× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার

যেভাবে অমরত্বের পথে দিয়েগো

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার
২৭ নভেম্বর ২০২০, শুক্রবার

জীবনে উৎসবের দিন নির্ধারণ সম্ভব। কিন্তু অনিবার্য আঘাতের নয়। সেই আঘাতই এলো বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার তিগ্রে থেকে। নিজের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৬০ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন ফুটবলের অমর জাদুকর। তিনি ছিলেন ফুটবল আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। আবার ব্যক্তি মানুষ হিসেবে অনন্য এক বর্ণাঢ্য চরিত্র। অসাধারণ হয়েও তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষ, অতি প্রিয়জন। ম্যারাডোনা মানুষের কাছে অতি প্রিয়জন হয়ে ওঠেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে।
অমরত্বের পথে তার পদচারণা শুরু সেই আসরেই। অসাধারণ পারফরমেন্সে শিরোপা এনে দেন দেশকে। দলের প্রত্যেক ম্যাচের প্রতিটি মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। গোল করেন ৫টি, গোলে সহায়তা করেন ৫ বার। চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টিনাকে একাই বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন। আরেকবার রানার্স আপের দুঃখ নিয়ে ফিরেছেন। নিজের শেষ বিশ্বকাপে কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা
১৯৭৭ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৬ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় এই কিংবদন্তির। ১৮ বছর বয়সে ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে (১৯৭৯) অংশগ্রহণ করেন। ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেন ম্যারাডোনা। নিজে কুড়ান আসর সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কার।

প্রথম বিশ্বকাপ
যুব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ততদিনে নাম কুড়িয়েছেন ম্যারাডোনা। ১৯৮২’র স্পেন বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তার। তখন তিনি স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনারও ফুটবলার। তাই স্পেনের দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ম্যারাডোনা।

প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে তেমন জ্বলে উঠতে পারেননি ম্যারাডোনা। পরে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় পর্বে ইতালি ও ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় তার দল। ব্রাজিলের বিপক্ষে লাল কার্ড পান আর্জেন্টিনার নাম্বার টেন। এই বিশ্বকাপ থেকে হাঙ্গেরির বিপক্ষে জোড়া গোলই তার অর্জন।

গৌরবের ৮৬’র বিশ্বকাপ
বলতে গেলে একাই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে উপহার দেন ম্যারাডোনা।
এই বিশ্বকাপে তিনি প্রথম গোল করেন ইতালির বিপক্ষে, গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় খেলায়। আর কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবে প্রমাণ করেন তিনি। এই ম্যাচে একইসঙ্গে ইতিহাসের সেরা গোলটি করেন ছয়জন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে। আবার সবচেয়ে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ খ্যাত গোলটাও করেন এই ম্যাচেই। ওই সময় ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে আর্জেন্টিনা এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল করেন। ফাইনালে, প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানির ডাবল-মার্কিং ভেদ করে মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ এক পাস দেন সতীর্থ বুরুচাগাকে। এ থেকে জয়সূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা। এসতাদিও আসতেকার ১১৫,০০০ দর্শকের সামনে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৩-২  গোলে জয় পায় আর্জেন্টাইনরা।

১৯৯০ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার কান্না
ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে ইতালি যায় আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক ম্যারাডোনা আবারও। তবে এবার ম্যারাডোনার সেই জৌলুশে সামান্য ভাটা গোড়ালির ইনজুরির কারণে। প্রথম পর্বে গ্রুপে কোনমতো তৃতীয় স্থানে থেকে দ্বিতীয় পর্বের টিকিট পায় আর্জেন্টিনা। ১৬ দলের পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্লডিও ক্যানিজিয়ার একমাত্র গোলে জয় পায় তারা। মাঝমাঠ থেকে ডিফেন্সচেরা পাসে গোলটি বানিয়ে দেন ম্যারাডোনাই।

কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে জিতে সেমিতে আয়োজক দল ইতালির মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। এবারও পেনাল্টি শুটআউটে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায় ম্যারাডোনার দল। বিতর্কিত পেনাল্টিতে আন্দ্রেস ব্রেইমার করা একমাত্র গোলে জয় পায় পশ্চিম জার্মানি। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনার কান্নার দৃশ্য ছুঁয়ে যায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

কলঙ্কের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ
১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা দুইটি খেলায় মাঠে নামেন। এর মধ্যে গ্রিসের বিপক্ষে তিনি একটি গোলও করেন। ড্রাগ টেস্টে এফিড্রিন ডোপিং-এর কারণে তাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নিজের আত্মজীবনীতে ম্যারাডোনা ঐ টেস্ট সম্পর্কে বলেছিলেন যে, তার ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক তাকে এনার্জি ড্রিংক রিপ ফুয়েল দেয়ার কারণে তিনি ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়েছেন। তার দাবি ছিল, পানীয়টির ইউএস সংস্করণ আর্জেন্টিনার সংস্করণের মতো নয়। যার মধ্যে ঐ রাসায়নিক দ্রব্যটি ছিল এবং তার প্রশিক্ষক অনিচ্ছাকৃতভাবে তা ব্যবহার করেন।

ফিফা তাকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে এবং আর্জেন্টিনাও দ্বিতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৯১ খেলায় ৩৪টি গোল করেন ম্যারাডোনা।

কোচিং ক্যারিয়ার
বুটজোড়া তুলে রাখার পর ম্যারাডোনা মন দেন কোচিংয়ে। এখানটায়ও খুব একটা সফলতা পাননি। ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে শূন্যহাতে বিদায় নিয়ে যোগ দেন আমিরাতের ক্লাবে। সেখানেও আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন ম্যারাডোনা। অল্পদিনের মাথায় নতুন ঠিকানা আর্জেন্টিনার ক্লাব দেপোর্তিভোর সহকারী কোচ হিসেবে। ভালো লাগেনি তার আরেকজনের অধীনে থাকতে। চলে যান মেক্সিকোতে। সেখাকার নামকরা ক্লাব দোরাদোসের কোচ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু মনের মতো দল সাজাতে না পেরে ২০১৯ সালের দিকে আবারও দেশে ফেরেন। এবার স্বদেশি ক্লাব জিমনেশিয়ার হয়ে কাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে দলকে সেভাবে সাফল্য এনে দিতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তার সুনাম। ক্লাবের মালিকও তাকে আপন করে নেন। তবে শরীরটা যেন আর এগোতে চায় না। সর্বশেষ মস্তিস্কের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে সফল অস্ত্রোপচারও হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর