× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৭ মার্চ ২০২১, রবিবার

তুমি বুঝতে পারছো এটা কত বড় দায়িত্ব?

এক্সক্লুসিভ

কাজল ঘোষ
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার

আমার বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পেলাম। সমর্থকদের আবেগপ্রবণ মনে হচ্ছিল। আমি যখন স্টাফ রুমে ফিরি তখন জানতে পারি আমার ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু ক্রিসেটি ও ভেনেসা ওয়াইন খেতে খেতে আমার বক্তৃতা শুনছিল। ক্রিসেটি ভেনেসাকে বলছিল- আমার ধারণা সে জানে না।
ভেনেসা উত্তর দিলো, আমারও তাই ধারণা।

ক্রিসেটি বললো, তুমি কি তাকে এটি বলে দেবে?
ভেনেসা বললো, না তুমি বলবে?
ক্রিসেটি উত্তর দিলো, না বলবো না।
যখন আমি আমার দীর্ঘ সময়ের যোগাযোগ উপদেষ্টা ডেভি মেসলোকে প্রবেশ করতে দেখলাম, সে আমাকে মঞ্চ থেকে নেমে চলে আসতে বললো। তার এই বলাটি আশাব্যঞ্জক ছিল না। আমি আমার বক্তব্য শেষ করে ডেভির দিকে যাচ্ছিলাম তখন ক্যামেরাম্যান এবং রিপোর্টাররা আমাকে ঘিরে ধরলো।
আমার সামনে মাইক্রোফোন ধরে রিপোর্টার জানতে চাইলো, যা হয়েছে তা নিয়ে তোমার ভাষ্য কি? আমি বললাম, আমার ধারণা একটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। রিপোর্টারকে বিভ্রান্ত লাগছিল এবং আমি নিজেও বিভ্রান্ত ছিলাম। তিনি যতই আমাকে প্রশ্ন করছিলেন এটা তত স্পষ্ট হয়ে ওঠছিল যে, কেউ কারও ভাষা বুঝতে পারছি না। স্পষ্টতই কিছু একটা হয়েছে যা আমি বুঝতে পারছি না। আমি যখন অবশেষে স্টাফ রুমে পৌঁছলাম আমি সেটি জানতে পারলাম। যখন আমি মঞ্চে বক্তব্য রাখছি তখনই সানফ্রান্সিসকোর ক্রনিক্যাল আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে জয়ী ঘোষণা করেছে। রুমের মধ্যে সবাই কাঁদছিল। আমি একমাত্র মানুষ ছিলাম যে এখনো আশা নিয়ে বসেছিলাম।

আমাদের শহরের স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো এই নির্বাচনকে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের খবর প্রকাশ করছিল তা ছিল হেয়পূর্ণ। আমার পুরো দলের মতোই আমার মনও বিক্ষিপ্ত ছিল। আমরা গ্রিনরুমে জড়ো হয়েছিলাম। মাসের পর মাস কঠিন পরিশ্রম এবং উত্তেজনা হতাশায় পরিণত হলো। আমি কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেয়া এবং দুঃখ ভারাক্রান্ত চেহারাগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। আমি কোনোভাবেই ভাবতে পারছিলাম না এরকম অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। এরইমধ্যে এইস আমাকে বললো আমি ভোট গণনা দেখেছি এবং আমাদের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো থেকে এখনো ফলাফল আসেনি। পত্রিকাটি আগেই ফলাফল জানিয়ে দিয়েছে। আমরা এখনো প্রতিযোগিতায় টিকে আছি। এইস এমন কোনো মানুষ ছিল না যে ফাঁকা বুলি ছুড়বে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার একদম উঁচু তলা থেকে অন্ধগলি পর্যন্ত সবই জানেন। এই রাজ্যে তার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। যেহেতু তিনি বলেছেন আমি তার কথা বিশ্বাস করেছি। আমি আমার সমর্থকদের বললাম আমরা এখনই হাল ছেড়ে দিচ্ছি না।
এদিকে, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। রাত ১১টার মধ্যেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী জয় ঘোষণা করে দিলেন। তবে আমরা অপেক্ষা করছিলাম এবং একে অন্যের উদ্যম ধরে রাখছিলাম। রাত ১টার দিকে আমি আমার ছোটবেলার বন্ধু ডেরেককে প্রশ্ন করলাম, তোমার রেস্টুরেন্ট কি এখনো খোলা আছে। সে বললো, চিন্তা করো না, আমি ওদিকটা দেখছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিলান্সি স্ট্রিটে মানুষের হাতে হাতে ফ্রাইড চিকেন, কর্ণ ব্রেড এবং ইয়ামের ক্যান্ডি পৌঁছে গেল। আমরা সবাই অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রের চারধারে দাঁড়িয়ে সেগুলো খেলাম। একঘণ্টার মধ্যেই ৮৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলো এবং আমরা সমতায় পৌঁছলাম। আমি মায়াকে বললাম, আমি ক্লান্ত। আমি যদি চলে যাই তাহলে কারও কি কোনো সমস্যা আছে? মায়া বললো, কোনো সমস্যা নেই। তারাও এখন এখানে বসে আছে তোমার যাওয়ার অপেক্ষায়।

আমি বাসায় গেলাম এবং এক বা দুই ঘণ্টার ঘুম দিলাম। খবরের সন্ধানে ছুটে চলা হেলিকপ্টারের শব্দে আমার ঘুম ভাঙলো। মার্কেট স্ট্রিটের একটি বিজয় মিছিল কভার করছিল তারা। শহরের বেশির ভাগ মানুষই কমলা এবং কালো রঙের জামা পড়েছিল।

এই খবরই একমাত্র খুশির খবর ছিল না। যতই ভোট গণনা হচ্ছিল আমি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের প্রচারণা পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে গেছে। যেদিন রাস্তা থেকে সংগীত ভেসে আসছিল, আকাশ ফেটে বৃষ্টি আসছিল। তবে এখনো বিশ লাখ ভোট গণনা বাকি। ফলে আমরা বুঝে গিয়েছিলাম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল আসছে না। কাউন্টিগুলোকে মূলত একমাস সময় দেয়া হয় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে।

আমার ফোন বেজে ওঠলো। এটা ছিল আমার বন্ধু আইনজীবী জন কেকের ফোন। তিনি আমাকে জানালেন তিনি আইনজীবীদের একটি দল গঠন করেছেন। তিনি বলেন, যদি পুনর্গণনা হয় তবে আমরা তোমাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছি। পুনর্গণনা হলেও তা রাতারাতি হচ্ছে না। সব থেকে কাছাকাছি হলেও তা ৩০শে নভেম্বরের পরে। এই সময়ে আমার প্রচারণার লোকেরা তাদের ছুটি বাতিল করে নির্বাচনের কাজে লেগে গেল। তারা রাজ্য ঘুরে ঘুরে ভোট গণনা দেখছিল এবং অনিয়মগুলোর রিপোর্ট করছিল। দিন গড়িয়ে সপ্তায় পড়লো। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর ফলাফল আসতে লাগলো। এটি আমাদের ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছিল। এটি ছিল সেরকম দিন যখন একটি মামলায় আমার জয় নিশ্চিত ছিল কিন্তু অপেক্ষা করা ছাড়া আমার কিছুই করার ছিল না। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম আপাতত থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র ছুটিতে কিছুই হচ্ছে না। সুতরাং, আমরা সবাইকে পরিবারের কাছে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম।
বুধবার ভোরে নিউ ইয়র্কে যাত্রার উদ্দেশ্যে এয়ারপোর্টে যাত্রা করি। আমি মায়া, আমার দেবর টনি এবং ভাতিজি মিনাকে নিয়ে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি। আমরা হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলাম ঠিক তখন একটি টেক্সট  মেসেজ পাই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থক একজন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছ থেকে। টেক্সটি ছিল, ‘আমি তোমার সঙ্গে কাজ করতে চাই।’

আমি আমার প্রচারণা টিমের কাছে ফোনে জানতে চাই, ‘কি হতে চলেছে, তোমরা কি কিছু শুনেছো?’
‘আমরা শুনেছি, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন? আমরা এখনো তাই জানি।
আমি কেবলমাত্র এয়ারপোর্টের টার্মিনালে পৌঁছলাম।  

‘ঠিক আছে তোমরা খোঁজ নাও আমি ফোন করছি।’  
আমি নিরাপত্তা চৌহদ্দি পেরিয়ে বিমানে ওঠে কিছু একটা শুনলাম। আমি একধারে বসলাম এবং পাশ থেকে দৈত্যাকৃতির টুপি এবং জার্সি গায়ে একজন হেঁটে এসে আমাকে প্রশ্ন করলো, ‘কমালা, তুমি কি এখনো জয় পাওনি?’ ‘তুমি কি জানো কি হচ্ছে।’ সব শুনে আমি হেসে বললাম, ‘আমি জানি না! আমি জানি না!!’

আমি আমার ফোন বের করে এয়ারপোর্টের ঘটনাগুলো বোঝার চেষ্টা করছিলাম তখন একটি ফোন আসে যা আমি ধরতে পারিনি। একটি ভয়েস মেইল দেখতে পেলাম- তাতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আমাকে কল ব্যাক করতে বলেছেন। আমি তার নাম্বারে ডায়াল করতে করতেই কেবিনের দরোজা বন্ধ হয়ে গেল এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা সকল যাত্রীকে তাদের সেল ফোন সরিয়ে রাখতে বলছিল।
‘আমি তোমাকে এটা জানাতে ফোন করেছি, আমি মেনে নিয়েছি’ সে বললো।
‘তুমি বিশাল জয় পেয়েছো’- সে বললো।

‘আমি আশা করি তুমি বুঝতে পারছো এটা কত বড় দায়িত্ব।’ সে আরো বললো-
‘পরিবার পরিজন নিয়ে থ্যাঙ্কস গিভিং ডে ভালো কাটুক।’ আমি জবাব দিলাম।
এ পর্যন্তই ছিল। রাজ্যে নব্বই লক্ষ ভোট পড়েছিল এবং এর মধ্যে আমি প্রতি তিনটি ভোটের একটি পেয়েছিলাম। আমি স্বস্তি পেলাম, উত্তেজনা অনুভব করতে লাগলাম এবং শুরুর জন্য তৈরি হতে লাগলাম। আমি সকলকে ফোন করতে চাইলাম কিন্তু জানতে পারলাম বিমান এখন রানওয়েতে এবং আমরা থাকবো আকাশে আর এ সময় কোনো ওয়াইফাই থাকবে না। আমার নির্বাচনের একুশটি রাত শেষ হয়েছে। আমি আসনে বসেই সব করেছিলাম। আমার একাকী চিন্তার চার পাঁচ ঘণ্টা।
  কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর