× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
রায়হান হত্যা

ওসি সৌমেন বরখাস্ত

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে
২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার

রায়হান হত্যার পর এস আই আকবর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হলেন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র। তার সঙ্গে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এস আই আব্দুল বাতেন ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কুতুব আলীও। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের তদন্ত রিপোর্টের আলোকে গতকাল বুধবার বিকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের তরফ থেকে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে, এখনো জানা যায়নি রায়হান হত্যার পর এস আই আকবর কার নির্দেশে পালিয়েছিল। আটকের পর খাসিয়াদের কাছে বলেছিল- একজন পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে পালিয়েছিল। ওই পুলিশ কর্মকর্তা কে- সেটি এখনো অজানা। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কী সেই পুলিশ কর্মকর্তা ওসি সৌমেন মিত্র। কারণ- ঘটনার দিন কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) সেলিম মিয়া ছুটিতে ছিলেন।
ওসি’র দায়িত্ব পালন করছিলেন সৌমেন মৈত্র। সিলেট মহানগর পুলিশের তরফ থেকে গতকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে খোলাসা করে কিছুই বলা হয়নি। তাদের বরখাস্তের বিষয়টি জানিয়ে সিলেট  মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান এডিসি বিএম আশরাফ উল্লাহ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ঘটনার পর আকবর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কিনা- সেটি খুঁজে বের করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে ঘটনার দিন কোতোয়ালি থানার দায়িত্বে থাকা ওসি সৌমেনসহ তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, বরখাস্ত হওয়া ওসি সৌমেনকে রংপুর রেঞ্জে ও এস আই আব্দুল বাতেন ও এএসআই কুতুব আলীকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। গত ১১ই অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে এসে নগরীর নেহারীপাড়ার যুবক রায়হান উদ্দিনের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় পুলিশ। ওই দিন ভোরে গুরুতর অবস্থায় রায়হানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে বিষয়টি গণপিটুনি বলে স্বীকার করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর ঘটনার দিন বিকালে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবর সহ তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদেরকে সিলেট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হলেও ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিলেট ছেড়ে পালায় এস আই আকবর হোসেন ভুঁইয়া। আকবর কোম্পানীগঞ্জের কমলাবাগান এলাকা দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পাড়ি জমায়। তবে, ঘটনার ২৮ দিনের মধ্যে সিলেট জেলা পুলিশ সোর্স মারফতে ভারত থেকে ধরে নিয়ে এসে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে গত ১০ই নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আকবরকে। এর আগে অবশ্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহী সহ আরো তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে পলাতক এস আই আকবর পুলিশের হাতে আটকের আগে খাসিয়া ও বাঙালিদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জানিয়েছিল- এক সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে পালিয়েছে। ওই সিনিয়র কর্মকর্তা তাকে দুই মাস পালিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন- দুই মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিরে আসতে। আকবর গ্রেপ্তারের পর নিজেদের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম প্রশ্ন তুলেছিলেন- ওই সিনিয়র কর্মকর্তা কে- সেটি তিনি দেখতে চান। এবং তিনি ওই সিনিয়র কর্মকর্তার গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। আকবর সহ পুলিশের ৫ সদস্য এখন সিলেট কারাগারে রয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর