× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান ও সুইডিশ দূতের সাক্ষাৎ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
৪ ডিসেম্বর ২০২০, শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দুই দেশের দূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিনডে’র সাক্ষাৎকালে সুইডিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)-এ বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে ব্যবসা করার অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছি। সেখানে অনুকূল পরিবেশ এবং সুযোগ সৃষ্টি করেছি। কাজেই সুইডেন এখানে বিনিয়োগ করতে পারে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং সুইডেনের কূটনেতিক সম্পর্ককে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করে বলেন, সুইডেন ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশকে ঋণ সুবিধা প্রদান করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বিগত ১২ বছরে দেশের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচি, যেটি দেশের দারিদ্র্যবিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নের বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ব্যবস্থার প্রতি তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাস পেয়েছে, যদিও সরকার পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে আদেশ বাতিলের কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প’র উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ মহামারি উদ্ভূত দুঃসময়েও কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল না করার জন্য সুইডেনকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফভেনের সঙ্গে টেলিফোন আলাপ এবং সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তার জনগণের জন্য ইতিমধ্যেই কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সংগ্রহে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সুইডিশ রাষ্ট্রদূত আলেকজাদ্রা বার্গ ভন লিনডে উল্লেখ করেন, সুইডেন অনেকগুলো সবুজ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধন করেছে এবং বাংলাদেশকে সেগুলো ব্যবহারেও তিনি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সুইডেন জেন্ডার সহিংসতা এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায়। রাষ্ট্রদূত নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কিত বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং তাকে দায়িত্ব পালনকালে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের ১৯৭১ সালের নৃশংসতা অমার্জনীয়: এদিকে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে যে নৃশংসতা চালিয়ে ছিল তা বাংলাদেশ ভুলতে এবং ক্ষমা করতে পারবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, একাত্তরের ঘটনা ভুলে যাওয়া বা ক্ষমা করা যায় না। ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেনস ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বই থেকে সবাই ১৯৪৮-৭১ সময়ের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জানতে পারবে। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র উর্দু সংস্করণ পাকিস্তানে অন্যতম বহুল বিক্রীত বই। ‘এটি অন্য দেশের পাশাপাশি পাকিস্তানেও বহুল পঠিত।’ হাইকমিশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভ কামনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিলে তিনিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের উপদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের উন্নয়নের বিস্ময় সম্পর্কে জানতে। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক ফোরাম নিষ্ক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি দুই দেশের মধ্যকার পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক (এফওসি) কার্যক্রম সক্রিয় করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে এখানে কোনো বাধা নেই। নতুন দূত বলেন, পাকিস্তান কোনো বাধা ছাড়াই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন যে, তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি অন্য দেশের সঙ্গে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখায় বিশ্বাস করেন। বিশ্ব মঞ্চে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রী নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব পালনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর