× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

সেই রেফারির স্মৃতিতে ম্যারাডোনার ‘বিখ্যাত’ ও ‘কুখ্যাত’ গোল

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক
২৮ নভেম্বর ২০২০, শনিবার

চোখ-ধাঁধানো পারফরম্যান্স দিয়ে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ মাতিয়ে রেখেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনা। শেষ পর্যন্ত সে আসরের শিরোপাটাও উঠেছিল ম্যারাডোনারই হাতে। মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পাশাপাশি অকল্পনীয় এক বিতর্কের জন্ম দিয়েও স্মরণীয় হয়ে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ৮৬ বিশ্বকাপেরই কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়েছিলেন হাত দিয়ে। যেটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। সে ম্যাচেই ম্যারাডোনা করেছিলেন অবিশ্বাস্য এক গোল। যে গোলকে বলা হয় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’। সেই ম্যাচের রেফারি ছিলেন আলি বিন নাসের।
গত বুধবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল গ্রেট। সাবেক-বর্তমান ফুটবলারদের তো বটেই, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে ভাসছে ম্যারাডোনার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও বর্ণিল জীবন। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে ম্যারাডোনার বিখ্যাত ও কুখ্যাত গোলের বর্ণনা করেছেন সেই ম্যাচের রেফারি বিন নাসের।



বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিউনিশিয়ান রেফারি ফিরে গেলেন ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে। বিন নাসের প্রথমে বর্ণনা দিয়েছেন গোল অব দ্য সেঞ্চুরির, ‘ম্যারাডোনার মতো একজনকে রেফারিং করার সময় চোখ সরানো যায় না। সে (ম্যারাডোনা) মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ছুটছিল। আমি ছিলাম পেছনে। ইংলিশ ফুটবলাররা তিনবার ফেলে দেয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ম্যারাডোনা তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে বল নিয়ে দৌড়াচ্ছিল। সে ৫০ মিটার দৌড়েছিল। বক্সের বাইরে থেকে আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম সে কিভাবে তিনজনকে কাটাল। আমার তখন মনে হচ্ছিল এই বুঝি ফাউল করে ফেলে দেয়া হবে ম্যারাডোনাকে। আমি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’ ডিফেন্ডারদের বাঁধা এড়িয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে সেদিন ম্যারাডোনা করেছিলেন শতাব্দীর সেরা গোল। বিন নাসের যোগ করেন, ‘ইংলিশদের প্রথম তিন চ্যালেঞ্জে যদি আমি বাঁশি বাজাতে পারতাম। তাহলে এই জাদুকরী মুহূর্তটা আমাদের দেখা হতো না। ম্যারাডোনার ওই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি।’



এই গোলের আগেই ম্যারাডোনা করেন বিতর্কিত গোল। ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে যা ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। সেটারও স্মৃতিচারণ করেছেন বিন নাসের। তিনি বলেন, ‘আমার পরিস্কার মনে আছে। ইংলিশ ডিফেন্ডার (স্টিভ হজ) বল পেয়ে পেছনে বাড়িয়েছিল। গোলরক্ষক শিলটন এবং ম্যারাডোনা শূন্যে ছিল। তাদের পিঠ ছিল আমার দিকে। সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভের দিকে ছিল তাদের মুখ।’ ওই গোলের পর সঙ্গেই সঙ্গেই ইংলিশ ফুটবলাররা বিন নাসেরের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরে ছুটে যান সহকারী দোচেভের কাছে। তাতে লাভ হয়নি। প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও দোচেভের কাছে সবুজ সংকেত পেয়েই গোলের বাঁশি বাজান বিন নাসের। তিনি বলেন, ‘প্রথমে কিছুটা অনিশ্চিত ছিলাম। আমি দোচেভের দিকে তাকাই। সে মাঝমাঠ অবধি ছুটে এসেছিল এবং গোল নিশ্চিত করে। ওই সময় ফিফার গাইডলাইন ছিল, সহকারী নিজের চেয়ে ভালো পজিশনে থাকলে তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়া। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ওটা শতভাগ গোল ছিল।’



বুলগোরিয়ান দোচেভ মারা গেছেন ২০১৭ সালে। বিন নাসেরের বয়স ৭৬ ছাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে নাসেরের সঙ্গে দেখা করতে তিউনিশিয়া সফর করেছিলেন ম্যারাডোনা। পাঁচ বছর আগের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন নাসের, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, ১৯৮৬’তে আর্জেন্টিনা নয়। বিশ্বকাপ জিতেছিল ম্যারাডোনা। উত্তরে ম্যারাডোনা বলেছিল, তুমি না থাকলে আমার শতাব্দী সেরা গোল করা হতো না।’ সেদিন নিজের স্বাক্ষর করা একটি জার্সি উপহার দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমার চিরদিনের বন্ধু নাসের।’

আরো পড়ুন:ম্যারাডোনাকে এখনো ক্ষমা করেননি শিলটন

২০০৫ সালের ২২শে আগস্ট এক টেলিভিশন শোতে এসে ম্যারাডোনা স্বীকার করেন, বলে তার মাথা ছোঁয়নি, বরং হাত লেগেছে। তবে তার সুকৌশলী উত্তর ছিল এমন, ‘ম্যারাডোনার খানিকটা মাথা আর ঈশ্বরের খানিকটা হাত, এ দিয়েই গোল!’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর