× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার

অর্থনীতি নিয়ে নতুন শঙ্কা এখনই কর্মপরিকল্পনার পরামর্শ

প্রথম পাতা

এমএম মাসুদ
২২ নভেম্বর ২০২০, রবিবার

করোনাভাইরাসের মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্বের অন্যান্য দেশে শুরু হলেও বাংলাদেশেও শুরুর আভাস ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে করোনায় আক্রান্ত, শনাক্ত ও মৃতের হার বেড়েই চলেছে। ফলে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় আগামীর অর্থনীতি গতি পথ নিয়ে নতুন শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখনই কর্মপরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি না বাড়িয়ে কীভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায় সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য ঋণের চেয়ে চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক সহয়াতা দিতে হবে। আর প্রথমবারের ভুল দ্বিতীয়বার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ আমাদের দেশে প্রথম ধাক্কা বা দ্বিতীয় ধাক্কা একই রকম চলছে।
এক্ষেত্রে আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো- স্বাস্থ্যের ঝুঁকি না বাড়িয়ে কীভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা যায় সেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য আমাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যাতে সংক্রমণের মাত্রা কম হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেতে হবে সরকারকে। করোনার প্রথম ধাক্কায় বিদেশ থেকে বিশাল সংখ্যক প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছে। তারা আবারও ওইসব দেশে যেতে পারছে না। তাই তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত গ্রাম থেকে মানুষ শহরে আসে। কিন্তু করোনাকালে শহর থেকে বহু মানুষ গ্রামে চলে গেছে। তাদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতে উৎপাদনের জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়ে জীবিকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই প্রণোদনার অর্থ এসব কর্মহীন মানুষদের জন্যও বিতরণ করা যেতে পারে। কারণ এসএমই খাতে ছাড় করা প্রণোদনার অর্থ এখনো ২০ ভাগও বিতরণ করা হয়নি। তাদেরকে যাতে সেই অর্থ দেয়া যায় সেজন্য একটি ডাটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)’র বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতায় দেখেছি- সরকার সময়মতো নীতিগত পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা গেছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে সহয়তা পৌঁছানো ও সুসাশনগত সমস্যা দেখা দেয়। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সরকার কি ব্যবস্থা নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি বলে জানান তিনি। দেবপ্রিয় বলেন, প্রথম ঢেউয়ে আরেকটি বিষয় দেখেছি, সরকার যেসব আর্থিক সহয়াতা দিয়েছে সেটা খুবই কার্যকর হয়েছে ব্যাংক ঋণ সহয়াতার চেয়ে। তাই দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য ঋণের চেয়ে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে সরকারকে। তিনি বলেন, এই পিছিয়ে পড়া মানুষদের ভিন্ন ভিন্ন চাহিদা থাকে। এর মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকা, চর এলাকা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ভাসমান মানুষদের চাহিদা আলাদা আলাদা থাকে। তাই আগামীতে এদের চাহিদা অনুযায়ী সহয়াতা দিতে হবে সরকারকে। এজন্য এনজিও বা বেসরকারি খাতের সংস্থাগুলোকে এক্ষেত্রে সংযুক্ত করতে হবে। কারণ সরকারের কাছে তো তথ্য নাই। সংক্ষেপে তিনি বলেন, প্রথম শিক্ষা হলো- গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন কি শিক্ষা নিয়ে কি করলাম। দ্বিতীয় হলো- ঋণের চেয়ে আর্থিক সহয়তা বেশি দিতে হবে। তৃতীয় হলো- বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক সহয়াতা দিতে হবে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর অর্থনীতির যে পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে সেটা আরো বেশি সময় লাগেবে। হতে পারে আগামী বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে হয়তো প্রথমবারের মতো হবে না। তবে আমাদের খুবই সতর্ক থেকে কাজ করতে হবে। যাতে প্রথমবারের ভুল দ্বিতীয়বার না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, আমাদের দেশে অর্থনৈতিক দিক থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দু’টো বিষয়ের উপর নির্ভর করছে। একটা হচ্ছে- করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কতটুকু ব্যাপক হবে। দ্বিতীয়টা হলো- করোনার প্রথম দিকে আমাদের অনেক কারখানা বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে হয়তো কোনো কারখানা বন্ধ থাকবে না। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধির কঠোর অনুশাসন মেনে কারখানা চালু রাখতে হবে। তিনি বলেন, যদিও আমাদের রেমিট্যান্স বাড়ছে। কিন্তু অনেকেই বলছেন রেমিট্যান্সের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা আগামীতে নাও থাকতে পারে। কারণ আমাদের যেসব দেশে থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে সেসব দেশে ইতিমধ্যেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। তাই রেমিট্যান্সে ধাক্কা আসতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই রপ্তানি আয়ে ধাক্কা শুরু হয়ে গেছে। তাই সামগ্রিকভাবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালিয়ে গেলে অর্থনীতিতে হয়তো কিছুটা স্বস্তির হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর