× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২১, সোমবার

কোভ্যাক্সিন নিয়ে ভারতে বিতর্ক, উদ্বেগ

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক
৫ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার

ভারত সরকার অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই করোনা টিকার অনুমোদন দিয়েছে। রোববার ভারত বায়োটেকের উৎপাদিত ‘কোভ্যাক্সিন’ টিকার তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগেই জরুরি অনুমোদন দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন এবং বিতর্ক। বিরোধী রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রীরা বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা অনেকটা অপরিপক্ব। এমন অনুমোদন বিপজ্জনক হতে পারে বলে তারা কড়া সমালোচনা করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি এবং আল জাজিরা। কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, কোভ্যাক্সিন নামে এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে উপাত্ত এখনো পুরোপুরি পর্যালোচনা করা হয়নি। টিকা অনুমোদনের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আনন্দ শর্মার মতে এটা একটি বাধ্যতামূলক বিষয়, যা এখনো করা হয়নি। তাছাড়া এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রী শশী থারুরও বলেন, স্থানীয় উৎপাদিত এই টিকাকে আগেভাগেই অনুমোদন দেয়া হলো। যেটা বিপজ্জনক হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধনের কাছের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তবে টিকার এই অনুমোদনকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘গেইম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এবং তার মন্ত্রীরা দেশটির স্বনির্ভরতার সাফল্য হিসেবে এর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই টিকার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য নজরদারি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অল ইন্ডিয়া ড্রাগ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে জানায়, এ সিদ্ধান্তে তারা হতবাক। তারা আরো বলেছে, এই টিকার কার্যকারিতার তথ্য প্রকাশ না করা বেশ উদ্বেগের কারণ। এর পাশাপাশি যথেষ্ট স্বচ্ছতারও অভাব রয়েছে। ফলে উত্তরের চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠে আসছে। বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের উপর চাপ তৈরি করা ঠিক নয় বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
রোববার কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-এর প্রধান ভিজি সোমানি জোর দিয়ে কোভ্যাক্সিনকে নিরাপদ এবং শক্তিশালী বলে বিবৃতি দেয়ার পর এই বিবৃতি দেয়া হলো প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। ডিসিজিআই প্রধান ভিজি সোমানি ওই বিবৃতিতে বলেন, ভারত বায়োটেক ও সিরাম ইনস্টিটিউট উভয় প্রতিষ্ঠানের টিকার তথ্য পর্যালোচনা করে টিকা দু’টির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া টিকাগুলো শতভাগ নিরাপদ বলেও দাবি করেন ভিজি সোমানি।
তবে ডিসিজিআই অবশ্য বলছে, ট্রায়াল সম্পূর্ণ না করে করোনার টিকার অনুমোদন দেয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার সম্ভাব্য কার্যকারিতা বিষয়ক ট্রায়ালের তথ্য-উপাত্তগুলোও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে বিরোধী দলের নেতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা করা হচ্ছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারত বায়োটেক টিকাটি নিরাপদ বলে জানালেও করোনাভাইরাস ঠেকাতে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেনি। একটি সূত্র তাদের জানিয়েছে যে, টিকাটির দু’টি ডোজ দেয়ার পর এর কার্যকারিতা ৬০ শতাংশের বেশি হতে পারে।
ভারত বায়োটেকের উৎপাদিত কোভ্যাক্সিন নামের এই টিকাটির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য তৃতীয় ধাপের বিচারের জন্য ২৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের কথা থাকলেও নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠাটি। অন্যদিকে অক্সফোর্ডের টিকাটি ভারতে উৎপাদন করছে সিরাম ইনস্টিটিউট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি নিরাপদ কিনা তার পরীক্ষা ভারতে ১৬০০ লোকের মধ্যে চালানোর কথা থাকলেও ঠিক কতজনের ওপরে পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে এবং এই পরীক্ষার ফলাফল কেমন সে বিষয়ে কোনো তথ্যই প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠাটি। সেই গোপন তথ্য শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছেই জমা দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট- বিবিসি’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর