× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার

৮ বছরেও ক্ষতিপূরণ মেলেনি তাজরীনে হতাহতদের

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে
২৫ নভেম্বর ২০২০, বুধবার

সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ১১৩ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন শত শত শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি হতাহতের পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। এখনও সম্পন্ন হয়নি জড়িতদের বিচার। এ ঘটনার ৮ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন আহতদের অনেকেই। অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার ভোগ করছে স্বজন হারানোর  বেদনা। পঙ্গু সদস্যদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছে অনেক পরিবার।
গতকাল সকালে নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহতরাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাজরীন গার্মেন্ট কারখানার প্রধান ফটকের সামনে নিহত শ্রমিকদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ও আহত স্বজনদের অনেকেই। তাজরীন ট্রাজেডিসহ সকল শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবির পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। এসময় ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অবিলম্ব্বে ক্ষতিপূরণ ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তি দাবি করেন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। এদিকে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে ও আশে-পাশে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। বাংলাদেশ শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরবিন্দু বেপারী বলেন, এটি কোন দুর্ঘটনা ছিল না বরং ছিল পরিকল্পিত ঘটনা। কারখানায় আগুন লাগার পরও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি না দিয়ে উল্টো সব গেইট বন্ধ করে দেয়। সেখানে আটকা পড়ে ১১৩ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়। আহত হয় অনেকে। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ৮ বছরেও শাস্তি নিশ্চিত হয়নি দোষীদের।
এখনও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। সেদিনের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহত শ্রমিক খোরশেদ আলম বলেন, সেদিনের ভয়াবহতা চোখের সামনে এখনও ভেসে ওঠে। দিনটির কথা সবাই ভুলে গেলেও আমরা ভুলতে পাবর না। আমরা তাজরীনের শ্রমিকরা সব দিক থেকেই বঞ্চিত। দুর্ঘটনার সময় প্রিয়জন, স্বজন, সহকর্মী ও হাত-পা হারিয়ে আট বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। যা আর্থিক সহায়তা পেয়েছি এটি ক্ষতিপূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। সরকার, বিজিএমইএ ও বিকিএমইএসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাজরিন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর