× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার

ম্যারাডোনাকে কেন এভাবে শ্রদ্ধা জানালেন মেসি?

খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২০, সোমবার

প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। তার গায়ে বার্সেলোনার নিয়মিত জার্সির নিচে তিনি পরেছিলেন আরেকটি জার্সি। আর ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে এল বিশেষ মুহূর্তটি। দুর্দান্ত এক শটে গোল আদায় করলেন লিওনেল মেসি। পরক্ষণেই গায়ে থাকা বার্সার জার্সি খুলে ফেললেন তিনি। বেরিয়ে এলো লাল-কালো জার্সিটি। দুই হাত শূন্যে তুলে বিড়বিড় করে কিছু একটা বললেন বার্সা অধিনায়ক। আর কিছু নয়, ফুটবল লিজেন্ড দিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতি এভাবে শ্রদ্ধা জানালেন আর্জেন্টাইন আরেক গ্রেট ফুটবলার।
রোববার স্প্যানিশ লা লিগায় নিজ মাঠে ওসাসুনাকে ৪-০ গোলে হারায় মেসির বার্সেলোনা।
খুদে বয়সে লিওনেল মেসির ফুটবলে যাত্রা শুরু আর্জেন্টিনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবেই। ক্যারিয়ারে বল পায়ে ম্যারাডোনা মাঠ মাতিয়েছেন নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবের জার্সি গায়েও। রোববার মেসির গায়ে ছিল ম্যারাডোনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি।
ম্যারাডোনাকে সম্মান জানাতে নিওয়েলসের জার্সিই কেন পরেছেন মেসি? সেটির ব্যাখ্যা জানিয়েছে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা। ২০১৩ সালে আর্জেন্টাইন দৈনিক টিওয়াইসি স্পোর্টসে মেসির এক সাক্ষাৎকারে লুকিয়ে প্রশ্নটার উত্তর। সাত বছর আগে টিওয়াইসি স্পোর্টসে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছিলেন, নিওয়েলসে ম্যারাডোনার প্রথম ম্যাচের দিন বাবার সঙ্গে গ্যালারিতে গিয়েছিলেন মেসি!
দিনটা ছিল ৭ অক্টোবর, ১৯৯৩। বার্সেলোনা, নাপোলি আর সেভিয়ার হয়ে ইউরোপ অধ্যায় শেষ করে নিওয়েলসের জার্সি গায়েই আবার আর্জেন্টিনায় ফিরেছেন ম্যারাডোনা। ইকুয়েডরের ক্লাব এমেলেকের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে সেদিন নিওয়েলসের জার্সিতে অভিষেক ছিয়াশি বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। গ্যালারিতে অন্য সবার সঙ্গে সেদিন শিহরিত ছিলেন ছয় বছরের মেসিও।
লিওনেল মেসি বলেন, ‘খুব বেশি কিছু মনে নেই আমার, খুব ছোট ছিলাম তখন। তবে এমেলেকের বিপক্ষে তার অভিষেকের দিন মাঠে ম্যারাডোনাকে খেলতে দেখেছিলাম আমি।’
দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হাত ধরে সেদিন নিওয়েলসের জার্সি গায়ে প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন ম্যারাডোনা। গ্যালারিতে তখন ‘মারাদোওওওওওও...’ ‘মারাদোওওওওওওও...’ চিৎকারে কান পাতা দায়। ম্যাচটা সেদিন নিওয়েলস জিতেছিল ১-০ গোলে, ৬৭ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটা ম্যারাডোনারই। গোলের ঢংয়েও দুজনের আশ্চর্য মিল!
ওসাসুনার বিপক্ষে রোববার ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মেসি বক্সের বাইরে থেকে গোলটা করেছিলেন বার্সার হয়ে, সেদিন নিওয়েলসের হয়ে ম্যারাডোনার গোলটাও ছিল বক্সের বাইরে থেকে শটেই। দুজনই গোলটা করেছেন কয়েকজন ডিফেন্ডারকে এড়ানো দৌড়ের পর।
ম্যারাডোনা ১০ নম্বর জার্সিই পরতেন নিওয়েলসে, ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচে বার্সার জার্সির নিচে নিওয়েলসের ১০ নম্বর জার্সি পরে নামেন মেসি। সেদিন ম্যারাডোনা যেরকম জার্সি পরেছিলেন, ঠিক সেরকম জার্সি। গোল পাওয়ার পর বার্সার জার্সিটা খুলে রাখলেন মেসি, তার গায়ে নিওয়েলসের ১০ নম্বর জার্সি। প্রার্থনার মতো ভঙ্গিতে দুহাত ওপরে তুললেন, নিওয়েলসের জার্সিতে ম্যারাডোনাও এভাবে গোল উদ্যাপন করেছিলেন।
নিওয়েলসে ম্যারাডোনার অধ্যায়টা খুব বেশি সময়ের নয়। মাত্র সাতটি ম্যাচ খেলেছিলেন, এর মধ্যে দুটি প্রীতি ম্যাচ। সাত ম্যাচে ম্যারাডোনা গোল করেছিলেন ১টি, করিয়েছিলেন আরও ১টি। কিন্তু ওই সময়ের স্মৃতিটাই মেসির মনে গেঁথে আছে।
নিওয়েলসে ম্যারাডোনার অভিষেক ম্যাচটা অবশ্য আরেকটি কারণেও মনে থাকবে মেসির। ইংলিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জোনাথান উইলসন একটি তথ্য কদিন আগে জানিয়েছেন। সেটি এই, নিওয়েলসে ম্যারাডোনার অভিষেক ম্যাচের বিরতিতে এক ছোট্ট ছেলেকে বল নিয়ে কারিকুরি করতে মাঠের মাঝে নিয়ে আসা হয়। সেই ছেলের নাম? লিওনেল মেসি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর