× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, রবিবার
বিবিসি’র প্রতিবেদন

টিকা এলেই কি জীবন আগের অবস্থায় ফিরবে?

শেষের পাতা

মানবজমিন ডেস্ক
৬ ডিসেম্বর ২০২০, রবিবার

করোনাভাইরাসের টিকার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে বিশ্ব। এরই মধ্যে কমপক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানের টিকা আশাপ্রদ খবর দিয়েছে। এগুলো হলো ফাইজার, মডার্না ও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা। বৃটেনে সরকারি পর্যায়ে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ফাইজারের টিকা। যুক্তরাষ্ট্রে সহসাই ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এসব টিকার অনুমোদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করেছেন। হয়তো ভাবছেন, করোনার টিকা নেয়া হলে লাইফ গ্যারান্টি। আর কোনো ভয় নেই।
কিন্তু আসলেই কি তাই? করোনার টিকা কি আমাদের জীবনকে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে? অনেকে এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, করোনার টিকা হয়তো জীবন রক্ষা করবে। কিন্তু জীবনকে আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে না। এই টিকা নেয়ার মানে এই নয় যে, একেবারে খুব তাড়াতাড়ি মুখ থেকে মাস্ক খুলে ফেলা যাবে। এ নিয়ে অনলাইন বিবিসি একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, আধুনিক বিশ্বে টিকাকে মেডিকেল সায়েন্সের সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যুকে থামিয়ে দেয় টিকা। সুরক্ষা দেয় ২০টিরও বেশি জীবনহানীকর রোগ থেকে। এক প্রজন্ম আগে শিশুদের অসুস্থতার যে হার ছিল এখন তা কমে গেছে অনেক বেশি। জলবসন্ত এক সময় বিশ্বে লাখ লাখ মানুষকে মেরে ফেলেছে। এখন সেই রোগকে চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব অর্জন সফল হতে সময় লেগেছে কয়েক দশক। আর এখন আমরা সবাই খুব স্বল্প সময়ে কার্যকর একটি করোনাভাইরাসের টিকা প্রত্যাশা করছি, যা একই রকম ফল দেবে।
এখন পর্যন্ত যেসব টিকার তথ্য সামনে এসেছে তাতে বলা হয়েছে শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি কার্যকর সেগুলো। এর অর্থ হলো প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে একজনকে এই টিকা কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। এর ফলে অনেকেই মনে করছেন খুব তাড়াতাড়ি আমরা সামাজিক দূরত্বকে এড়িয়ে যেতে পারবো না। মুখ থেকে ছুড়ে ফেলতে পারবো না মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসব টিকা দ্রুত অনুমোদন ও টিকা প্রয়োগ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদের অনেকে মনে করছেন আগামী বসন্তে জীবন হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন ভিন্ন। তারা বলছেন, বিশ্বজুড়ে অনেক বিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা দিচ্ছেন টিকা নিয়ে। তাতে বলা হচ্ছে, প্রথমেই এই টিকার সরবরাহ থাকবে সীমিত পর্যায়ে এবং তা প্রয়োগ করা হবে নির্বাচিত গ্রুপের ওপর। এক্ষেত্রে প্রথমেই টিকা দেয়া হতে পারে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ এবং সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের। কিন্তু অরক্ষিত থেকে যাবে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী। ফলে জীবন খুব সহসাই তার আগের অবস্থানে ফিরে যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরোস ঘেব্রেয়েসাস বলেন, একটি টিকাই আমাদের সব করে দেবে না। অন্য বিষয়গুলোকেও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। শুধু একটি টিকা একটি মহামারিকে বন্ধ করে দিতে পারে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর