× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

চোখ বন্ধ করে পুরো ঘটনার চতুর্দিক দেখতে পাই আমি

এক্সক্লুসিভ

কাজল ঘোষ
২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

আমার কাজ ছিল ‘জনগণের জন্য’। এবং এখানে আমাকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। ব্যক্তিগতভাবে বিচারক হিসেবে আমার বিচক্ষণতা দিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিই কতগুলো অভিযোগ আনবো এবং কেন, কি কারণে? যেসব দাবি উত্থাপন করা হয় সেটা আমি বোঝার চেষ্টা করেছি এবং রায় ঘোষণা করেছি অথবা কোর্ট থেকে জামিনের সুপারিশ করেছি। সবেমাত্র বিচারক হিসেবে আমার যাত্রা শুরু। এ সময় আমি শুধু কলমের একটি খোঁচায় কোনো ব্যক্তিকে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করতে পারি।   

যখন যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে আসে তখন আমি জুরি বক্সের দিকে দৃষ্টি দেই। কোনোরকম নোট দেয়া ছাড়াই আমি সিদ্ধান্ত নিই সর্বোচ্চ যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে কেন একজন বিবাদীকে অভিযুক্ত করা হবে। আমি বিচারকদের চোখের দিকে তাকাই। আমি অনুভব করি যে আমি আমার মামলা সম্পর্কে ভালোভাবে জানি এবং আমি চোখ বন্ধ করে পুরো ঘটনার চতুর্দিক দেখতে পাই।
 

আমি এক ঝলক দর্শকদের দেখে নিই। তার মধ্যে বসেছিলেন আমার প্রথম অরিয়েন্টেশনে থাকা বন্ধু অ্যামি রেজনার। তার মুখে ছিল বিশাল হাসি। আমাকে দেখে তিনি উল্লসিত ছিলেন। এখন আমরা দুজন দুজনের গন্তব্য পথে।

কোর্টে প্রতিদিনই তীব্র কাজের চাপ থাকতো। দিনের যেকোনো সময়ে প্রতিজন প্রসিকিউটরকে প্রায় শতাধিক মামলা খতিয়ে দেখতে হতো। আমরা একেবারে নিচের লেভেল থেকে শুরু করতাম। প্রাথমিক শুনানি, অপকর্ম থেকে শুরু করে সাধারণ চুরি পর্যন্ত ঘটনা শুনতে হতো। বছরের পর বছর যখন যেতে থাকলো আমার মামলা সংখ্যা ততই বাড়তে থাকলো। আস্তে আস্তে অফিসের সবই যেন আমার অধীনে চলে আসতে থাকে। কখনো কখনো আমাকে ভয়াবহ সহিংস ঘটনার বিচারও করতে হতো। এক্ষেত্রে নতুন মাত্রায় কাজ করতে হতো।  

এক্ষেত্রে আমাকে পুলিশের রিপোর্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। আমাকে করোনারের সঙ্গে বসতে হতো এবং ময়নাতদন্ত বিষয়ক ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হতো। সবসময় আমাকে এটা মনে রাখতে হতো যে, আমি কারও শিশু অথবা কোনো পিতামাতাকে নিয়ে কাজ করছি। পুলিশ যখন সন্দেহজনক কাউকে ধরতো আমি তখন পুলিশ স্টেশনে ছুটে যেতাম এবং আয়নার মতোই ঘটনার দু’টি দিকই দেখতাম এবং এগুলোর নোট নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের সঙ্গে যুক্ত করতাম।

একসময় আমি জঘন্য সব অপরাধের বিচার কার্যে যুক্ত হই। আমাকে খুনিদের বিচার কার্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। এক শুক্রবার বিকালে আমাকে একটি ব্রিফকেস দেয়া হলো যার মধ্যে ছিল নব্বইয়ের দশকের প্রযুক্তির পেজার, কলম, প্যাড, দণ্ডবিধির একটি বই এবং জরুরি প্রয়োজনীয় নম্বরের একটি তালিকা।
পরের সপ্তাহে পেজারটি যখন বন্ধ হয়ে গেল এর অর্থ দাঁড়ালো এই যে, যখনই কোনো সহিংস ঘটনা ঘটবে তখনই ঘটনাস্থলে আমাকে ছুটে যেতে হবে। স্বভাবতই এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, মধ্যরাত থেকে ভোর ছয়টার মধ্যে আমাকে বিছানা ছাড়তে হবে। আমার যে দায়িত্ব ছিল তাতে তথ্যগুলো যথাযথভাবে সংগৃহীত হয়েছে এটা নিশ্চিত করা। সেক্ষেত্রে সব রকম যথাযথ সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হতো। যাতে বিষয়গুলো আদালতে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আমি ভিকটিম এবং তার পরিবারকে ব্যাখ্যা করতাম যে, ঘটনা সম্পর্কে আমরা যা জানি এবং আদালতে যা প্রমাণিত হবে এই দুয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। গ্রেপ্তার করা এবং অভিযুক্ত করার মধ্যে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। এর যেকোনো একটি করার জন্য আপনাকে আইনগতভাবে বৈধতা অর্জন করতে হবে।  

আমি আদালতে আমার কক্ষে ছিলাম। আমি এর ছন্দ বুঝতে পারছিলাম। আমি এর মানসিক সমস্যা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলাম। ধীরে ধীরে আমি যৌন সমস্যা নিয়ে বিচার কার্যের দিকে মনোনিবেশ করি। ধর্ষক এবং শিশুদের ওপর বলাৎকারীদের জেলে ঢুকিয়ে দিতাম। এটা ছিল কঠিন, হতাশাজনক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এমন কিছু মানুষ ছিল যাদের সম্পর্কের প্রতি আস্থা রাখার কারণে অনেক কন্যাশিশু এবং বালক তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে, অপদস্থ হয়েছে এবং অবহেলার শিকার হয়েছে। ঐসব কন্যাশিশু এবং বালকদের সঙ্গে আমি সাক্ষাৎ করেছি। এসব মামলায় বিশেষ করে কিছু জটিলতা আছে যা অভিযোগ গঠনের জন্য প্রয়োজন। তার মধ্যে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির সাক্ষ্য অন্যতম। ওকল্যান্ডের হাইল্যান্ড জেনারেল হসপিটালে এমন নির্যাতনের শিকারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনেকদিন কাটিয়েছি আমি। তাদের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি করেছি এটা জানতে যে, তাদের অবস্থাটা কী এবং তাদের অভিজ্ঞতাটা কেমন?

কিছু নির্যাতিতের ক্ষেত্রে তারা সরাসরি সাক্ষ্য দিতে অথবা প্রকাশ বক্তব্য দিতে অনীহা করতো। এমনকি গোপনীয়ভাবেও এ নিয়ে কথা বলতে চাইতো না। এইসব যৌন সহিংসতার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং ক্ষোভের। এতে তাদের যে মানসিক ক্ষত হয় সেই ক্ষত থেকে তাদের উদ্ধারের জন্য অসাধারণ সাহস যোগানো প্রয়োজন। বিশেষ করে এমন সময় যখন আদালত কক্ষে তার ওপর নির্যাতনকারীও উপস্থিত। অথবা ঐ নির্যাতনকারী তার পরিবারের একজন সদস্য অথবা বন্ধু। তাদেরকে এটা মনে রাখতে হয় বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবে। তাদের কাজ হলো জুরিদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করা যে, আপনি সত্য বলছেন না। যারা এটা করতে পারেন নি তাদের ভেতর আমি কখনো দোষ দেখি না।  
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি ‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর