× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, শনিবার

৬ বছরেও বিরোধ মিটেনি করিমগঞ্জ আওয়ামী লীগে

বাংলারজমিন

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
৫ ডিসেম্বর ২০২০, শনিবার

নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বেসামাল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ১৮ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি ‘শাসন’ করছে দলটিকে। এর মধ্যে উপজেলা সম্মেলনকে ঘিরে গত ৬ বছর ধরে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। এই দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ও সম্মেলন। এ রকম পরিস্থিতিতে আহ্বায়ক কমিটির সিংহভাগ সদস্য সভা ডেকে আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে পদ থেকে ‘অব্যাহতি’ দিয়ে ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক’ এর নেতৃত্বে পৃথক কমিটির মাধ্যমে সমাবেশ ও সম্মেলন আয়োজন করছে। অন্যদিকে আহ্বায়ক মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক সমাবেশ ও সম্মেলন আয়োজন করছেন। গতকাল সকালে করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক’ হাজী মো. আব্বাছ উদ্দিন আহম্মেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ওমর ফারুক তালুকদার। এতে অন্যদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবিএম সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০২ সালে কেন্দ্র থেকে নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে আহ্বায়ক করে করিমগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগের ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ ১৮ বছরেও এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি। এই সময়ে আহ্বায়ক কমিটির ১৪ জন সদস্য মারা গেছেন এবং একজন বহিষ্কৃত হয়েছেন। কিন্তু পদ আঁকড়ে রেখে আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ এই দীর্ঘ সময়ে তার অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দলকে সর্বনাশের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। তার কারণে দল আজ বহুধা বিভক্ত এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত। আহ্বায়ক কমিটির জীবিত ৩০ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জন সদস্য সভা করে গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের জন্য নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে আহ্বায়কের পদ থেকে ‘বহিষ্কার’ করে আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হাজী মো. আব্বাছ উদ্দিন আহম্মেদকে ‘আহ্বায়ক’ এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা সম্মেলন সমাপ্ত করার জন্য একটি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ এই মুহূর্ত থেকে বিরত না হলে যেকোনো মূল্যে করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ তাকে প্রতিহত করবে। নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদকে করিমগঞ্জ আওয়ামী লীগ থেকে বিতাড়িত না করলে এখানে আওয়ামী লীগের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয় বলেও লিখিত বক্তব্যে বলা হয়। করিমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ তাকে ‘অব্যাহতি’ দেয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যারা আজকে সংবাদ সম্মেলন করেছে তারা কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন না। তারা জাতীয় পার্টির স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে আওয়ামী লীগে খবরদারি করে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টা করছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর