× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তি স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পাতা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখবেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, হাবিবে মিল্লাত এমপি, ডা. আব্দুল আজিজি এমপি, মমিন মণ্ডল এমপি, তানভীর ইমাম এমপি ও রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩শ’ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেল সেতু।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের চারটি ট্রেন দৈনিক ৮ বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদা বাড়তে থাকায় সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেয়ায় কমিয়ে দেয়া হয় সেতুর উপরে চলাচলকারী ট্রেনের গতিসীমা।
বর্তমানে ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত স্বল্প গতিতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ডেডিকেডেট রেল সেতু।  

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলাদাভাবে আরেকটি সেতু নির্মাণ, এটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনারা জানেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধন করতে গেলে আমাদের ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে সেতু সংযোগ করতে হবে। ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে-এই দুটি সেতু যদি আমরা সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বাড়বে। ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে, মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। আমাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।

রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু রেল সেতু হবে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকসহ প্রায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। সেতুর উভয় প্রান্তে প্রায় দশমিক শূন্য পাঁচ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, প্রায় ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট অ্যান্ড এবং লুক ও সাইডিংসহ মোট প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। ফলে ট্রেনগুলোর রানিং টাইম আনুমানিক ২০ মিনিট কমবে, পরিচালন ব্যয় কমবে এবং রেলওয়ের আয় বাড়বে। এ সেতুতে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এ রেলসেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। ওই বছরই সেতুটি ট্রেন চলাচলের জন্য চালু করা হবে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশ দ্বার সিরাজগঞ্জ। মহাসড়ক দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে প্রতিদিন বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর, খুলনা, কুষ্টিয়াসহ  উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার পরিবহন চলাচল করে। ফলে এই মহাসড়কের গোলচত্বরজুড়ে প্রায়ই লেগে থাকে যানজট। যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও চালকদের। এই পথের দুর্ভোগ কমাতে এবং পণ্য পরিবহন সহজ করতে সেতুটির গুরুত্ব অনেক।

জাপানের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি জাইকা বাস্তবায়ন করছে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা আর জাইকা দিচ্ছে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর