× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, রবিবার

রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নির্যাতন-ভ্রুণহত্যা ৭ মাসেও ধরা পড়েনি আসামিরা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে
৩০ ডিসেম্বর ২০২০, বুধবার

রাজশাহীতে এক বীরমুক্তিযোদ্ধার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন ও ভ্রূণহত্যা মামলার আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়েছেন। মামলার ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ৬ আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর রাজশাহীর বীরমুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলী দেওয়ানের মেয়ে তাজনুভা তাজরীনের সঙ্গে নগরীর শিরোইল এলাকার আবেদ আলীর ছেলে আজাহার আলী আপেলের বিয়ে হয়। কিন্তু আপেল নেশা করে এসে বিভিন্ন সময়ে তাজরীনকে মারপিট করেন। এরইমধ্যে নগদ ৪ চার লাখ টাকা যৌতুক নেয়ার পর আরো ১৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যৌতুক না পেয়ে এ বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি ওই মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে হত্যা করতে উদ্যত হন আপেল ও তার বাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে তাজরীনকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তারাও বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এর দু’দিন পর স্ত্রীকে ডিভোর্স লেটার পাঠান তিনি।
এরইমধ্যে তাজরীনের গর্ভে সন্তান আসে।
সুত্র জানায়, এ বছরের ১৬ই মার্চ দুপুরে তাজরীনকে ওষুধ খাইয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করেন তারা। ১৭ই মার্চ তিনি ভর্তি হন হাসপাতালে। পরে বাচ্চাটি মারা যায়। এরপর ২১শে মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামী আজাহার আলী আপেলসহ ৬ জনকে আসামি করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। সূত্র আরো জানায়, পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার না করে উল্টো ডিএনএ টেস্ট করার কথা বলে কালক্ষেপণ করে। পুলিশি সহায়তা না পেয়ে এবং আসামীরা উল্টো হুমকি ধামকি দিতে থাকায় গত ৩১শে আগস্ট আদালতে ভ্রƒন হত্যা মামলা করেন তাজরীন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই মতিনকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তিনি ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। উল্টো পুলিশের ভাষ্য, আসামীরা দেশের বাইরে পলাতক রয়েছেন। তবে আসামিরা দেশেই রয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে গত সোমবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
বীরমুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম আলী দেওয়ানের মেয়ে তাজনুভা তাজরীন জানান, আপেল তার মা মোতাহারা বেগম জেনির ইন্ধনে আরো কয়েকজনকে বিয়ে করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশও নানারকম নাটক সাজানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দ্রুত চার্জশিট দাখিল করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জানান, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। কাগজপত্র না দেখে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর