকামী, ঈমানদারদের প্রতি সে হচ্ছে স্নেহপরায়ণ ও পরম দয়ালু।' সূরা আত্ তওবা, আয়াত-১২৮। তাঁর চরিত্র সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'নিসন্দেহে তুমি মহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।' সূরা আল ক্কালাম, আয়াত-৪। তাঁর আদর্শ সম্পর্কে বলা হয়েছে, 'তোমাদের জন্য অবশ্যই আল্লাহর রাসুলের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ পেতে আগ্রহী এবং যে পরকালের আশা করে, সে বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে।' সূরা আল আহযাব, আয়াত-২১। রাসুলুল্লাহর স. বয়স যখন ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন তখন তাঁর প্রতি আসমানী কিতাব আল কুরআন নাজিলের সূচনা হয়। তারিখ ও সময়টি ছিলো ২১ শে রমযান সোমবার রাতের বেলায়। এরপর থেকে তিনি আরব দেশের পবিত্র মক্কা নগরীতে তাঁর জাতিকে কুরআনের দাওয়াত দিতে থাকেন। নানা চড়াইউৎড়াই অতিক্রম করে অবশেষে তিনি তাঁর সঙ্গী সাথীদের নিয়ে আল্লাহর নির্দেশে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। জন্মভূমি মক্কার লোকেরা তাঁর প্রাণ সংহার করতে উদ্যত হলেও মদীনার লোকেরা তাঁকে সানন্দ চিত্তে গ্রহণ করে। মদীনায় গিয়ে তিনি দৃঢ় ভিত্তির ওপর ইসলামী রাষ্ট্রের বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রাষ্ট্রের সব সম্প্রদায়ের লোকের সহযোগিতা ও সমর্থন না পেলে রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। যে দেশে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর বসবাস সে দেশে সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা বিশেষ প্রয়োজন। এদিক থেকে হজরতের স. নীতি ছিল- ‘নিজে বাঁচ এবং অপরকেও বাঁচতে দাঁও।’ তিনি মদিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের নিয়ে একটি সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তদনুসারে এই তিন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এটা ‘মদিনার সনদ’ নামে পরিচিত। এটাই বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে রাসুলের স. হাত ধরেই। তখন থেকেই আইয়ামে জাহেলিয়াত বা বর্বরতা ও অন্ধকার যুগের ওপর ইসলাম একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল মতবাদ হিসেবে আখ্যায়িত হয়। দূরদর্শী রাষ্ট্র নায়ক মুহাম্মদ স. মদিনা সনদের মাধ্যমে শত শত বছর ব্যাপী বংশপরম্পরায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত মদীনার আওস, খাজরাজ ও অন্যান্য গোত্রকে ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে সক্ষম হন। এবিষয়ে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, 'তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরষ্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যেওনা। তোমারা তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতপর আল্লাহ তায়ালা (তাঁর দ্বীনের বন্ধন দিয়ে) তোমাদের একের জন্য অপরের মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন। অতপর তোমরা (যুগ যুগান্তরের শত্রুতা ভুলে) আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের 'ভাই' হয়ে গেলে। অথচ তোমরা অগ্নিকুণ্ডের কিনারে দাঁড়িয়েছিলে। অতপর সেখান থেকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উদ্ধার করলেন। আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমারা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো।' সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৩। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীতি-আদর্শ এবং আল্লাহ তায়ালার আসমানী কিতাব আল কুরআনের হেদায়েত গ্রহণ করে আজকেও ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ, যুদ্ধ বিগ্রহে জর্জরিত এবং অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইরশাদ হচ্ছে, '(হে নবী,) আপনি বলে দিন, হে কিতাবধারীরা, এসো আমরা ও তোমরা এমন এক কথায় একমত হই, যা আমাদের কাছে এক ও অভিন্ন, তা হচ্ছে আমরা উভয়েই আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো গোলামী, দাসত্ব বা ইবাদাত করবোনা এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকেই শরিক বা অংশীদার বানাবো না। এক আল্লাহ ছাড়া আমরা আমাদের মাঝে একে অপরকে প্রভু বলে মেনে নেবোনা। অতপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তাদের তুমি বলে দাও, তোমারা সাক্ষী থেকো, আমরা আল্লাহর সামনে আনুগত্যের মাথা নত করে দিয়েছি।' সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৬৪। মূলত বিশ্বের মূল সমস্যা হলো দাম্ভিক, অহংকারী ও কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার শাসকরা চায়, অন্য সবাই তাদের গোলামী করুক। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে তাঁর গোলামী, দাসত্ব বা ইবাদাত করা ভিন্ন অন্য কোনো কারনেই সৃষ্টি করেননি। ইরশাদ হচ্ছে, 'আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে আমার দাসত্ব, হুকুমের গোলামী বা ইবাদত করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি।' সূরা আয যারিয়াত, আয়াত-৫৬। কিন্তু প্রভাবশালী লোকেরা যখন দুর্বল মানুষদের মাঝে বৈষম্যের দেয়াল তৈরি করে দেয় এবং তাদেরকে নিজেদের হুকুমের গোলাম বা দাসানুদাস বানিয়ে নেয় তখনই আল্লাহ তায়ালার মানুষ সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য ব্যহত হয় এবং তার ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে মানব জাতির কৃষ্টি-সভ্যতা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধির পরিবর্তে ভাঙনের কবলে পতিত হয়। প্রভাবশালীদের মধ্যে দুর্বলদের নিজেদের গোলাম বানানোর দুর্বার প্রতিযোগিতার কারণে অনিবার্যভাবে দ্বন্দ্ব সংঘাত ও যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘটিত হয়। এর একমাত্র সমাধান হলো কেউ কাউকে নিজের গোলামী করতে বাধ্য করবে না, বরং সবাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার গোলামীর সামনে মাথা নত করে দিতে হবে। তাহলে আল্লাহ তায়ালার মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সার্থক হবে এবং পৃথিবীর সকল দ্বন্দ্ব সংঘাতের অবসান হবে।

Obayed ullah
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৬:৪৩

হ্যাঁ, দেশে ইসলামী আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই, শান্তিতে থাকতে চাই।

Abu Saleh Chy
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ৪:১৪

শুধু দেশ কেন , সারা দুনিয়ার চলবে | দুনিয়ার অন্য মানুষ গুলি কি অপরাধ করেছে যে তারা বঞ্চিত হবে দয়া ঘোষণা দেন দুনিয়া চলবে মদিনা সনদে আর তা কায়েম করেন | কারণ আপনারা কাজের মানুষ তাই পারবেন | অন্যরা শুধু কথা বলে | প্রথম প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়াকে বা মিয়ানমারকে এর আওতায় আনেন ..... শুধু দেশ কেন , সারা দুনিয়ার চলবে | দুনিয়ার অন্য মানুষ গুলি কি অপরাধ করেছে যে তারা বঞ্চিত হবে দয়া ঘোষণা দেন দুনিয়া চলবে মদিনা সনদে আর তা কায়েম করেন | কারণ আপনারা কাজের মানুষ তাই পারবেন | অন্যরা শুধু কথা বলে | প্রথম প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়াকে বা মিয়ানমারকে এর আওতায় আনেন .....

রুহুল আমীন যাক্কার
২১ নভেম্বর ২০২০, শনিবার, ১:৩৫

ফ্রান্স রাষ্ট্রীয় ভাবে বিশ্বনবী রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করে দু'শ কোটি মুসলমানের কলিজায় আগুণ ধরিয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের হেফাজতে ইসলাম আয়োজন করে বিশাল এ মহাসমাবেশের। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিরলস প্রচেষ্টায় সাফল্য মন্ডিত হয়েছে এ মহাসমাবেশ তাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হলেন মাওলানা ইউছুফ আহমদ খাদিমানী ও মাওলানা এন্আমুল হক বহরগ্রামী প্রমুখ। সিলেটবাসি কাল প্রমান দিয়েছে তাদের নবীপ্রেমের। প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহনকারী, আশপাশের ব্যবসায়ী, আইন শৃংখলা রক্ষাকারীসহ সর্বস্তরের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রতিবাদ সভার সমন্বয়কারী মাওলানা ইউছুফ আহমদ খাদিমানী।

অন্যান্য খবর