× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার

দুদকের মামলায় ইশরাক যে কারণে খালাস পেলেন

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৪ নভেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম খালাস দিয়ে এ রায় দেন। আদালতে ইশরাকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট ফরহাদ হোসেন নিয়ন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, রায়ে আদালত বলেছেন ইশরাক হোসেনকে সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নোটিশটি যথাযথভাবে দেয়ার সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিটে যে ঠিকানার কথা বলা হয়েছে, উল্লেখিত ঠিকানায় কোনো নোটিশ জারি হয়েছে বলে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। যেই ঠিকানায় নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেছেন, সেটি ছিল মূলত বিবাদী ইশরাক হোসেনের পিতার বাড়ি। আদালত এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমার মক্কেলকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এটি মূলত ২৬/১ ধারার দুদক আইনের একটি মামলা।
এর অর্থ হচ্ছে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু নোটিশের কোনো জবাব দেয়া হয়নি। আমরা আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, দুদক আমার মক্কেলের কাছে কোনো নোটিশই পাঠায়নি। এসব কারণে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
দুদক সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতে রিট ও লিভ টু আপিল থাকার কারণে মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন আটকে ছিল। আদালতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান। তার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদন দেয়। সকাল ১০টার দিকে ইশরাক হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। এরপর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আসামি ইশরাকের উপস্থিতিতে বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। রায় পড়া শেষে বিচারক দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা শেষে আদালত থেকে বের হয়ে ‘ভি চিহ্ন’ দেখান ইশরাক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকে আদালত একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আমরা বিচার বিভাগে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। ২০০৮ সালে আমি ছাত্র থাকাকালীন তখনকার অবৈধ সরকার এই মামলা করে। গত ১৩ বছর ধরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এতদিন আমরা বলে আসছি। সেই জায়গায় আমি বলবো আজকে জনগণের বিজয় হয়েছে, দেশবাসীর বিজয় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার যে দিকেই বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে নিয়ে যাক না কেন, এখনো বিচার বিভাগে, রাষ্ট্রে, সৎ ন্যায়পরায়ণ লোকজন রয়েছেন। আজ যে বিচারক এ রায় দিয়েছেন, আমি মনে করি তিনি সৎ সাহস নিয়েই এ রায় দিয়েছেন।
দুদকের করা এই মামলায় ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২০শে জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন আদালত। দুদকের পক্ষ থেকে ৬ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। ২০১৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর ইশরাকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের ২৫শে নভেম্বর বিএনপি’র নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দু’জনের বিরুদ্ধে সম্পদবিবরণী নোটিশ জারি করে দুদক। সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্দিষ্ট সময়ে জমা না দেয়ায় ২০১০ সালের আগস্টে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন দুদকের ওই সময়ের সহকারী পরিচালক মো. শামছুল আলম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাদেক হোসেন খোকার স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পত্তি রয়েছে তার ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের নামে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তাদের সম্পত্তির হিসাব বিবরণী জমা দেয়ার জন্য সাতদিন সময় দিয়ে দুদক নোটিশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে তারা তা দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর