× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার
হাসপাতালে যেতে অনীহা, বেড়েছে ফোনকল

ঘরে ঘরে করোনা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

শীত আসতে না আসতেই বেড়েছে করোনার প্রকোপ। বেড়েছে শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু। সরকারি হিসাবে যে তথ্য দেয়া হচ্ছে বেসরকারি হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন এমন রোগী এখন ঘরে ঘরে। জ্বর, সর্দিকাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শারীরিক দুর্বলতাসহ নানা উপসর্গে ভুগলেও করোনার পরীক্ষা করাচ্ছেন না অনেকে। সাধারণ রোগের মতো ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়ে উঠছেন। যাদের অবস্থা বেশি গুরুতর হয় তারাই কেবল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষা না করে থাকায় অনেকে অজান্তেই করোনা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন।
এতে আশপাশের মানুষের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অবস্থা এভাবে চললে শীতে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তারা বলছেন, পরীক্ষা বাড়াতে হবে। যাদের উপসর্গ আছে শুরুতেই তাদের করোনা টেস্ট করে নিতে হবে। এতে নিজে সুরক্ষিত থাকা যাবে একই সঙ্গে অন্যকেও নিরাপদে রাখা যাবে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার সংখ্যা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে গত ৫ই সেপ্টেম্বর সংক্রমণ শনাক্তের হার ছিল ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। মাঝে সংক্রমণ শনাক্তের হার ১০ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। ওদিকে সংক্রমণ বাড়ার তথ্য পাওয়া যায় এ সংক্রান্ত ফোন কলের তথ্যেও।

ফোনকল বেড়েছে: করোনায় হঠাৎ বেড়েছে টেলিমেডিসিন সেবায় ফোনকল! হটলাইনে গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর, জাতীয় কলসেন্টার ৩৩৩ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সেবা পেতে মোট ২,৬১২ ফোন কল এসেছে। যেটা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত সর্বমোট করোনা সংক্রান্ত তথ্য পেতে মোট ফোনকল এসেছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫টি। এমআইএস বিভাগের হটলাইনে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসক বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে রোগীদের চিকিৎসকগণ বিনামূল্যে প্রতি কর্ম দিবসে এই হটলাইনে করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা দিয়ে থাকে। সংকটকালীন বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র একটি ফোনকলেই মিলছে জরুরি এ স্বাস্থ্য সেবা। এদিকে বলা হয়ে থাকে জাতীয় কলসেন্টার ৩৩৩ এ কল করে যে কেউ যেকোনো সময় নিতে পারবেন এই স্বাস্থ্যসেবাটি। কিন্তু ৩৩৩ হটলাইনে সেবা পাওয়ার সুযোগ খুবই কম বলে অভিযোগ রয়েছে সেবা গ্রহীতাদের। চলতি বছরের ৮ই মার্চ দেশে প্রথম তিনজন নোভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন।

এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ফোনকলের সংখ্যা। আইইডিসিআর সূত্র জানায়, শুরুতে চারটি হটলাইন নম্বর চালু ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যু হার বাড়ায় পরবর্তীতে ১৯টি, সর্বশেষ ২৫টি পর্যন্ত হটলাইন বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এখন একটি মাত্র নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে সবাই করোনা সংক্রান্ত সেবা পেয়ে থাকে। আইইডিসিআর সূত্র জানায়, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়াতে ফোনকলের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে। অফিসিয়ালি ১০৬৫৫ নম্বর দিয়ে অনেক মানুষ একত্রে এখানে সেবা নিতে পারেন। আইইডিসিআরের হটলাইন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি যুক্ত হয়েছে ইতিমধ্যে। সর্বশেষ ২৫টি হটলাইন সেবা চালু করলেও চাহিদার ওপর নির্ভর করে এর সংখ্যা বাড়ানো কমানো হয়।     
এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর উপদেষ্টা ও করোনার জাতীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সম্প্রতি মানুষের মধ্যে একটু উদ্বেগ বেড়েছে। সংক্রমণের হার এবং মৃত্যুর সংখ্যাটাও বেশি চলতি সপ্তাহে। বর্তমানে আইইডিসিআরের একটি হটলাইনে অনেকে ফোন দিয়ে কথা বলে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। হটলাইনে ফোনকল বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার প্রথম ঢেউ শেষ না হলে দ্বিতীয় ঢেউ যে হবে না বিষয়টি তা নয়। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে গেলে সর্বনিম্ন যে হার ছিল তার চেয়ে দেড়গুণ বেশি হতে হবে দুই সপ্তাহ শেষে। ইতিমধ্যে প্রথম সপ্তাহ চলে গেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহেও যদি বাড়তে থাকে এবং তৃতীয় সপ্তাহে দেড়গুণের জায়গায় পৌঁছায় এবং সেটা যদি চার সপ্তাহ টানা থাকে তাহলে বলবো যে, সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়ে গেছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবুল কাসেম
২২ নভেম্বর ২০২০, রবিবার, ৮:২৬

গত প্রায় ৮ মাস আগে মার্চ মাসের ১৮ তারিখে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হলে জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক অভয়বাণী শোনা গেছে। আসমানী আজাব করোনার ভয়াল থাবা আচমকা নাজিল না হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা কখনো প্রকাশ হতোনা। আরো প্রকাশ হতোনা অনেকের ফুলের মতো পবিত্র চরিত্রের বিপরীত দিকের কদর্য রূপ। স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যপক দুর্নীতির চিত্র জাতি কোনো দিন জানতে পারতোনা। এরপর দেখা গেলো করোনা চিকিৎসার তোড়জোড়। সরকারি হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য রাত দিনের দীর্ঘ লাইন অনেকবার পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয়েছে। অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ এবং হাসপাতালে একটি সিটের ব্যবস্থা না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় এম্বুলেন্সে বা গাড়িতে মৃত্যুবরন করার খবরও পত্রিকায় উঠে এসেছে। স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক অধিকার থেকে একটি স্বাধীন দেশের মানুষ কিভাবে বঞ্চিত হতে পারে তাও করোনার আশীর্বাদে জানা গেলো। এদিক থেকে বিবেচনা করলে, করোনাকে গজবের পরিবর্তে আশীর্বাদই বলা যায়। ব্যপক ও সীমাহীন দুর্নীতির দরুন এদেশের জনগণের মৌলিক অধিকারগুলো অবলীলায় গলধকরণ ও হজম হয়ে যাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে যথাযথ করোনা চিকিৎসা না পাওয়ার এবং টেস্ট বিড়ম্বনার খবর যখন প্রকাশ হতে শুরু করে তখন মানুষ বাধ্য হয়ে হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ে। ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি জপতে জপতে ঘরের মধ্যে অবস্থান করেই নিজের দায়িত্বে চিকিৎসা নিয়ে কেউ সুস্থ হয়েছেন, কেউ মারা গেছেন। আমার নিজের ভাতিজি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মারা গেছে। আমার আরেক ভাতিজা ঘরে অবস্থান করেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। আমার জানামতে অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে ঘরেই চিকিৎসা নিয়েছেন। আমি ও আমার স্ত্রী আগষ্টের শেষের দিকে করোনার সকল উপসর্গ নিয়ে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। ৩৩৩ নম্বরে কয়েকদিন ফোন দিয়েছি। তাঁরা বলেন, আপনি এটা চাইলে ১ চাপুন। ওটা চাইলে ২ চাপুন। এভাবে বলতে বলতে শেষে তাঁদের একজন অপারেটরকে দেওয়ার কথা বলেন এবং অপেক্ষায় থাকতে বলেন। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শেষ পর্যন্ত লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কারো সাড়া মেলেনি। তবুও আল্লাহ চাহেতো হতাশ হইনি। আল্লাহর উপর ভরসা করেছি এবং মনোবল সুদৃঢ় রেখেছি। কারণ আমি ধরে নিয়েছি সরকারি চিকিৎসা আমি পাবোনা। আর বেসরকারি বা প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য ও সাধ্য আমার নেই। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার দয়া ও রহমতের উপর নির্ভরশীল হওয়া ও ভরসা করা ছাড়া আমার গত্যন্তর ছিলোনা। আমি এমনিতেই বংশগত এ্যজমা রোগী। তাই আগে থেকেই আমি ইনহেলার টিকামেট ২৫০ গ্রহণ করতাম। সাথে (মন্টিকুলাস্ট) এম-কাস্ট ১০ ও ফেক্সো ১৮০ সেবন করতাম। অতিরিক্ত শুধু হিসেবে তখন জ্বরের জন্য নাপা সেবন করেছি। আর গরম পানিতে মেনথল দিয়ে ভাপ নিয়েছি। ভাপ নেয়ার সময় বুক ও শ্বাসনালী থেকে প্রচুর কফ বেরিয়ে আসতো। তখন নিজেকে হালকা অনুভব হতো। নিয়মিত লবঙ্গ, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচের গুঁড়া পানিতে জ্বাল দিয়ে পান করেছি। অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন আর থার্মোমিটার দিয়ে নিয়মিত জ্বর পরিমাপ করেছি। অক্সিজেন ৯০ এর উপরে ছিলো আর জ্বর ১০০° ডিগ্রির মতো ছিলো। তবে মাথা থেকে পা পর্যন্ত শরীরের প্রচণ্ড ব্যথা ছিলো পাগল করার মতো। শীত ও শরীর ঘামাতো পর্যায়ক্রমে। আর সর্বোপরি সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি। এতে প্রায় ২০-২৫ দিনে আমরা আল্লাহর রহমতে সুস্থ বোধ করি। একথাগুলো এজন্যই বলেছি, যদি কারো কোনো কাজে লাগে। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডব প্রায় শুরু হয়ে গেছে। কিছুটা ভয় থাকা ভালো। তবে উদ্বিগ্ন ও হতাশা ভালো নয়। ভয় থেকে সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বন করা যায়। আর উদ্বিগ্নতা ও হতাশা সর্বনাশা। আর দুশ্চিন্তাও বাদ দিতে হবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা ও আস্থা রাখতে হবে। আমার মনে হয় নিজের ঘরেই অবস্থান করে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে পারলে করোনার চিকিৎসা সম্ভব। তবে পরিবারের অন্য সুস্থ সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে। সত্যিই আমাদের দৈন্যতা যে, আমরা আমাদের জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। আর দুর্ভাগ্য যে, জনগণ উপযুক্ত ও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত।

Mohammed Faiz Ahmed
২৩ নভেম্বর ২০২০, সোমবার, ৮:১১

সাধারন মানুষ কি করবে হাসপাতালে গেলে ভুয়া রিপর্ট,অপ্রয়জনিয় তেস্ত,পালতুতামি এমন পর্যায়ে গেছে মানুষ হাস্পাতালে না গিয়ে ঘরেই চিকিসা নিতে বাদ্য।

অন্যান্য খবর